মেঘালয় ভ্রমণ রিভিউ

Published : আগস্ট ১৭, ২০১৮ | 332 Views

মেঘালয় ভ্রমণ

 মেঘালয় ভ্রমণ

নাহিদুল আলম নীল

অনেকেই কয়েক দিন ধরে মেঘালয় ট্রিপের রিভিউ আর প্ল্যাণ চাইছেন। তাদের জন্য মোটামুটি মেঘালয় ট্রিপ সম্পর্কে একটা আইডিয়া দেয়ার চেষ্টা করছি। আপনি একদম নতুন হলেও এই প্ল্যাণ ফলো করে আরামসে ঘুরে আসতে পারবেন মেঘালয়। বাজেট সম্পর্কে কিছু বললাম না আপনার রিল্যাক্স আর খাওয়া দাওয়ার উপর বাজেট কমবেশি হতে পারে। আর সময়ের কারণে এখানে তিনদিনে মোটামুটি পুরো মেঘালয়ের মেইন আকর্ষন সম্পর্কে আইডিয়া দিয়ে দিলাম। তো পড়ে ফেলুন আর প্ল্যাণ করে ফেলুন আপনাদের ট্রিপ 😉

দেশের যেকোন জায়গা থেকে সিলেট শহরে পৌছে। সেখান থেকে জাফলং এর লোকাল বাসে বা সিএনজি রিজার্ভ করে চলে যাবেন তামাবিল বর্ডারে। লোকাল বাসে গেলে বাস থেকে নেমে মিনেট খানেক হাটতে হবে আর সিএনজি লেগুনা গাড়ী নিয়ে নিয়ে গেলে বর্ডারের গেটে। কাস্টমস ইমিগ্রেশন ফর্মালিটি শেষ করে শুরু করবেন চিল করা 😉

প্রথম দিনঃ
==========
ডাউকি (তামাবিল বর্ডার) থেকে ডাউকি ব্রীজ (জাফলং থেকে যেটা দেখা যায়) হয়ে উমক্রেম ওয়াটারফল (ঝর্ণায় গোসল করতে চাইলে এটাই শেষ ভরসা), বপহিল/বড়হিল ওয়াটারফল (আমরা যেটাকে পান্থুমাই বলি), মাওলিনং ভিলেজ, লিভিং রুট ব্রিজ (মাওলিনং এর কাছেই) ঘুরে রাতে চলে যাবেন চেরাপুঞ্জি। চেরাপুঞ্জি সন্ধ্যার আগে ঢুকতে পারলে বেটার। হোটেল/হোমস্টে পাইতে সুবিধা হবে। প্রথমেই ড্রাইভারকে বলে দিলে ওরা অনেকসময় কল দিয়ে রুম বুক করে দিতে পারে। সবচেয়ে বেটার বাংলাদেশ থেকে অনলাইনে বুক করতে পারলে বুক করে যাওয়া। চেরাপুঞ্জি বড় জায়গা কিন্তু মানুষ হোটেল বাড়ী কম। রাত বেশি হয়ে গেলে রুম পেতে কষ্ট হয়ে যাবে। যদি রাস্তার জ্যাম, বর্ডারে টাইম ওয়েস্টের কারনে দেরী হয়ে যায় তাহলে মাওলিনং ভিলেজ আর রুটি ব্রীজটা বাদ দিয়ে শুধু ওয়াটারফল গুলা দেখে চেরাপুঞ্জি চলে যাবেন। যদি রুম ড্রাইভার বুক করে দিতে পারে তাহলে টেনশন নাই। সারাদিন আরামসে ঘুরে রাতে গেলেই হলো। নয়তো যদি ডাউকি বাজারে ১ টার মতো বেজে যায় তাহলে আর মাওলিনং এ যাওয়ার দরকার নাই। ট্যাক্সি/কার ওমন করেই ঠিক করবেন। নয়তা দেখা যাবে দেরীর কারনে যেতে পারবেন না কিন্তু ভাড়া ঠিকই দিতে হচ্ছে। চেরাপুঞ্জির দোকানপাট আগেই বন্ধ হয়ে যায়। তাই রাতে খাবার দ্রুত খেয়ে ফেলা ভালো নয়তো পরে খাবারের দোকান খোলা নাও থাকতে পারে।
চেরাপুঞ্জি বৃষ্টিপাতের দিক থেকে ওয়ার্ল্ডের সেকেন্ড। তাই ছাতা নিয়ে যেতে হবে মাস্ট। চেরাপুঞ্জিতে এই বৃষ্টি এই রোদ থাকে। বৃষ্টি হলে প্রচুর বৃষ্টি হয় একটানা। রাতের দিকে ওয়েদার ঠান্ডা থাকে বৃষ্টির কারনে। হালকা শীতের কাপড় নিয়ে যাবেন।
আজকের ড্রাইভার যদি কালকে থাকে তাহলে সমস্যা নাই। নয়তো রাতেই পরদিনের জন্য গাড়ী ঠিক করে রাখতে হবে। বেটার বর্ডার থেকেই একবারে প্ল্যাণ বলে দামাদামি কইরা তিনদিনের জন্য গাড়ী ঠিক করে নেয়া। আমাদের চারদিনের জন্য বড় জীপ ১৩৯০০ রুপিতে ভাড়া করেছিলাম। তিনদিনের জন্য এই ভাড়া ৯-১০ হাজার আর ছোট চারজনের গাড়ী ৬-৭ হাজার টাকা হওয়ার কথা।

দ্বিতীয় দিনঃ
=========
সকাল সাড়ে ছয়টা বা সাতটার দিকে রুম চেকআউট করে শিলং এর দিকে রওনা হবেন। যাওয়ার সময় ইকো পার্ক (পার্কটা বড় আর কয়েকটা ঝর্ণা আছে। দেখতে মনে হবে কিছুই নাই কিন্তু ঘুরে না দেখলে মিস হয়ে যাবে) ঘুরে মাওসামি কেভ দেখে নাস্তা করবেন কেভের সামনে কতগুলা রেস্টুরেন্ট আছে ওখানে। তারপর সেভেন সিস্টার ওয়াটারফল। মজার ব্যাপার হচ্ছে চেরাপুঞ্জিতে যেহেতু প্রচুর বৃষ্টি হয় তাই এই ঝর্ণাটা বেশিরভাগ সময় মেঘে ঢাকা থাকে। চেরাপুঞ্জির ওয়েদার অনেক ইন্টারেস্টিং। এই রোদ, এই মেঘ, এই বৃষ্টি। মেঘ থাকলে ড্রাইভার বলবে চলে আসতে কিন্তু সেখানে ঘন্টা খানেক ওয়েট করবেন। এমন হতেই পারে একটা ঝুম বৃষ্টিতে মেঘ সড়ে গিয়ে ঝর্ণার ভিউ ক্লিয়ার হয়ে গেলে বা বাতাসে মেঘ চলে গেলো। তারপর দেখবেন নহকালিকাই ওয়াটারফল। এটার কাহিনীও সেভেন সিস্টার্সের মতোই। মেঘে ঢাকা থাকে। ওয়েট করবেন। ঝর্নার এরিয়াটা বড় পার্কের মতো। ঘুরে ফিরে টাইমপাস করতে পারবেন। কপাল ভালো থাকলে দেখে ভিউ ফেলতে পারেন। এগুলার ব্যাপার অনেকটা দার্জিলিং থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার মতো। কপাল ভালো না থাকলে দেখা যায় না। যেকোন একটা দেখলেও ট্রিপ সাক্সেস। সেভেন সিস্টার্স থেকে নকালিকাই যাওয়ার পথে রামকৃষ্ণ মিশন পড়বে। সেখানেও ২০-২৫ মিনিট ঘুরে যাবেন। কিন্তু ঝর্ণাগুলাতে ১ ঘন্টার বেশি ওয়েট করবেন না। ভিউ থাক বা না থাক। ঝর্ণা দেখা শেষ হলে এবার ফাইনালি শিলং এর পুলিশ বাজারের দিকে রওনা হবেন। যাওয়ার সময় রাস্তায় সুবিধামতো জায়গায় লাঞ্চ করবেন। লাঞ্চ করে এলিফেন্ট ফলস (শিলং এর মধ্যেই এই ঝর্ণা) ঘুরে বিকেলের মধ্যেই পুলিশবাজার পৌছে যাবেন। তারপর প্রথম কাজ রুম খুজে বের করা। রুম না পাওয়া পর্যন্ত ড্রাইভারকে ছাড়বেন না। এমন হতেই পারে পুলিশ বাজারে রুম না পাওয়ার কারনে বাইরের দিকে গিয়ে থাকতে হতে পারে। যদিও শনি-রবিবার ছাড়া পুলিশ বাজার খালিই থাকে।
রুমে চেক ইন করে ফ্রেশ হয়ে টুকিটাকি শপিং করতে পারেন। পাশেই ড্রিমল্যান্ড (সিনেমা হল) আছে একটা মুভিও দেখতে পারেন। ডিনার করে গাড়ী ঠিক করা না থাকলে পরের দিনের প্ল্যাণমতো গাড়ী ঠিক করে হোটেলের ঠিকানা দিয়ে রুমে।

শেষের দিনঃ
========
সকাল ৭ টার মধ্যে (পারলে ৬ টা) হোটেল চেক আউট করে বের হয়ে যাবেন। মেঘালয়ের অন্যতম আকর্ষণ ক্রাংসুড়ি ওয়াটারফল (ক্রাংসুড়িতে সময় বুঝে টাইম স্পেন্ড করুন। বড় এরিয়া এমনিতেই দেড় দুই ঘন্টা লাগবে) ঘুরে সেভেন স্টেপ ওয়াটাফল ঘুরে চলে আসবেন সোনেংপেডাং ভিলেজে (দুইটা ঝুলন্ত ব্রীজ আছে এখানে সবাই নরমালি প্রথমটায় যায়। প্রথমটা থেকে দ্বিতীয়টা কয়েকমিনিটের রাস্তা) ঘন্টাখানেক (টাইম বুঝে) ঘুরে বর্ডারে চলে আসুন বর্ডারে। ক্রাংসুড়ি যাওয়ার সময় Thlumuwi Waterfall (উচ্চারন করতে পারি না) নামে রাস্তা আরো একটা ঝর্ণা পড়বে। যদি মেঘ না থাকে তাহলে রাস্তা থেকেই দেখা যায়। নয়তো ঠিক লোকেট করা যায় না। ড্রাইভারও নামাইতে চায় না। দেখা গেলে নেমে ঘুরে আসবেন।

* হাতে টাইম থাকলে একদিন বেশি থেকে শিলং এর লোকাল স্পটগুলা ঘুরে দেখতে পারেন। শিলং এর মধ্যে গির্জা, মিউজিয়াম, ওয়ার্ডস লেক, গলফ কোর্স, উমিয়াম লেক (কাপ্তাই লেকের মতো), চিলড্রেন্স পার্ক ঘুরে দেখতে পারেন। চারদিনের ট্রিপ হলে এদিন (৩য় দিন) সকালে এলিফেন্ট ফলস দেখতে পারেন নয়তো পুরো দিনটাই পানসে লাগতে পারে। আরো একদিন বেশি থাকলে ডাবল ডেকার রুট ব্রীজ আর রেইনবো ফলস দেখে আসুন (ডাবল ডেকার আর রেইনবো ফলস মিলিয়ে প্রায় ১০-১২ ঘন্টা ট্রেকিং করতে হবে)।

* বর্ডার খোলা থাকে ইন্ডিয়ান টাইম ৫ টার আর বাংলদেশী টাইম সাড়ে ৫টা পর্যন্ত।

* বর্ডারে মানি এক্সচেঞ্জের দোকান নাই। ডাউকি বাজারে পানের দোকান, মুদি দোকান থেকে টাকা ভাঙ্গাতে হবে। শিলং এর টাকার রেট অনেক কম তাই যা থাকবে সবগুলা বর্ডার থেকে ভাঙিগয়ে নিয়ে যাওয়া ভালো।

* চেরাপুঞ্জির ওয়েদার আর খাসিয়াদের কথা কোনটারই ঠিক নাই। তাই ছাতা ছাড়া চেরাপুঞ্জিতে যাওয়া একদম উচিত হবে না।

* এই বর্ডারে ঘুষ তেমন লাগে না। তাই কেউ চাইলে একটু না দিতে চাইলেই কয়েকশ টাকা বেচে যাবে।

* বর্ডার থেকে ডাউকি বাজারে গাড়ী বেশি এভেইলেবল আর ভাড়াও একটু কম।

* ড্রাইভারের সাথে সবকিছু খোলামেলা বলে নিন। নয়তো পরে ঝামেলা করবে। আর ড্রাইভারের সাথে ভালো ব্যবহার করুন। বিরক্ত করবেন না। নয়তো সে আপনার ট্রিপের ডিজিটাল সময় তেরটা বাজায় ছেড়ে দিবে।

ছবি: Sadial Farduse

 

 

Published : আগস্ট ১৭, ২০১৮ | 332 Views

  • img1

  • আগষ্ট ২০১৮
    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
    « জুলাই   সেপ্টেম্বর »
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০৩১  
  • Helpline

    +880 1709962798