সবকিছু ঢাকায় হতে হবে?

Published : মে ২৭, ২০১৮ | 731 Views

রাজধানীর খিলখেত

ঢাকায় থাকি: ১৭ কোটি মানুষের একটি শহর
সব কিছুই যখন ঢাকা শহরে তখন ট্রাফিক জ্যাম কমবে না বরং বাড়তেই থাকবে।
আরো ১০ বছর আগে বলেছিলাম। নতুন রাস্তা, ওভারপাস আরো বিভিন্ন পদক্ষেপে যদি ১০ ভাগ জ্যাম কমে তবে জনসংখ্যাম গাড়ি ও ঢাকায় আসার মানুষের সংখ্যা প্রতিবছর ১৫ ভাগ করে বাড়তে থাকে।
বিভিন্ন দেশে এক এক কাজের জন্য একএকটি সিটিকে প্রাধান্য দেয়া হয়। আর আমাদের সবকিছুই এক সিটিতে। শিক্ষা, চিকিৎসা,কর্মসংস্থান সব এক সিটিতে।
১. চাকুরীর যত ইন্টারভিউ সব বলতে গেলে ঢাকাতে হয়।
২. বেশীরভাগ প্রায় ৯০ ভাগ আন্তজাতিক বিমান ঢাকা হয়ে আসে যায় তাতে হাজার হাজার লোক বিশেষকরে গ্রাম মুখী শ্রমিকদের আসা যাওয়া।
৩. পিজির মতো আরেকটি হাসপাতাল নেই। আবার বড়োসব প্রাইভেট হাসপাতাল ঢাকায়। রোগী এবং তাদের আত্মীয়দের ঢাকায় আসতে হয়।
৪. প্রায় সব দেশের ভিসা অফিস, দূতাবাস ঢাকায়। এছাড়া বিদেশগমন সংক্রান্ত মেডিক্যাল, পরারাস্ট্র আরো সব কাজে একাধিক বার ঢাকায় আসতে হয়।
৫. সব মন্ত্রণালয়ের ছোটখাটো কাজও ঢাকায় এসে করতে হয়। কারণ বিভাগীয় পর্যায়ে মন্ত্রণালয়ের কোনো অফিস নেই। কার্যক্রম নেই। সব ক্ষমতা ঢাকায় কেন্দ্রীভ্ত।
৬. দেশের ৬০ভাগ বিশ্ববিদ্যালয় একটি শহরে। সেটির নাম ঢাকা শহর।
৭. শহরের কেন্দ্রেই রয়েছে শিল্প এলাকা। শহরের চারপাশ ঘিরেতো আছেই। এসবকাজে অসংখ্য ট্রাক লরি কাভাড্ডভ্যান জনবহুল রাস্তায় চলাচল করে।
৮. হাইওয়ের গুলো চওড়া করলেও শহরের প্রবেশমুখ এখনো সংকীর্ণ। তারউপর প্রথমে বাড়ী নির্মাণ করার সময় ৩ ফিট দখল, আরো ২ ফিট দখল সিড়িতে, আরো ৪ ফিট দখল সামনে হকার বসে তার সামেন আরো ৫ ফিট দখল গাড়ি পার্কিং। ফলে রাস্তার একটা অংশ দখল হয়ে থাকে।
৯. ঢাকা শহরের উপর দিয়ে এক জেলা থেকে আরেক জেলার বাস যায়। যেগুলো শহরে না আসলেও পারতো। শহরের বাইরের বাইপাস প্রয়োজন ছিলো। বিশেষ করে যে গাড়িটি উত্তরবঙ্গ থেকে চট্টগ্রাম যাবে তার জন্য।
১০. শহরের পরিধি বৃদ্ধি হওয়ার কারণে বাস ট্যার্মিনালগুলো নগরীর ভেতরে পড়ে গেছে। এগুলো যখন মহাখালী, সায়দাবাদ, গুলিস্থান বা গাবতলী আসে তার আগে অর্ধেক সিট খালি হয়ে যায়। এগুলো যদি আব্দুল্লাপুর, কাচপুর, আর ভেড়ীবাঁধে শেষ হতো তাহলে ঢাকার ভেতরে যান কমতো।
১১. রাস্তার জলাবদ্ধতা, সমন্বয়হীন উন্নয়নকাজ, রাস্তার মাঝখানে দাড়িয়ে যাত্রী তোলা, একটি বাস প্রতিযোগিতার জন্য অন্য বাসকে আটকে রাখা, অশিক্ষিত ও আইন না জানা চালক, ফিটনেসবিহীন গাড়ি, লেন পরিবর্তন ইত্যাদি নানা কারণতো আছেই।
১২. বেশ কয়েকটা জায়গায় ভুল উন্নয়ন যেমন, সায়দাবাদ ফ্লাইওভারের ্নিরচে প্রচুর জায়গা ব্যবহার, মহাখালী ফ্লাইওভারের আওতায় মহাখালী বাস টার্মিনাল না রাখা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে সিগনাল এভয়েড করতে না পারা, কাওরান বাজার, বাংলামোটর, শাহবাগ এর মতো মোড়গুলোতে সিগনাল কমাতে না পারা।
১৩. শহরের কেন্দ্রস্থলে কমলাপুর রেলস্টেশন এজন্য প্রতি ১৫ থেকে ৩০ মিনিট পর পর ৭ থেকে ১২ মিনিট করে প্রায় শহরের মধ্যে প্রায় ৫টি স্থানে রেলক্রসিং সিগন্যাল পড়ে। একবার এক গবেষণায় দেখানো হয়েছে। রেলক্রসিং সিগনালে যে পরিমাণ গাড়ি আটকে থাকে তাদের বাড়তি তেলের টাকা দিয়ে প্রতি ২ বছরে একটা যমুনা সেতু দেয়া যায়।
১৪. কিছু রাস্তা করা যায় বিশেষ করে যেসব এলাকায় সরকারী প্রতিষ্ঠানের কারণে রাস্তার বিশাল গ্যাপ। যেমন পুিরনো বিমানবন্দর ও ক্যান্টনমেন্টের মাঝদিয়ে একটি রাস্তা, নতুন বিমানবন্দরের দেয়ালঘেষে একটি রাস্তা, বসুন্ধরা আবাসিক এর পেছন বা মাঝদিয়ে একটি রাস্তা, গুলশান লেকের তীরঘেষে একটি রাস্তা যেটি ডিওএইচএসের ভিতর দিয়েই হবে। এভাবে আরো কিছু রাস্তা থাকবে যেগুলো কম মোড় বা সিগনালের জন্ম দিবে।
১৫. একটি পরিবারের কতটি গাড়ি থাকবে তার নিয়ম থাকবে। অন্তত বেশী গাড়ীর জন্য বাড়তি ট্যাক্সতো থাকেত পারে।
১৬. পাবলিক সার্ভিস উন্নত হলে প্রাইভেট গাড়ির সংখ্যা কমে যাবে। রাস্তার গাড়ির পার্কিং এর জন্য জরিমানার পরিমাণ বাড়াতে হবে। বৈধ পার্কিং ফি বাড়াতে হবে। গাড়ীর ব্যবস্থাপনা ব্যয় বাড়লে আরো কম মানুষ গাড়ির মালিক হবে। অনেক দেশেই এমনটা হয়েছে।
১৭. তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা, শাষনের বাস্তবায়ন ইত্যাদি অনেক কিছুর দ্বারা আমরা নগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থা থেকে অনেকটা রেহাই পেতে পারি।
৩০ লাখ জনসংখ্যার দেশে ৫/৭টি প্রদেশ থাকে। আমাদের ১৭ কোটি মানুষের দেশ। প্রদেশ না থাকুক। বিভাগীয় পর্যায়ে সুবিধাগুলো বিকেন্দ্রীকরণ করা প্রয়োজন ছিলো। চাইলে ক্ষমত কেন্দ্রে রেখেই সেটি করা যায়।

লেখা ও ছবি: জাহাঙ্গীর আলম শোভন

Published : মে ২৭, ২০১৮ | 731 Views

  • img1

  • মে ২০১৮
    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
    « মার্চ   জুন »
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০৩১  
  • Helpline

    +880 1709962798