রেসিডেন্ট হিসেবে কোন দেশে যেতে চান?

Published : ডিসেম্বর ২৩, ২০১৭ | 615 Views

রেসিডেন্ট সিস্টেম

 

– অর্থনৈতিক সংকট ও ব্রেক্সিটের (ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বের হয়ে যাওয়া) কারণে ইউরোপের দেশগুলো এ ধরনের সুবিধা প্রদান করে যাচ্ছে।

 

পর্তুগাল

 

– অর্থনৈতিক সংকটে পড়া দেশ পর্তুগাল ২০১২ সালে ‘গোল্ডেন ভিসা’ প্রোগ্রাম চালু করে। এ প্রোগ্রামের আওতায় কমপক্ষে ৫০ হাজার ইউরোর সম্পত্তি কিনলে পর্তুগালে বসবাস করার স্থায়ী অনুমতি দেওয়া হয়। পর্তুগালে কোনো বাড়ি কিনলে অভিবাসনের অনুমতি পাওয়া যায়।

 

স্পেন-

– স্পেনও এ ধরনের পরিকল্পনা করছে। এক্ষেত্রে কমপক্ষে ১ লাখ ৬০ হাজার ইউরো বিনিয়োগ করতে হবে।  ৫ লাখ ইউরোর একটি বাড়ি কিনে স্পেনে বসবাসের অনুমতি পাওয়া যায়। অথবা স্পেনের সরকারি ঋণে ২ মিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগ করতে হবে।

 

গ্রীস ও সাইপ্রাস-

– অর্থনৈতিক মন্দার কবলে পড়া গ্রিস ও সাইপ্রাসে কমপক্ষে ২ লাখ ৫০ হাজার ইউরো মূল্যের সম্পদ কিনলে আবাসিক পারমিট মিলে।

 

নেদারল্যান্ডস-

– ধনী দেশ নেদারল্যান্ডসেও ১.২৫ মিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগের বিনিময়ে পাওয়া যাবে থাকার অনুমতি।

 

মাল্টা

–  সম্প্রতি ছোট্ট দ্বীপ-রাষ্ট্র মাল্টার প্রধানমন্ত্রী জোসেফ মাস্কাট বলেছেন, তার দেশ নাগরিকত্ব বিক্রির মাধ্যমে ৩০ মিলিয়ন ডলার আয় করতে সক্ষম হবে।

সাইপ্রাস-

– পাঁচ বছর ধরে ১৫ মিলিয়ন ইউরো খাটালে সাইপ্রাসের নাগরিকত্ব পাওয়া যায়। ভবিষ্যতে তিন মিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগ করলেই সাইপ্রাসের পাসপোর্ট দেওয়া হবে।

 

আয়ারল্যান্ড-

আয়ারল্যান্ডে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্পক্ষেত্রে কোনো প্রকল্পে পাঁচ লাখ ইউরো বিনিয়োগ করলে দেশটিতে থাকার অনুমতি পাওয়া যায়। তবে দেশটি নাগরিকত্ব দেয় না।

 

অস্ট্রেলিয়া:

– অস্ট্রেলিয়ায় বিজনেস মাইগ্রেশনের জন্য ন্যূনতম ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা প্রয়োজন হয়। আর ইনভেস্টমেন্ট মাইগ্রেশনের জন্য প্রয়োজন পড়ে ১৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

 

নিউজিল্যান্ড-

– নিউজিল্যান্ডে প্রয়োজন হয় ৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা। এতে দেশটিতে নাগরিকত্ব নিতে আগ্রহীদের সংখ্যাও দিন দিনই বাড়ছে।

 

কানাডা

–  পেশাগত অভিবাসনের সুযোগ থাকায় কানাডায় নাগরিকত্ব  আর  ৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা পাঁচ বছরের জন্য বিনিয়োগ করলে দেশটিতে নাগরিকত্ব দেয়া হয়। ইনভেস্টর প্রোগ্রামের আওতায় কুইবেক প্রদেশে যেতে পারবেন উদ্যোক্তারা। এ জন্য আবেদনকারীর ১.৬ মিলিয়ন কানাডিয়ান ডলারের সমান সম্পদ থাকতে হবে। পাঁচ বছরের জন্য বিনিয়োগ করতে হবে চার লাখ কানাডিয়ান ডলার। এ প্রোগ্রামে আবেদন চলবে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। কুইবেক এন্টারপ্রেনার প্রোগ্রাম ক্যাটাগরিতে আবেদনের জন্য কমপক্ষে তিন লাখ কানাডিয়ান ডলার ও ব্যবস্থাপক হিসেবে এক বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। কুইবেক সেলফ অ্যামপ্লয়েড পারসন প্রোগ্রামে আবেদন করতে কমপক্ষে এক লাখ কানাডিয়ান ডলারের সমপরিমাণ সম্পদ থাকতে হবে।

এসব ক্যাটাগরিতে বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও আইএলটিএস স্কোরের বাধ্যবাধকতা নেই।

 

 

বিশ্বের বেশির ভাগ দেশই তাদের দেশে দ্রুত বসবাসের অনুমতি লাভের জন্য স্থানীয় ব্যবসা এবং সম্পদে বিনিয়োগের বিনিময়ে নাগরিকত্ব দিয়ে থাকে।

এখানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সে দেশগুলোর তালিকা দেওয়া হলো যেগুলো সস্তায় ও সহজে বসবাসের অনুমতি দেয়।

 

১. লাটভিয়া :

লাটভিয়াতে সাময়িকভাবে বসবাসের অনুমতি পেতে একজনকে ২ লাভ ৫০ হাজার ইউরোর রিয়েল এস্টেট কিনতে হবে। আর সরকারকে ৫% ফি দিত হবে।

 

২. অস্ট্রিয়া :

এ দেশে ১০টি ভিন্ন ধরনের বসবাসের অনুমতি পাওয়া যায়। এতে কোনে বিনিয়োগও দরকার হয় না। আর এই দেশে বসবাসের অনুমতিপত্র শেনজেনভুক্ত দেশগুলোতে ভিসামুক্ত ভ্রমণের জন্যও ব্যবহৃত হয়।

 

৩. বেলজিয়াম :

মাত্র দু্ই মাসের মধ্যে এই দেশে বসবাসের অনুমতি মেলে। শুধু একটি চাকরি পেলেই বেলজিয়ামে বসবাসের অনুমতি মেলে।

 

৪. পর্তুগাল :

এদেশে বসবাসের অনুমতি পেতে কাউকে একটি ব্যবসার মাধ্যমে ১০ জন লোকের কর্মসংস্থান করতে হবে। অথবা কোনো পর্তুগিজ ব্যাংকে ১০ মিলিয়ন ইউরো জমা রাখতে হবে কিংবা ৫ লাখ ইউরোর একটি বাড়ি কিনতে হবে।

৫. মাল্টা : মাল্টার স্থায়ী বাসিন্দাদেরকে মাত্র ১৫ শতাংশ কর দিতে হয়। আর মাত্র ২ লাখ ৭৫ হাজার ইউরোর সম্পদ কিনে বসবাসের অনুমতি পাওয়া যায়।

৭. যুক্তরাজ্য : যুক্তরাজ্য হয়তো সস্তা নয়। কিন্তু ধনী পরিবারগুলোর জন্য এটি একটি আকর্ষণীয় গন্তব্যস্থল। যারা উন্নত প্রাইভেট শিক্ষাব্যবস্থা চান তাদের জন্য। এর আবাসন কর্মসূচি কয়েক স্তরে বিভক্ত। তিনটি স্তরে ২ মিলিয়ন, ৫ মিলিয়ন এবং ১০ মিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগ করে এতে বসবাসের অনুমতি পাওয়া যায়।

৮. মোনাকো : মোনাকোর বাসিন্দাদেরকে কোনো আয়কর, মূলধনী ট্যাক্স বা সম্পদের কর দিতে হয় না। আর তারা সেনজেনভুক্ত যেকোনো দেশে বিনা বাধায় ভ্রমণ করতে পারেন।

৯. সাইপ্রাস : ভূমধ্যসাগরীয় এই দ্বীপটি আবাসিক ব্যবসায়ের জন্য মাত্র ১২.৫% করপোরেট ট্যাক্স ধার্য করে। তবে বসবাসের অনুমতি প্রার্থনার জন্য আপনাকে আগে ৩ লাখ ইউরোর সম্পদ কিনতে হবে।

১০. গ্রিস : তথাকথিত ‘ডি’ ভিসার অনুমোদনের পর বিনিয়োগকারীরা গ্রিসের বসবাসের জন্য অনুমতি প্রার্থনা করতে পারেন। এর আগে মোট ২ লাখ ৫০ হাজার ইউরোর সম্পদ কিনতে হবে।

১১. বুলগেরিয়া : বুলগেরিয়ার সরকারের বন্ড পোর্টফোলিওতে ৫ লাখ ইউরো পাঁচ বছরের জন্য জমা রাখলে দেশটিতে বসবাসের অনুমতি পাওয়া যায়।

==========

এছাড়াঃ

পানামা : এ দেশে পাঁচ বছর থাকার পর, পেয়ে যেতে পারেন নাগরিকত্ব।  যা আবার পাঁচ বছর পর পুনর্নবীকরণ করতে হয়।

বেলিজ : মধ্য আমেরিকার পূর্ব উপকূল সংলগ্ন এ দেশের পাকাপাকিভাবে নাগরিক হয়ে উঠতে পারেন আপনিও। এ দেশের নাগরিক হয়ে ওঠার জন্য যে কোনো ব্যক্তিকে ওই দেশে টানা পাঁচ বছরের জন্য থাকতে হবে। এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ডে ২ হাজার ডলার থাকতে হবে। শুধুমাত্র শর্ত একটাই বেজিলের সঙ্গে সংঘাত রয়েছে এমন কোনো দেশে জন্ম নেওয়া বাবা-মায়ের সন্তানরা নাগরিকত্ব পাবেন না।

ইকুয়েডর : ইকুয়েডরের নাগরিক হওয়ার জন্য ব্যাংকে ১ হাজার ডলার থাকা আবশ্যিক। এরই সঙ্গে সেই ব্যক্তির অতীতে কোনো অপরাধমূলক কাজে জড়িত না থাকার প্রমাণপত্র দিতে হবে।

সেশলস : এ দেশে পাকাপাকিভাবে থাকার জন্য একটু বেশি অর্থ খরচ করতে হয়। শুধুমাত্র প্রশাসনকে সাড়ে বারো হাজার  মার্কিন ডলার জমা দিতে হবে। এরই সঙ্গে সে দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার প্রতিশ্রুতিও দিতে হবে।

প্যারাগুয়ে : প্যারাগুয়ের কোনো ব্যাংকে ৫ হাজার ২০০ ডলার জমা দিতে হবে। এর তিন বছর পর অপেক্ষা করতে হবে। এরপর নাগরিকত্ব চেয়ে আবেদন জমা দিতে হবে। সব কিছু যাচাই করার পর প্রশাসন নাগরিকত্ব দেবে। আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল ও বলিভিয়ার ঠিক মাঝখানে অবস্থিত এই দেশে এক টাকার দাম কত জানেন? বাংলাদেশ  মুদ্রায় এক টাকা প্যারাগুয়ের মুদ্রায় 55.23 গুয়ারানির সমান৷ আরও মজার ঘটনা হল, একটি সমীক্ষা থেকে জানা গিয়েছে, প্যারাগুয়ে হল বিশ্বের সবচেয়ে সস্তার দেশ৷ অর্থাৎ হোটেল ভাড়া থেকে খাওয়া-দাওয়া সবই অল্প খরচে হয়ে যাবে৷ কম খরচেই ঘুরে নিতে পারবেন একটা নতুন দেশ৷

ম্যাসিডোনিয়া : যদি আপনি ব্যবসায়ে আগ্রহী হন তাহলে আপনি এক বছরের কম সময়েও পেয়ে যেতে পারেন নাগরিকত্ব। তবে হ্যাঁ দিতে হবে ৪ লাখ ইউরো।

হাঙ্গেরি : হাঙ্গেরি অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। মাত্র দু’ মাসের মধ্যেই কোনো ব্যবসায়ী এ দেশের নাগরিকত্ব পেয়ে যেতে পারেন। সরকারের তহবিলে জমা দিতে হবে ৩ লাখ ইউরো। দানিয়ুব নদীর তীরে অবস্থিত হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্ট৷ এর সৌন্দর্য বহু যুগ ধরে পর্যটকদের আকর্ষণ করে চলেছে৷ হাঙ্গেরিতে বাংলাদেশ  মুদ্রায় ১ টাকা 3,75 ফোরিন্টের সমান৷ এখানে মাত্র ৭০০ টাকাতেই আয়েশ করে থাকার মতো ভাল হোটেল জুটে যাবে৷

 

Published : ডিসেম্বর ২৩, ২০১৭ | 615 Views

  • img1

  • ডিসেম্বর ২০১৭
    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
    « নভেম্বর   জানুয়ারি »
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
  • Helpline

    +880 1709962798