২৭ সেপ্টেম্বর, পর্যটন দিবসের ভাবনা।

Published : সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৭ | 1006 Views

২৭ সেপ্টেম্বর, পর্যটন দিবসের ভাবনা: টেকসই পর্যটন – উন্নয়নের হাতিয়ার

শেখ মেহেদী হাসান
১৯৭২ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন এর সৃষ্টি করেন। এই সংস্থার এর হাত ধরেই পর্যটন শিল্পের যাত্রা শুরু হয়েছে। বয়সের হিসেবে শিল্পটি পরিণত হলেও ভৌত-অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ধারনাগত ও ব্যবহারিক দিক থেকে বাংলাদেশে এ শিল্প এখনো শৈশব অতিক্রম করেনি! পর্যটন করপোরেশনের ৪৫ বছরের প্রচেষ্টায় এবং সাম্প্রতিক তরুণদের ফেসবুক ভিত্তিক পর্যটন গ্রুপ/পেজ ভিত্তিক যোগাযোগ অর্থাৎ E-Tourism এর মাধ্যমে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটন কাংখিত অগ্রগতি না পেলেও একটি উল্লেখযোগ্য অবস্থায় এসেছ। কিন্তু বিদেশী পর্যটকের আগমন হতাশাজনক। বিমান বন্দরে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের বিদেশী আগমনের হিসাবকে বাংলাদেশে বিদেশী পর্যটক আগমনের হিসাব মনে করা হয়। বস্তুত এ হিসেব সঠিক নয়। কারণ বিদেশীদের একটা বড় অংশ আসে কাজে, ব্যবসায় বা কোন সাহায্য সংস্থার হয়ে। আমি নিজে এদেশে ব্যাকপ্যাক ট্যুরিস্টের দেখা পেয়েছি হাতে গোনা!

বস্তুত পক্ষে Tour Operator রা তাদের ব্যবসায়িক প্রয়োজনে কিছু বিদেশী পর্যটক নিয়ে আসেন। এর পরিমাণ সামান্য। এছাড়া ভারত বেড়াতে এসে দু’চারজন চুঁইয়ে পড়া এবং বাংলাদেশীদের সঙ্গে আত্মীয়তা, বন্ধুত্ব বা ব্যবসায়িক সহযোগী হওয়ার সুবাদে যে দু’চারজন বিদেশী পর্যটক এদেশে বেড়াতে আসেন তাঁদের পরিমাণ গোনাতে আসার মতো ই নয়। ১৯৭১ সালের পর যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশকে দেখার জন্য প্রচুর আমেরিকান ও ইউরোপিয়ান পর্যটক বাংলাদেশে এসেছিলেন। তবে এরা সবাই পর্যটক ছিলেন না। অনেকেই বিদেশী সাহায্য সংস্থার হয়ে এসেছিলেন।

পর্যটন শিল্পের একজন কর্মী হিসেবে সাম্প্রতিক রোহিঙ্গা ঢলের শুরুতে এই মানবিক সংকটে আক্রান্তদের প্রতি সহানুভূতির পাশাপাশি আমার মনে এ প্রশ্ন এসেছে এতে পর্যটন শিল্পে কি প্রভাব পড়বে। সম্প্রতি মায়ানমারের সামরিক জান্তা সরকারের নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রায় ৫ লক্ষ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে শরণার্থী হিসেবে অনুপ্রবেশ করেছে। তবে মায়ানমারের শাসকদের অত্যাচারে আরো ৫ লক্ষ রোহিঙ্গা বিগত ২০/২৫ ধরে কক্সবাজার-টেকনাফ-উখিয়ার বিভিন্ন সময়ে আশ্রয় নিয়েছিলো। আরো অগণিত রোহিঙ্গা বাংলাদেশের সমাজে মিশে গেছে বলে ধারনা করা হয়।

এমনকি দালালদের সহায়তায় বাংলাদেশী পাসপোর্ট বানিয়ে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা বিদেশ পাড়ি জমিয়েছে বলেও খবর বেরিয়েছে বিভিন্ন সময়ে। ’৭১ এর পর আবারো সেরকম একটি বিদেশী পর্যটক (মূলত সাদা চামড়া) প্রবাহ দৃশ্যমান হচ্ছে। দেশী-বিদেশী মানুষের ব্যাপক হারে কক্সবাজার যাওয়ার ফলে এই মূহুর্তে কক্সবাজারের হোটেল ও পর্যটন শিল্প স্মরণকালে সর্বাধিক জমজমাট ব্যবসা করছে। হোটেল-পর্যটন ব্যবসায় সংল্শিষ্টরা নিশ্চয়ই খুশী এসময়ে। কিন্তু এসব সাদা চামড়ার বিদেশীদের মধ্যে পর্যটক অভিধা পাওয়ার মতো কেউ আদৌ আছে কিনা সন্দেহ! এরা কেউ কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সুউচ্চ ঢেউ এর কথা মাথায় নিয়ে আসছে না। আসছে আর্ত মানবতার সেবায়। পর্যটন শিল্প সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের জন্য এসকল বিদেশী অতিথিদের মন জয় করার এটি একটি সুবর্ণ সুযোগ। কিন্তু পর্যটকদের মন জয় করার কি অনুষঙ্গ আছে কক্সবাজারে? সমুদ্রের ঢেউ? ঢেউএর গর্জন? দিনের বেলায় না হয় ঢেউ গুনল। কিন্তু রাতে কি করবে?

সারা পৃথিবীতে পর্যটকদের জন্য আকর্ষনীয় Night Life এর ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু কক্সবাজারে এধরনের কিছুই নাই। এসব বিদেশীরা পর্যটন করতে আসছেন না, তবু কক্সবাজারের হোটেল ও পর্যটন শিল্প লাভবান হচ্ছে। কিন্তু এই শিল্প একটি শরণার্থী সমস্যার ওপর টিকে থাকতে পারেনা! এসকল বিদেশেী ফিরে গিয়ে আবার কক্সবাজার দেখতে আসবেন কিনা সে প্রশ্ন রয়েই যাচ্ছে। জানা যাচ্ছে কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত নাকি মনুষ্য বর্জের দুর্গন্ধ প্রবল ভাবে নাকে আসছে! খুবই স্বাভাবিক।কারণ রোহিঙ্গারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করার সুযোগ নেই। আবার বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কিছু তরুণকে রোহিঙ্গাদের সাক্ষাৎ করতে দেখা যাচ্ছে বলে জানালেন সাংবাদিক মুন্নী সাহা। যারা মূলত সাহায্য করতে নয়, ইয়াবা কিনতে যাচ্ছে। এটাকে কি ইয়াবা পর্যটন নাম দেয়া যাবে? একটা সংকট কে ঘিরে বিদেশীরা আসছে। আমরা, পর্যটন স্বার্থসংশিল্টরা যদি স্রেফ মানবিক সংকটের ফায়দা নিয়েই খুশী থাকি তবে আমাদেরকে দূরদর্শী বলা যাবেনা। এসব বিদেশীকে কিভাবে স্থায়ীভাবে পর্যটকে পরিণত করতে পারি সেটা আমাদের মূল ভাবনা হওয়া উচিৎ। কিন্তু জাতি হিসেবে আমরা যে তাৎক্ষনিক লাভেই বিশ্বাস করি সেটা তো নতুন নয়!

টেকনাফে সাবরাং গ্রামে ১১৬৪ একর খাস জমিতে Special Tourist Zone করার জন্য সরকার পর্যটন করপোরেশন কে বরাদ্দ দেয়। এই জমি পরে পর্যটন Bangladesh Economic Zone Authority (BEZA) কে হস্তান্তর করে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোন অগ্রগতির খবর পাইনি। বরং রোহিঙ্গাদের কল্যাণে পুরো সাবরাং গ্রাম ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে!

রোহিঙ্গারা আমাদের দেশের জন্য সম্পদ হতে পারতো। তারা আমাদের সমাজে মিশে কাজ করতে পারতো। কিন্তু সেটা আশা করা কঠিন। বরং তাদের দীর্ঘ সময় অবস্থান এবং সমাজে একীভূত হওয়ার মধ্যে বিপদের আভাস ই পাওয়া যায়:
১. রোহিঙ্গারা বলতে গেলে অশিক্ষিত। তাদের অশিক্ষিত করে রাখা হয়েছে। অবশ্য মায়ানমারের জান্তা সরকার এমনিতেও তাদের নাগরিকদের উচ্চ শিক্ষা নিতে দেয়না।
২. শিক্ষা না পাওয়াতে তারা মূলত ধর্মীয় আবহ থেকে বের হতে পারেনি। ফলে মনস্তাত্ত্বিক ভাবে তারা শত থেকে হাজার বছর পেছনে থাকে। পশ্চাতপদতা থেকে অপরাধপ্রবণতা জন্ম হয়। ফলে দেখা যাচ্ছে তারা বিগত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে ইয়াবা পাচার ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছে। শোনা যায় বাংলাদেশে বর্তমানে ২০ হাজার কোটি টাকার সংঘবদ্ধ ইয়াবা ব্যবসা চলছে। এতে নেতৃত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশের ই এক ইয়াবা সম্রাট। মজার বিষয় হচ্ছে কেউ নিয়ম মেনে বারের লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করতে চাইলে তখন কিন্তু সংশ্লিষ্ট দফতর হতে ১৪ ফেরকা দেখানো হয়!

একটি স্যাটেটাইট টিভি চ্যানেলে Bangladesh Tourism Board এর CEO মহোদয় ডঃ নাসির উদ্দিন বলছিলেন আমরা পর্যটন খাতে Public Private Partnership এর পাশাপাশি Public Public Partnership এর মাধ্যমে ও কাজ করছি। কিন্ত Public Public Partnership বিষয়টিকে আমার বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রায় অসম্ভব মনে হয়। অধিকাংশ দেশের ক্ষেত্রেই সাধারণত পর্যটন নিয়ে একক মন্ত্রণালয় হয়। কখনো কখনো সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের সাথে যৌথভাবেও মন্ত্রণালয় হয়। কিন্তু বাংলাদেশে পর্যটনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিমানের সাথে একসাথে একি মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করে। পর্যটন শিল্পের কাংখিত মনযোগ না পাওয়ার এটা একটি বড় কারণ। একই মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করলেও বাংলাদেশ বিমানকে সহযোগী তো দূরের কথা, প্রায় পর্যটন বৈরী একটি সংস্থা মনে হয়। একযোগে কাজ করার জন্য পর্যটন করপোরেশন এর পক্ষ হতে বিমানের কর্মকর্তাদের বারংবার অনুরোধ জানালেও তারা কখনো পাত্তা দেননি। কারণ বিমান সাধারণত শত শত কোটি টাকা লস দেয়। বাংলাদেশে যে সংস্থা যত লস দেয় তারা তত প্রেস্টিজিয়াস হয়!

পর্যটন করপোরেশন সম্পূর্ণ ভাবে স্বনির্ভর সংস্থা যেটি নিজ আয় হতে ব্যয় নির্বাহ করে, এমনকি সব ব্যয় করেও লাভ করে। দূ্র্ভাগ্যের বিষয় এই সংস্থা পর্যাপ্ত মনযোগ এবং প্রণোদনা পায়না। তবে এর নিজের দূর্বলতাও কম নয়। এই সংস্থায় ২০০০ সালের আগে সুষ্ঠু নীতিমালা অনুযায়ী নিযোগ হয়নি বললে চলে। এডহক ভিত্তিক বা চুক্তিভিত্তিক ভাবে নিয়োগকৃত কর্মচারীরা অনেকেই পদোন্নতি পেয়ে জিএম এর মতো পদে অভিষিক্ত হয়েছেন বিভিন্ন সময়। এসকল কর্মকর্তারা তাঁদের সীমিত শিক্ষাগত যোগ্যতার কারণে দূরদর্শী ভাবনাও ভাবতে পারেননি। এরা সবসময় বিমানবন্দরস্থ শুল্কমূক্ত বিপণীর বিক্রয় কার্যক্রম নিয়ে মনযোগী ছিলেন। বিমান বন্দরে তেমন কোন প্রতিযোগিতা ছিলোনা, একচেটিয়া ব্যবসার সুযোগ ছিলো (বর্তমানে তুমুল প্রতিযোগিতা রয়েছে)। এরা অনেকেই নিজের ভাগ্য গড়ার প্রতি একনিষ্ঠ মনোযোগ দিয়েছিলেন। ফলে পর্যটন করপোরেশন এর মূল যে কাজ – পর্যটন শিল্পের প্রচার-প্রসার, উন্নয়ন, জনগনকে এ শিল্পে সংযুক্ত করা, সুষ্ঠু পর্যটন পরিকল্পনা, বিদেশী পর্যটকের আগমন বৃদ্ধি এ বিষয়গুলো কাংখিত অগ্রগতি কখনোই লাভ করেনি। তবে এটাও দূর্ভাগ্যজনক যে মেধাবী কর্মকর্তাগণ এই সংস্থা ছেড়ে চলে গেছেন। সেরকম একজন হলেন জনাব Jahangir Firoz যিনি বর্তমানে লন্ডনের পরিচিত মুখ এবং বিশিষ্ট সমাজসেবক।
যদিও পর্যটন অবকাঠামোর মৌলিক অংশ – রাস্তা-ঘাট, যাতায়াত ব্যবস্থা ইত্যাদি পর্যটন করপোরেশন এর হাতে নয়, তবে একটি বিষয় প্রায় চিরসত্য যে সরকারি সংস্থা ব্যবসা করতে পারেনা। পর্যটন করপোরেশন এর যে চরিত্র ঠিক করা হয়েছিলো সেটা এর জন্মলগ্নে সঠিক থাকলেও পরবর্তীতে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে। কারণ একটি সংস্থা একই সঙ্গে পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন, প্রচার-প্রসার, বিপণন, নীতি নির্ধারন, পরিকল্পনা প্রণয়ন জাতিয় কাজের পাশাপাশি ব্যক্তিমালিকানাধীন খাতের সাথে প্রতিযোগিতা করে ব্যবসা করতে পারেনা। উচিত ছিলো এই সংস্থাকে ব্যবসা থেকে গুটিয়ে নিয়ে অভিভাবকত্বের কাজে নির্দিষ্ট ও নিবিষ্ট করা। সেটা না করে কতিপয় অতি উৎসাহী ট্যুর অপারেটর এবং একজন আমলার বুদ্ধিতে পর্যটন সংক্রান্ত আরেকটি রাষ্ট্রীয় সংস্থা সৃষ্টি করা হলো! কিন্তু দু’টি রাষ্ট্রীয় সংস্থা মিলেও পর্যটন শিল্পের অগ্রগতি একই বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে!
Public Public Partnership আদৌ সফল হবে কিনা জানিনা। তবে Public Private Partnership (PPP) অত্যন্ত সফল হতে পারে। তবে এক্ষেত্রে কোন প্রকল্প নিলে সেটা আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় ঘুরপাক খেতে থাকে। কাংখিত গতির অভাবে সম্ভাব্য ফলাফল পাওয়া যায়না।

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন একটি বিষয়ে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে। সেটি হলো হোটেল ও পর্যটন ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণ। এই সংস্থার নিজস্ব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র National Hotel & Tourism Training Institute (NHTTI) ১৯৭৪ সাল হতে প্রায় ৪০ হাজার প্রশিক্ষণার্থীকে হোটেল ও পর্যটন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে স্বল্প থেকে দীর্ঘ বিভিন্ন মেয়াদে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। (Web: www.nhtti.org) বিশেষ করে NHTTI তরুণদের মাঝে শেফ হওয়ার জন্য Passion সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠান হোটেল শিল্পে দক্ষ জনশক্তি সরবরাহের পাশাপাশি এখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে অসংখ্য তরুণ উদ্যোক্তা তৈরী হয়েছে। যেহেতু প্রশিক্ষণ পর্যটন করপোরেশন এর সর্বাধিক সফল ব্র্যান্ড সেহেতু এই প্রশিক্ষণ কে সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে দেয়া উচিত। একই সঙ্গে প্রশিক্ষণ প্রাপ্তদের দক্ষ কর্মী হিসেবে বিদেশের হোটেলে পাঠানোর সরকারি প্রচেষ্টা অত্যন্ত জরুরী। এ বিষয়ে জনশক্তি মন্ত্রণালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। চট্টগ্রামে NHTTI এর একটি পূর্ণাঙ্গ শাখা নির্মাণ করতে আমি গত ১০ বছর যাবৎ ব্যক্তিগত ভাবে চেষ্টা-তদবীর করে আসছি। তবে বর্তমান চেয়ারম্যান মহোদয় আখতারুজ্জামান খান কবির কে এ বিষয়ে অনুরোধ করলে তিনি এটি সম্পন্ন করবেন বলে জানান।
পর্যটন শিল্পের প্রায় সকল অনুষঙ্গ থাকার পরও কেন এই শিল্প খুঁড়িয়ে চলছে তার একটি জবাব হলো – আমাদের পশ্চাতপদ দৃষ্টিভঙ্গি। চাইলেও একটা Beer (খুবই সামান্য এ্যালকোহল যুক্ত পানীয়) কিনতে পারা কঠিন হলেও ইয়াবার মতো ভয়াবহ ড্রাগ পাওয়া অত কঠিন নয়! এটা হলো শরীর নেংটা, মাথায় ঘোমটার উতকৃষ্ট নমুনা সাদা চামড়া দেখলে তাকিয়ে থাকা আর একটি সমস্যা। আমাকে অনেক সাদা চামড়ার বিদেশী এই প্রশ্ন করেছেন কেন মানুষ তাঁদের দিকে হাঁ করে তাকিয়ে থাকে? কথায় কথায় ইংরেজী শব্দ বললেও বিদেশী ভাষায় আমাদের যোগাযোগ দক্ষতা লজ্জাজনক। পর্যটন শিল্পের জন্য একমাত্র ইংরেজী ই যথেষ্ট নয়। যেমন আমরা যদি চায়নিজ পর্যটক প্রত্যাশা করি তবে আমাদের চায়নিজ ভাষা জানা গাইড তৈরী করতে হবে। নিজেদের আতিথেয়তা নিয়ে গর্ব করলেও বিদেশী অতিথি নিরাপদ বোধ করবে এমন পরিবেশ দিতে পারিনা। কক্সবাজারে ট্যুরিস্ট পুলিশ থাকার পরও সন্ধ্যার পর দেশী মানুষরাও সৈকতে থাকতে চায়না। সাম্প্রতিক সময়ের সামাজিক সমস্যা যেমন ধর্ষনের পরিমাণ বৃদ্ধি নিশ্চয়ই ভঙ্গুর পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন ঘটাবেনা।
এবারের পর্যটন দিবসের দিন দূর্গাপূজার মহাসপ্তমী। হিন্দু ধর্মে প্রতীকের ছডাছড়ির কারণে এর সাথে পর্যটনের সংশ্লেষ ঘটানো অনেক সহজ। কিন্তু এই দিবসের র‍্যালীতে দূর্গার কোন ছবি রাখলে আমাদের তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ দেশের মানুষ কি প্রতিক্রিয়া দেখাতো? প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীগুলো কি পরিমাণ হাঙ্গামা করতো? আবার অন্যদিকে সারা পৃথিবীতে কি মেসেজটি যেত? উত্তরটা সবারই জানা। সুতরাং দৃষ্টিভঙ্গি অটুট রেখে পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন অসম্ভব।

সরকারের নিকট একটি দাবী জানিয়ে আজকের লেখা শেষ করবো – পর্যটন শিল্পের জন্য একটি সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র এবং পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রণালয় চাই।

***লেখাটি শেয়ার করার জন্য আমার ছাত্র-ছাত্রী, ফেসবুক বন্ধু ও পর্যটন সুহৃদদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ রইল। 🙂
শেখ মেহদি হাসান
উপ-ব্যবস্থাপক
বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন।

Published : সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৭ | 1006 Views

  • img1

  • সেপ্টেম্বর ২০১৭
    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
    « আগষ্ট   অক্টোবর »
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০  
  • Helpline

    +880 1709962798