• প্রচ্ছদ
  • /
  • ভ্রমণ
  • /
  • মায়ানমারী শরনার্থী প্রবাহ ও পর্যটনে নানা সমস্যার আশংকা

মায়ানমারী শরনার্থী প্রবাহ ও পর্যটনে নানা সমস্যার আশংকা

Published : সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৭ | 963 Views

মায়ানমারী শরনার্থী প্রবাহ ও পর্যটনে নানা সমস্যার আশংকা

 

বিগত কয়েকদিন ধরে মিয়ানমার থেকে আগত শরনার্থীদের ক্রমাগত ঝড় পর্যটন সংশ্লিষ্ঠদের ভাবিয়ে তুলছে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও মগ-বৌদ্ধ-রাখাইনদের হিংস্র খুন ধর্ষন ও অগ্নি সংযোগের ঘটনায় জাতিসঙ্ঘের হিসেবমতো চারলাখের বেশী রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। কক্সবাজার এবং বান্দরবান সীমান্ত দিয়ে আসা উদ্বাস্তুদের সংখ্যা আরো অনেক বেশী।   এদের বেশীরভাগ আশ্রয় নিয়েছে কক্সবাজারের উখিয়া শরনার্থী ক্যাম্পে। ব্যাপক ত্রাণ দেয়া হলেও একদিকে যেমন ত্রাণ বিতরণে বিশৃংখলার কারণে অনেকে বঞ্চিত হচ্ছে অন্যদিকে অব্যাহত ত্রাণ দেয়া বন্ধ হয়ে গেলে তাদের কি পরিণতি হবে এ নিয়েও অনেকে শংকিত। বিশেষ করে দেশের পর্যটন খাতে সমস্যা সৃষ্টি হবে বলে আশংকা করছেন অনেকে। অনেকের ধারণা পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেলে করপোরেট ট্যূরগুলো কক্সবাজারের দিকে হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে। এগুলো সুন্দরবন কিংবা কুয়াকাটা এবং বিদেশমূখী হতে পারে।

 

প্রথমত:

মায়ানমারী শরনার্থীরা ক্যাম্প তৈরীর ফলে গাছকাটা ও পাহাড় ধ্বংস করা সহ। বজ্য ও পয়নিস্কাশনের মাধ্যমে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। পরিবেশের সৌন্দর্য নষ্ট হলে পর্যটন ব্যাহত হবে মনে করা হয়।

দ্বিতীয়ত:

ভূখা নাঙ্গা রোহিঙ্গা নারী ও শিশুরা ইতোমধ্যে বাইরে ছড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। যদিও তারা সংখ্যায় কম। তথাপি এসব শিশু টেকনাফ বীচ, কক্সবাজার ইনানী, শাহপরীর দ্বীপ ও সেন্টমার্টিন দ্বীপে ভিক্ষাবৃত্তি শুরু করলে সেটা পর্যটক ও বিদেশীদের জন্য হবে সবচেয়ে বিব্রতকর।

তৃতীয়ত:

অভাবী খেতে না পাওয়া এবং পরিবার পরিজন হারা রোহিঙ্গা গুটিকয়েক পুরুষ রয়েছে। তারা রাতের আঁধাতে চুরি ডাকাতি কিংবা লুট বা অপহরণও করতে পারে। পাহাড়ী ও বুনো এলাকায় এমনটা করাও খুব সহজ। যদিও শত বছরের ইতিহাসে যেসব রোহিঙ্গা সেটেল হয়ে যায় তারা স্বাভাবিক জীবন যাপনই করে। আবার রিফিউজিদের বিরুদ্ধে ছোটখাটো অভিয়োগও রয়েছে।

চতুর্থত:

বিশেষ করে কক্সবাজারে রোহিঙ্গারা এসে পড়লে। তারা ৩০০ টাকার শ্রম ১০০ টাকায় বিক্রি করবে। এতে করে স্থানীয় শ্রমিকরা ক্ষতিগ্রস্থ হবে। তাদের পক্ষে একদেড়শ টাকায় চালিয়ে নেয়া কঠিন হবে। তবে কেউ কেউ মনে করছেন এতে পর্যটকেরা সুবিধা পাবে। কারণ কক্সবাজারে রিকসা ও অটো ব্যবসায়ীরা যে বাড়তি ভাড়া নেয় সেটার হার কিছু কমবে।

পঞ্চমত

বিভিন্ন ইস্যুতে স্থানীয়ভাগে রোহিঙ্গাদের সাথে স্থানীয় লোকজনের ঝগড়া-বিতন্ড কিংবা মারামারি লাগতে পারে। মারামারি সংঘর্ষ এবং ভয়ানক সমস্যায় রুপ নিতে পারে। এটাও পর্যটনের জন্য দূ:সংবাদ বটে।

 

ষষ্ঠত:

ট্যুরিজম মানে সৌন্দর্য মনে করা হয়। তাই পথে পাশে রোহিঙ্গাদের ভীড়, ময়লা কাপড়পরা মানুষের মিছিল এসব পর্যটন শহরের পরিবেশ উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখা হয়।

 

সপ্তমত:

রোহিঙ্গারা মূলত শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত। এবং জাতিগত দমন নিপীড়নের শিকার। ফলে তাদের মধ্যে জাতিগত বিদ্বেষও থাকতে পারে সেকারণে তারা মৌলবাদী ও ধর্মীয় গোড়ামী চর্চার ভেতর থাকা অস্বাভাবাবিক কিছু নয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গারা দীর্ঘমেয়াদী সেখানে থাকলে এবং স্থায়ী হয়ে গেলে পর্যটন বৈরি পরিবেশ তৈরীতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে।

অস্টমত:

শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত এবং মংডুতে দীর্ঘদিন তাদেরকে এক এলাকায় বন্ধী করে রাখার কারণে বাইরের পৃথিবী ও তথ্য সম্পর্কে তারা তেমন কিছু জানে না। ফলে তাদের মধ্যে দক্ষ জনশক্তিতো গড়ে উঠেনি বরং এক ধরনের মানসিক অক্ষমতাও তাদের রয়েছে। আর ভিটেমাটি এবং চালচুলোহীন হওয়ার কারণে তাদের দায়িত্বশীল হওয়ার সম্ভাবনা কমে গেছে। এই অবস্থায় তাদেরকে কাজে লাগানোর পদ্ধতি বের করা বেশ জটিল ও সময়সাপেক্ষ। ফলে এলাকাভিত্তিক চাপটা ট্যুরিজম এর উপরই পড়ে।

নবমত:

যেহেতু তাদের ঠিকানার ঠিক নেই। অন্য দিকে এদেশে তাদের স্থায়ী ঠিকানা হবেনা। তাই এই দেশের প্রতি তাদের প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা থাকতে পারে কিন্তু প্রেম ও দায়িত্বশীলতা থাকবে বলে মনে হয়না। ফলে তারা যেখানে সেখানে ময়লা ফেলতে পারে। এটা আবার তাদের না বোঝা কিংবা ভিনদেশে এসে এতকিছু করতে না পারার মানসিকতার কারণেও হতে পারে। তাছাড়া বেশীরভাগই নারী ও শিশু। বেশীরভাগ নারীদের আবার ছোট ছোট  বাচ্চা রয়েছে। হাজার হাজার নারী আবার সন্তানসম্ভবা ওরা আসলে নিজের জীবন বাঁচানোর বাইরে অন্য কিছু ভাবতে পারবে কিনা সেটাই কথা। কারণ ইতোমধ্যে এলাকার পরিবেশ নোংরা হয়ে গেছে। বিভিন্ন জায়গায় পুরনো কাপড়, খাবারের প্যাকেট আর  পয়নিষ্কাশনের কারণে পরিবেশ অসহ্য হয়ে উঠেছে। এই বিশ্রী পরিবেশ পর্যটনের জন্য ভুল বার্তা বয়ে আনবে।

দশ:

সবচেয়ে বড়ো যে ক্ষতিটা মায়ানমার করছে সেটাযে বাংলাদেশের ক্ষতি তা কিন্তু নয়। তারা নিজেদের ক্ষতিও করছে। আজ বাংলাদেশী পর্যটকদের কারণে ভারতের কয়েকটি রাজ্যের অর্থনীতি রমরমা। বাংলাদেশের সাথে ২টি দেশের সীমান্ত রয়েছে। ভারত ছাড়া অন্য দেশটি মিয়ানমার। মিয়ানমারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, জীবনযাত্রার নিন্মব্যয় ও বাংলাদেশের পর্যটন শহর থেকে নৈকট্য ইত্যাদি কারণে মিয়ানমারের বিশাল সম্ভাবনা ছিলো বাংলাদেশ থেকে পর্যটনে আয় করার। পাশপাশি বাংলাদেশেরও সম্ভাবনা ছিলো সেটা স্থানীয়ভাবে আবার আন্তজাতিকভাবেও। কিন্তু এই বিশাল সম্ভাবনার রাস্তায় খাল কেটে দিল মিয়ানমারের সেনাবাহিনী বৌদ্ধ ভিক্ষু ও মগের মুল্লুকের মগেরা।

এবার এই বাঁশিতে দুটো উল্টো ফুঁ দিই:

১: বর্তমানে ত্রাণ ও সংবাদবহন কাজে টেকনাফ ও কক্সবাজারে প্রচুর লোক যাচ্ছে। যারা শুধু ত্রান দিচ্ছেনা। বীচে ঘুরছে শহরে থাকছে খাচ্ছে। ফলে অফ সিজনেও ফুলে উঠেছে সেখানকার পর্যটন ব্যবসায়। প্রচুর মানুষ দেখে সবাই ডিসেম্বর জানুয়ারীর মতো ভাড়া হাঁকছে। এতে স্থানীয় লোকেরা লাভবান হচ্ছে। তবে এটা স্থায়ী হবে এমনটা আশা করা যায়না।

২. বিশ্বে এখন হজ্জ ট্যুরিজম আছে, মেডিক্যাল ট্যুরিজম আছে, আছে হালাল কিংবা রিলিজিয়াস ট্যুরিজম। আমরা কি দূর্যোগ পর্যটন কিংবা ডিজাস্টার ট্যুরিজম ফরম্যাটে রোহিঙ্গা ইস্যু এবং ট্যুরিজম একসাথে প্রমোট করে দেশ বিদেশ থেকে ট্যুরিস্ট আনতে পারিনা। যেহেতু কক্সবাজারে আমাদের ট্যুরিজম শিল্প প্রতিষ্ঠিত আছে। আছে অবকাঠামো ও পেশাদরী লোকবল। এই সমস্যাকে কাজে লাগনোর উপায় বের করা আমাদের জরূরী। তবে এগুলো সাময়িক উপকার হলেও আমাদেরকে মূলত স্থায়ী লাভ লোকসান হিসেব করে কাজ করতে হবে।

 

  • লেখা: জাহাঙ্গীর আলম শোভন

 

 

Published : সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৭ | 963 Views

  • img1

  • সেপ্টেম্বর ২০১৭
    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
    « আগষ্ট   অক্টোবর »
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০  
  • Helpline

    +880 1709962798