রোহিঙ্গা জাতির নামকরণের ইতিহাস

Published : সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৭ | 1115 Views

রোহিঙ্গা জাতির নামকরণের ইতিহাস

আরাকানে রোহিঙ্গা বসতির সূচনা। ৮ম শতাব্দীতে আরবদের আগমনের মধ্য দিয়ে আরাকানে (বর্তমান রাখাইন) মুসলমানদের বসবাস শুরু হয়। এই অঞ্চলে বসবাসরত মুসলি জনগোষ্ঠীই পরবর্তিতে রোহিঙ্গা নামে পরিচিতি লাভ করে।

নামকরন (১): সে সময় চন্দ্রবংশীয় রাজা মহৎ-ইঙ্গ-চন্দ্রের রাজত্বকালে (৭৮৮-৮১০ খ্রিঃ) কয়েকটি আরব মুসলিম বাণিজ্য বহর রামব্রী দ্বীপের পার্শ্বে বিধ্বস্ত হলে জাহাজের আরোহীরা রহম রহম (দয়া করো) বলে চিৎকার করে। এ সময় স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে আরাকানের রাজার কাছে নিয়ে যায়। আরাকান রাজা তাদের বুদ্ধিমত্তা ও উন্নত আচরণে মুগ্ধ হয়ে আরাকানে স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপনের অনুমতি দান করেন। আরবি ভাষায় অনভিজ্ঞ স্থানীয় লোকজন তাদেরকে রহম গোত্রের লোক মনে করে রহম বলে ডাকতো। ক্রমশ শব্দটি বিকৃত হয়ে রহম রোঁয়াই রোঁয়াই রোঁয়াইঙ্গা বা রোহিঙ্গা নামে খ্যাত হয়। পরে আরব বনিকরা তাদের দেশে ফিরে গেলেও স্থানীয় লোকদের যে অংশটি ইসলাম গ্রহণ করে এবং যারা আরবদের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয় তারা রোহিঙ্গা জাতির ধারা বজায় রাখে।

নামকরণ মত (২) অন্যমতে রোহিঙ্গারা আফগানিস্তানের অন্তর্গত ঘোর প্রদেশের রোহা জেলার অধিবাসীদের বংশধর। মূলত তারা তুর্কী কিংবা আফগানী। কেননা ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খিলজীসহ বাংলার মুসলমান বিজেতা ও শাসকগণ ইসলাম প্রচার ও প্রসারের নিমিত্তে আফগানিস্তানের রোহার অঞ্চলের কিছু ব্যক্তিকে আরাকানে প্রেরণ করেছিলেন। উক্ত রোহার অঞ্চলের মুসলমানরা আরাকানের নামকরণ করেছিলেন রোহাং। এ রোহা ও রোহাং শব্দ থেকেই রোহিঙ্গা নামকরণ হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন।

নামকরণ মত (৩) ‘‘রাখাইন’’ শব্দটা যখন চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষা কিংবা আরাকানী ভাষায় বলা হয় তখন ‘‘খ’’ এর স্থলে ‘‘হ’’ উচ্চারণ হয়। দেখুন শব্দটা হয়ে রাহাইন। রাহাইন শব্দটা আবার চট্টগ্রাম বা আরাকানী প্রভাবে বিকৃতি লাভ করে। যেমন কারো নাম যদি ‘‘রহিম’’ হয় তাকে ‘‘রইম্যা’’ বলে ডাকার একটা প্রবনতা এই ভাষা চর্চার ভেতরেই রয়েছে। এটা ঠিক ব্যঙ্গ বিদ্রুপ নয়। ফলে ‘‘রাহাইন’’ থেকে ‘‘রাহাইন্যা’’ সেখান থেকে ‘‘রোহিঙ্গা’’ হওয়াটা অবাক হওয়ার মতো কিছু নয়। এবং ধারণা করা হয় যেসব কারণে ব্রিটিশ সরকার বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠির তালিকা তৈরী সেখানে। মায়ানমারের মুসলিম জাতির তালিকা করে রাখাইন ও রোহিঙ্গা শব্দটি সমার্থক ধরে রোহিঙ্গাদের নাম তালিকায় অন্তভূক্ত করা হয়নি।

খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ বছর আগে রাখাইনে প্রথম বসতি গাড়ে, অস্ট্রিক জাতির শাখা, কুরুখ নৃগোষ্ঠী। এরপর বাঙালি হিন্দু, ধর্মান্তরিত মুসলিম, পার্সিয়ান, তুর্কি, মোগল, আরবীয় ও পাঠানরা বঙ্গোপসাগরের উপকূলে বসতি স্থাপন করে। এসব নৃগোষ্ঠীর শংকর জাততেই বলা হচ্ছে, রোহিঙ্গা। ঐতিহাসিকভাবে আরাকানী ভারতীয়ও বলা হয়ে থাকে। রোহিঙ্গা ইসলাম ধর্মের অনুসারি যদিও কিছু সংখ্যক হিন্দু ধর্মের অনুসারিও রয়েছে।

Published : সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৭ | 1115 Views

  • img1

  • সেপ্টেম্বর ২০১৭
    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
    « আগষ্ট   অক্টোবর »
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০  
  • Helpline

    +880 1709962798