টেকনাফের শেষদিন: শাহপরীর দ্বীপ ছুঁয়ে

Published : সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৭ | 1457 Views

টেকনাফের শেষদিন: শাহপরীর দ্বীপ ছুঁয়েজাহাঙ্গীর আলম শোভন

২৮ ফ্রেব্রুয়ারী ২০১৬

এগারোটায় যদি আমি বের হই তাহলে শাহপরীর দ্বীপ ও টেকনাফ শহরে থেকে ১৭ কিলোমিটার। রাস্তাঘাট কেমন আমি জানি না। কমসে কম চার ঘন্টাতো লাগবেই। আরো বেশীও লাগতে পারে। মূল ভূখন্ডের পথ পরিক্রমা শেষ হলেও আমার পরিকল্পনা হলো সেন্টমার্টটিন দ্বীপের এপার থেকে ওপারে হেঁটে যাওয়া। কিন্তু বিকেলে জাহাজ হবে না। জাহাজ হলো সকাল ৯টায়।

আমরা টিএনও এর সাথে দেখা করি। সকালেই। সেখানে বাংলা ভিশনের স্খানীয় প্রতিনিধি আসলাম ভাই  সাক্ষাৎকার নেন।তিনি আবার প্রথমআলোর টেকনাফ প্রতিনিধি। আমি সাথে সাথে পথচলা শুরু করি। আমি খুব দ্রুত চলা শুরু করি। গ্রামের মধ্য দিয়ে ছোট ছোট বাজার পেরিয়ে চলছি। আর রাস্তা আস্তে আস্তে ক্রমশ ছোট হয়ে খারাপ হয়ে যাছ্ছে। গরম যদিও পড়ে গেছে সূর্যমামাও বেশ তাঁতানো কিন্তু এদিকটাই সমূদ্রের খুব কাছে বিধায় বেশী গরম লাগছিলো না।

মজার ব্যাপার হলো তরুন বয়সী বেশীরভাগ লোকই আমাকে দেখে চিনে ফেলছে। মানে তারা আগরে দিন সন্ধ্যায় আমাকে টেকনাফ নিউজ ডট কম এর ফেইসবুক পাতায় দেখে ফেলেছে মানে খবর জেনে গিয়েছে। সূতরাং তাদের কথা বলতে হয়। সবচেয়ে বড়ো সমস্যা হলো চট্টগ্রামের মানুষ এতটাই অতিথি পরায়ন যে কিছু না খাইয়ে ছাড়তে চায়না। একবাজারে খাবার এড়িয়ে যাওয়ার জন্য বললাম ভাই আমিতো কাচা শাকসবিজ খাই। সাথে সাথে একটা লাউ আর একটা শষা এনে দিলো। হয়তো মনে মনে অবিশ্বাস করেছিলো। তাদের সামনে একটা লাউয়ের অর্ধেকমতো খেয়ে আবার হাঁটা।

একসময় লোকালয় বিলীন হয়ে খোলা আকাশ বেরিয়ে এলো রাস্তাও মেটোপথ আর লবনের মাঠ। দূরে আবছা দেখা যায় শাহপরীর দ্বীপ পাশে নাফ নদী। লবণ ক্ষেতের মধ্য দিয়ে আঁকাবাকা কাঁচা রাস্তা। আবার উচানিচাও আবার এবড়ে থেবড়েও। কিন্তু ট্যাক্সি এবং ছোট ছোট পিকআপ ভ্যান চলাচল করছে। তাও দেখে মনে হয় উত্তাল সমুদ্রের ঢেউ পাড়ি দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে।

শাপরীর দ্বীপ একসময় মূল ভূখন্ড থেকে আলাদা ছিলো। এই জায়গা যেখানে বর্তমানে লবন চাষ হয় এখানে ছিলো অগভীর সমুদ্র। কিন্তু এখানে এখন কিছু জায়গায় জোয়ারের সময় পানি আসে মাত্র। প্রায় ৪ কিলোটিমার মতো কাঁচা এই সংযোগ সড়কটা পাকা হয়ে গেলে শাহপরীরর দ্বীপবাসির কিছু দু:খ হয়েতা লাঘব হতো।

 

বলছি শাহপরীর দ্বীপ ও জালিয়া পাড়ার কথা। এখানে অনেক কিছু নেই। কিন্তু বিডিআর চৌকি ঠিকই আছে গোলারচর যাওয়ার আগে অন্তত তিনবার চেকিং এর সামনে পড়তে হয়েছে। কারণ মায়নামার থেকে প্রচুর পরিমানে চোরাই পন্য আসে এই পথে। আমার জ্বালা ছিলো আরো একটা। কাল শহর থেকে হোটেলে যাওয়ার সময় পাহাড়ী পথে আমার স্টলার বা ট্রলি মানে যে বেবী কারে আমি আমার মালামাল বহন করছিলাম সেটার পেছনের একটা স্প্রিং খুলে যায়। একটা স্প্রিং আগেই কোথায় যেন খুলে গিয়েছিলো। যে স্প্রিংটা গাড়ীটাকে টান টান করে রাখতো। এখন সমস্যা হলো একটা উচুতে ধাক্কা খেলে বা বালির মধ্যে চাকা গাড়ী ভাজ হয়ে যায়। রাস্তা যেহেতু বন্দুর সেহেতু প্রতি ফিটেই গাড়ী থেমে যায়। অগত্যা গাড়ীর সামনে গামছা দিয়ে বেঁধে টেনে টেনে নিয়ে চললাম। মানে আগে পুশ করতাম এখন পুল করছি। এভাবে চলল। তাতেও রক্ষা হলো না। কারণ যেখানে বালি পড়ে সেখানে চাকা ধেবে যায়। সবগুলো চাকা বালিতে ধেবে গেলে তখন পুরো গাড়ি আলগা করে তুলে নিতে হয়।

কোনো একটা ব্যতিক্রম ঘটনা মানুষ শুনে যে মজা পায়। নিজের চোখে দেখতে পারলে সে আরো বেশী খুশি হয়। এখানে মানুষজন খুব বেশী নয় তবুও জটলা পাকিয়ে যাচ্ছে বার বার। দূর থেকে অনেকেই ছুটে আসছেন। তারা সবাই জানে আমি তেঁতুলিয়া থেকে হেঁটে এসেছি। এবং আজ টেকনাফ শাহ পরীর দ্বীপের শেষপ্রনাত স্পর্শ করবো। সবাই অবাক দৃস্টিতে চেয়ে আছে। আর বলছে তারা কেউ জীভনে কোনোদিন শুনেনি। যে কোনো মানুষ এত দূর থেকে হেঁটে আসতে পারে। আর যারা নিজেরা সে হেঁটে আসা মানুষটিকে নিজচোখে দেখতে পারছে তাদের চোখে মুখে আনন্দের সীমা নেই। ভেতরের পাড়া থেকে দলে দলে লোকজন আসছে আমাকে দেখার জন্য। ‍মানে বিষয়টা সেখানে বেশভালোভাভেই প্রসার পেয়েছে।

লবনের মাঠের ভেতর দিয়ে রাস্তাটা বহু হাঙ্গামা করে পার হয়ে এলাম। পরে ক্ষান্ত দিলাম। দুপুরে লাঞ্চ করিনি। খিদেয় পেট জ্বলছে। এত কষ্ট এতটুকু কাঁচা লাউ পেটে কতক্ষণ থাকা যায়। এবার শষাটা খাওয়া শুরু করলাম। জালিয়া পাড়া, জাইল্লা পাড়া বা জেলে পাড়ার প্রান্ত এসে একটা মাদ্রাসার দেয়ালে ঠেস দিয়ে দাড়িয়ে সঙ্গে থাকা শষা খাওয়া শুরু করলাম।

 

জাহাঙ্গীর আলম শোভনের লেখা তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ পায়ে হেঁটে ভ্রমণ কাহিনী দেখব বাংলাদেশ গড়ব বাংলাদেশ অবলম্বনে।

Published : সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৭ | 1457 Views

  • img1

  • সেপ্টেম্বর ২০১৭
    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
    « আগষ্ট   অক্টোবর »
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০  
  • Helpline

    +880 1709962798