টেকনাফের স্মৃতি ১: টেকনাফে পথচলা

Published : সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৭ | 1632 Views

টেকনাফ ভ্রমণ

টেকনাফের স্মৃতি ১: টেকনাফে পথচলা

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

২৭ মার্চ শেষবেলায় টেকনাফে প্রবেশ করি। একেতো সেদিন রাতের সাড়ে ১০টা পর্যন্ত হাঁটি তার উপর হিসেব মতো আর মাত্র একদিন পরেই লক্ষ্য ছুঁবো যদিও পরে সেটা দুই দিনে করতে হয়েছে।  বলছিলাম পায়ে হেঁটে তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ ভ্রমণের শেষদিনগুলোর কথা।

এটি কক্সবাজার সদরথেকে প্রায় ৮৬ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ বাংলাদেশের মূল ভূখন্ডের সর্বদক্ষিণপ্রান্তসীমা এবং এ উপজেলার সেন্ট মার্টিনস দ্বীপ বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণপ্রান্ত।  টেকনাফে গেলে আপনি ফেনিল সমুদ্র আর  ৮৮০ ফুট তুনহ্যানঙ্গ পর্বত দেখতে ও ভমণ করতে পারবেন। এখানে সুপারী বাগান, অধিবাসীদের সরলতা, লবন মাঠ, , বদর শাহের স্মৃতি ধন্য মদর মোকাম দর্শনে ও অধিবাসীদের আতিথেয়তায় আপনি মুগ্ধ হতে হবে।  ষোল শতকে আরাকানদের শাসনাধীন ছিল। ১৫৫৪- ৫৫ সালে সুর বংশের সুলতান শামশুদ্দিন মুহাম্মদ শাহ্গাজী আরাকান জয় করেন। টেকনাফ থেকে সড়ক পথের শেষ সীমানা শাহপরীর দ্বীপ। এ দ্বীপটি অতীতে টেকনাফের মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। পাকিস্তান আমলে একটি ক্রসবাঁধ দেয়ায় এটি মূল ভূখন্ডের সাথে যুক্ত হয়। টেকনাফের গভীর অরেণ্য বিভিন্ন প্রজাতির জীবজন্ত রয়েছে। হরিণ ও হাতী অন্যতম।  এখানে রয়েছে চর্তুদশ বয়সী মগ জমিদার কন্যা মাথিন ও পুলিশ অফিসার ধীরাজ ভট্টাচার্যের প্রেমের অমর স্বাক্ষী মাথিনের কুপ।  টেকনাফ থেকে শাহপরীর দ্বীপ যাত্রাপথে হাজার হাজার একর লবনের মাঠ একজন পর্যটককে দারুনভাবে আকৃষ্ট করে।  আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত ভালো।

একপাশে সমুদ্র অন্যপাশে পাহাড় রেখে রাতের আঁধারে বন, লোকালয় ও রাস্তা ধরে হেঁটে চলার এক অপার্থিব অনুভূতি আমায় তাড়িয়ে নিয়ে গেছিলো। ফলে কখন উখিয়া উপজেলার সীমানা পেরিয়ে টেকনাফ এর মধ্যে চলে এসেছি সেটা মনে নেই। সেদিন যেখানে রাত্রি যাপন করলাম নোয়াখালী বাজার নামক এলাকায়। সেই নোয়াখালী বাজারটাও টেকনাফের মধ্যে বটে।

এখানে নোয়াখালীর দরিদ্র এলাকা থেকে আরো দুই জেনারেশন আগে লোকজন এসে বসতি স্থাপন করেছিলো। বিশেষ করে নোয়াখালীর হাতিয়া থেকে যেখানে বেশীরভাগ অংশসমুদ্র গর্ভে বিরীন হয়ে গিয়েছিলো। ঘরহারা মানুষগুলো এখানে এসে আশ্রয় নিয়েছে। সমুদ্রে পারে জায়গাটা বেছে নিয়েছিলো কারণ তাদের পূর্বের মৎসঝবি পেশাটাও টিকিয়ে রাখতে পারবে বলে। আর পাশের পাহাড় হয়তো তাদের ধারণা বদ্ধমূল করেছিলো যে এই জায়গা সহসা সমুদ্র গর্ভে বিলীন হওয়ার নয়। এখানকার মানুষদের উদার মানষিকতার কারণে দুই এলাকার লোকদের অভিযোজনটা সহজ হয়ে গিয়েছিলো।

(আগেরদিন ইনানী থেকে যখন পথচলা শুরু, তখন মিলেছিলো সৈকতে পাথরের দেখা। ছবি : জাহাঙ্গীর আলম শোভন)

 

২৬ মার্চ ২০১৬, আজকের দিনটাই একমাত্র দিন যেদিন কোনো নির্দিষ্ট গন্তব্য ঠিক করা ছিলনা। রাত যখন সাড়ে দশটা তখন একটু পাহাড়ের ঢালে সেই নোয়াখালী বাজারে গিয়ে থামলাম। লোকেরা আমাকে দেখে অবাক হলো কিন্তু অবিশ্বাস করলোনা।  কারণ আমিতো জলজ্যান্ত মানুষ তাদের সামনে। ব্যাপারটা শুনতে যতই খচখচে দেখতেতো বেশ।

 

বাজারে দুটো দোকান খোলা পেলাম। একটা থেকে কিনলাম কয়েল অন্যটাতে ভাত খেলাম। দোকানদার বাসা থেকে ভাত এনেদিলো সাথে দিলে একটা ডিম ভেজে আর পুরির সাথে দেয়ার জন্য যে ঝোল বানায় সেটা। ক্ষুধার্ত অবস্থায় খেতে ভালোই লাগলো। থাকার ব্যবস্থা হলো দুইদিন আগে নির্বাচনে হেরে যাওয়া মোরগ মার্কা মেম্বারের নির্বাচিনী অফিসে এলাকার যুবক ছেলেরা মানে মেম্বারের কর্মীরা ব্যবস্থা করে দিলো। এমন কি বাসা থেকে বিছানা ও বালিশ এনে শুতে দিলো। লাইট ফ্যান আগে থেকেই ছিলো।

 

টেকনাফ

রাতে আমি একা সমুদ্রে হাটতে যেতে চাইলাম। ততক্ষণে চাদঁও উঠেছে। পাহাড়ের গা গলে নেমেছে চাঁদের আলো। সুন্দর ছোট একটি গ্রাম তার পিঠ ঠেকে দিয়ে সমুদ্রের গায়ে হেলে আছে। তার সমানে সমুদ্র আছড়ে পড়ছে সমুদ্রের ঢেউ আর ফেনা গলানো কোমল নোনা জলরাশি। তাতে কুয়াশা কুয়াশা হালকা জ্যোৎস্না পড়ছে। যেন জ্যোৎস্না আর জল একে অপরের মাঝে হারিয়ে যাছ্ছে। এমন দৃশ্য সৈকতে দেখার সুযোগ জীবনে হয়তো বার বার হবে না। সেই সৈকতে দূর অজানা থেকে একজন মানুষ মধ্যরাতে বসে জীবনের হিসেব কষে চলেছে হয়তোবা। আমি ভেবেছি নি:সঙ্গভাবে এরকম মুহর্তে সমুদ্র পাড়ে হাটবো এক নেসর্গিক দৃশ্যের অবতারণা করে তার স্মৃতি বয়ে বেড়াবো জীবনভর। দৃশ্যপটটা এইরকম হবে বা আমি এমনটা কল্পনা করছিলাম কিন্তু এলাকার সাত আটজন যুবক সঙ্গী হলো। তাই তাদের সাথে তাদের মতো করে  সাগরের সৈকতে রাত দুপুরে লুঙ্গি পরে স্যান্ডেল পায়ে বাতাস খেতে গিয়েছিলাম। ওহ ভীষন ভালো লাগেলো সেদিন। ৩৭ কিলোমিটার হেটে যাওয়ার পর সাগর পাড়ে বসে রাতে বেলাগুণা সে এক অন্যরকম দিন। দিন না বলে রাত বলা ভালো তখন রাতের প্রায় ১টা বেজে গিয়েছিলো। সাগরের উত্তাল আনন্দ আমার ৩৭ কিলোমিটারের ক্লান্তিকে নাই করে দিলো।

 

Published : সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৭ | 1632 Views

  • img1

  • সেপ্টেম্বর ২০১৭
    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
    « আগষ্ট   অক্টোবর »
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০  
  • Helpline

    +880 1709962798