বাংলাদেশের পর্যটন: এই সময়ের সমস্যা

Published : আগস্ট ৩১, ২০১৭ | 758 Views

গত ১৮ আগষ্ট রাজধানীর গুলশানে অনুষ্ঠিত হয় পর্যটন আড্ডা। দি বাংলাদেশ ট্রাভেল, ট্রাভেল টিউন ও বে পিয়ারল  ট্যুরিজম এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত ট্যুরিজম আড্ডায় উঠে আসে বিভিন্ন সমস্যা। ট্যুরিজম আড্ডায় যেসব সমস্যার কথা উঠে এসেছিলো। সেগুলো নিন্মরুপ

১. দেশের ট্যুরিজম এলাকাগুলোকে আন্তজাতিকভাবে তুলে ধরা হয়না। অনলাইনে পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায়না।

২. হোটেলগুলোতে রুমট্যারিফ প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশী। সেবার মানও সবক্ষেত্রে ভালো নয়।

৩. বেশীরভাগ হোটেল মালিক মনে করেন। তিনি হোটেলের মালিক তিনি কেন কাস্টমারের সাথে কথা বলবেন? তারা টেকনোলজি পছন্দ করেন না।

৪. হোটেল মালিকগণ প্রফেশনাল ও পেশাজীবি কর্মী নিয়োগ না করে আত্মীয় স্বজন দিয়ে হোটেল চালাতে পছন্দ করেন। বেশার মালিকের হোটেল ব্যবসাটা মূল ব্যবসায় নয়।

৫. পর্যটন এলাকাগুলোতে নিরাপত্তার অভাব।

৬. অনেকে এলাকায় যাওয়ার জন্য রাস্তাঘাট ভালো নয়। ট্রাফিক জ্যাম একটা সমস্যা। কক্সবাজার যেতে কখনো কখনো ১৬/১৭ ঘন্টা সময় লাগে।

৭. ট্যুর অপারেটর গণ গাইডদের ন্যায্য মুজুরী দেননা। পর্যটন পেশাজীবিদের চাকরীও খুব নড়বড়ে।

৮. কিছু অপেশাদার লোক ফেসবুকে পেইজখুলে কম দামে বাজে সেবা দিয়ে পর্যটন বাজার নষ্ট করে দিচ্ছে। অথচ এগুলোর উপর সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।

৯. যারা পর্যটন ব্যবসায় করে দেশকে তুলে ধরেন। তাদের জন্য কোনো ট্যাক্স ফ্রি সুবিধা, কম ট্যাক্সে গাড়ি আমাদনী সুবিধা, কোনো পদক, কোনো পুরষ্কার এমনকি কোনো প্রনোদনার ব্যবস্থাও নেই।

১০. দেশে একটি পর্যটন বিশ্ববিদ্যালয় থাকার দরকার সেটা নেই।

১১. ট্রাভেল এজেন্টদের তালিকাভুক্তির জন্য যেমন সিভিল এভিয়েশন কতৃপক্ষ রয়েছে। তেমনি ট্যুর অপারেটরদের তালিকাভূক্তির জন্য কোনো কতৃপক্ষ নেই। যেটা থাকা দরকার।

১২. বিভিন্ন ট্যর এলাকায় গেলে সুভেনির বা স্মারকপন্য পাওয়া যায়না। পর্যটনের সাথে স্মারক পন্যকে তুলে ধরার কোনো উদ্যোগ নেই।

১৩. পর্যটন কি এই সম্পর্কে বেশীরভাগ মানুষের ধারণা পরিষ্কার নয়। অনেকে মনে করেন দৃশ্য দেখা বা কোনো স্খানে ঘুরতে যাওয়াই পর্যটন। এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ে না।

১৪. বিভিন্ন প্রত্নতাত্বিক স্থাপনায় গেলে দেখা যায়। সেখানে বিদেশীদের জন্য বাড়তি মূল্য তালিকা রয়েছে। বাস্তবতা হলো বাড়তি মূল্য তালিকা নেয়ার মতো অবস্থায় আমরা এখনো যাইনি।

১৫. কোনো অপারেটর এর মাধ্যম ছাড়া স্বাধীনভাবে কোনো পর্যটক বাংলাদেশ ঘুরতে এলে তারা এক জায়গায় সব সেবা পাবে এমন কোনো প্লাটফরম দেশে তৈরী হয়নি।
১৬. দেশের পর্যটন প্রশিক্ষণ আন্তজাতিক মানের নয়। এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তাত্মিক জ্ঞান দিলেও ব্যবহারিক জ্ঞান দেয়া হয়না ফলে তারা কর্মক্ষেত্রে প্রশ্নের সম্মুখিন হয়।

১৭. হোটেলগুলো কর্মচারী নিয়োগের সময় ইন্টার্ণীসময়ে পাল্টা অর্থ আদায় করে। যা দেশের পর্যটনখাতের জন্য ক্ষতিকর।

১৮. জঙ্গি হামলার কারণে পর্যটন ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

১৯. আমাদের দেশের জনগনের বা যেসব স্থানে ট্যুরিস্ট যায় সেসব এলাকার মানুষের মানসিকতা পর্যটন বান্ধব নয়। তারা সেবার বদলে শুধু ব্যবসার কথাই চিন্তা করে। এবং বিদেশী ট্যুরিস্টদের মূল্যবোধ এবং সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল নয়।

২০. সরকারী পর্যটন প্রতিষ্ঠানে পর্যটন মনস্ক লোকজন নিয়োগ দেয়া হয়না। ফলে তারা নিজেরা পর্যটন না বোঝার কারণে পর্যটনের জন্য কল্যাণকর কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়না।

২১. দেশের ট্যুরিজম স্পটগুলোকে তালিকাভূক্তিকরণ, সিজন, নিরাপত্তা, ধরণ, আকার ও প্রকার অনুসারে শেনীবদ্ধ করার কাজ আজ অবধি করা হয়নি।

২২. আজ অবধি পর্যটন নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হয়নি।

২৩. দেশীয় ট্যুরিস্টরা পর্যটন স্পটগুলোতে প্লিাস্টিকবজ্য ফেলে ক্রমশ নোংরা ও অযোগ্য করে তুলছে এ ব্যাপারে কোনো কাযকরী উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

২৪. সরকারী সার্কিট হাউস ও ডাকবাংলোগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে নানা সমস্যা দেখা দেয়।

২৫. সাধারণ মানুষকে আজ পর্যন্ত পর্যটন এর সাথে সম্পৃক্ত করে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। হলেও সেটা কার্যকর ফল বয়ে আনতে পারেনি।

২৬. সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশী পর্যটক আকর্ষনে কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারছেনা।

২৭. বিভিন্ন গ্রুপ দল বা এসোসিয়েশন এর দলাদলির কারণে সরকারের দৃষ্টিতে সমস্যাগুলোকে সঠিকভাবে আনা যায়নি।

২৯. সবসময় বি-টিম থেকে মন্ত্রী দেয়া হয়। এবং তরুন ও কর্মক্ষম পর্যটনমন্ত্রীর অভাবে অনেক কাজ করা যায়না।

৩০. পর্যটন সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য খুব সহজে পাওয়া যায়না। ফলে দেশে পর্যটন নিয়ে কোনো উল্লেখযোগ্য গবেষণা হয়না। আর হলেও সেটা সঠিকভাবে তুলে ধরা হয়না।

 

Published : আগস্ট ৩১, ২০১৭ | 758 Views

  • img1

  • Helpline

    +880 1709962798