ঢাকার কাছে ভোলানাথপুর মিষ্টি বাজার

Published : আগস্ট ২১, ২০১৭ | 9875 Views

নতুন কিছু ভ্রমণ প্যাকেজ

একদিনে ভ্রমণে ঢাকার কাছের ভোলানাথ মিষ্টি বাজার ভ্রমণ

ঢাকার কাছেই কুড়িল বিশ্বরোড থেকে ১৫ মিনিট লাগবে গাড়ীতে যেতে ২৫ মিনিট লাগে অটোতে। বালু নদীর ব্রিজ পেরিয়ে পূর্বাচল প্রজেক্টে ভোলানাথপুর কবরস্থানের পাশে বালু নদীর পাড়ে গ্রামীন বাজার। ১০০ ভাগ গ্রামীণ আবহে গড়ে উঠা অস্থায়ী বাজার। এখানেই হবে পূর্বাচল আধুনিক শহরের স্টেডিয়াম। কিন্তু বর্তমান বাজার বসে এখানে। নারায়নগঞ্জের রুপগঞ্জে অবস্থিত এই বাজার ঢাকার মানুষদের জন্য এখন একটি সৌখিন বাজারে পরিণত হয়েছে। কারণ গ্রামের তাজা সবজি ও ঘরোয়া দুধ ডিমের জন্য ইতোমধ্যে ভোলানাথপুর বিখ্যাত হয়ে উঠেছে।

প্রতিদিন শতশত মানুষ ঢাকা থেকে গাড়ি নিয়ে গিয়ে এখান থেকে বাজার করে আনেন। প্রথম দিকে কম দামে পাওয়া গেলেও এখন ভীড় বেড়ে যাওয়ার কারণে দাম বেড়ে গেছে কিছুটা। তবে আপনি এখানে একবার গেলে বার বার যাবেন এটা বলা যায়। এখানকার বাড়তি আকর্ষণ হলো বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি। নানা রং, নানা সাইজ, নানা প্রকারের গরম গরম ধোঁয়া উঠা মিষ্টি ডায়বেটিক রোগীর জিবেও জল এনে দেয়। একবার খেলেই মনে থাকবে।

আরেকটা খাবার এখানে ভীষন লোভনীয়। এখানকার রেস্টুরেন্টগুলোতে পাওয়া যায় নানারকম চাপ। গরু, খাসি কিংবা চিকেন চাপের পাশাপাশি রয়েছে কোয়েলের চাপ, কবুতরের চাপ, গুদ্দা এবং খিরি। এখানকার গরুর দুধের চাও আপনাকে টানবে। টানবে ডাব কিংবা নদীর কুলের চা।

একদিনের ভ্রমণে এখানে আসলে সকালেই আসতে পারেন। এখানে এসে হালকা নাস্তা ও চা খেয়ে নৌভ্রমণে বের হতে পারেন। নৌকায় করে ঘুরে আসতে পারেন। ঘন্টা দুয়েকের জন্য। দুপুরে এসে এখানে খাবার খাবেন। মনে রাখার মতো একটা লাঞ্জ হবে আপনার এখানকার হোটেলগুলোতে বিভিন্নরকম শাক পাওয়া যায়। বলতে পারেন সব শাক।

পুইশাক, লালশাক, পালং শাক, ডাটা শাক, সজনে শাক, কলাই শাক, আছে সরিষা বাটা, ডাল বাটা, সজনে বাটা, রয়েছে হরেক রকমের ভর্তা। আর সামুদ্রিক মাছের বারবিকিউ এখানকার নতুন সংঙোজন। রয়েছে রুপচান্দা, ভেটকি, চিংড়ি আর কোরাল মাছের বারবি কিউ বলেন আর কি চাই।

দুপুরের খাবারের পর আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখলেন। বিকালে নদীর কুলে বসে গল্প কিংবা গান করলেন। এখানকার খালি প্লটগুলোতে আছে কিছু পরিবারের বসবাস। বিকাল বেলায় তারা পসরা সাজায় ঘরে বানানো পিঠা কিংবা চায়ের। এদেরকে বললেও এরা অনেক সময় হাস কিংবা কবুতর রান্না করে খাওয়ায়। বিশেষ করে গ্রাম থেকে আনা হাঁস জবাই করে ওরা আপনার ফরমায়েশ মত রান্না করে খাওয়াবে।

পূর্বাচল ১ নং সেক্টরে একরকম বেআইনি ও অস্থায়ীভাবে গড়ে উঠা এই বাজারের নেতিবাচক দিকগুলো এবার জেনে নিন। এটা অস্থায়ী সব ঘর। টিন বাঁশ আর প্লাস্টিকের চাউনি। ভেতরের রাস্তা বাজারের গলি পাকা নয়। তবে বেলে মাটি বর্ষায় কাঁদা না হলেও শুকনো মৌসুমে একটু ধুলি হয়। তবে তাতে মানুষের আকর্ষণ কিন্তু মোটেই কমে না। বরং ছুটির দিনে বিকেল বেলা সেখানে বসার জায়গা খুজে পাওয়া মুসকিল হয় বিশেষ করে সামনের দিকের রেস্তোরাগুলোতে। মিষ্টির ব্যাপারে আপনার কনফিউশন থাকতে পারে। তাতে স্যাকারিং এবং রং  এর ব্যাপারে কিন্তু চাপ আর সবজি তরকারী অসাম লাগবে।

তবে সব কিছুরই দাম বেশী। সেটা চাপ কিংবা সব্জি। প্রথম দিকে আশপাশের গ্রাম থেকে সবজী আসলেও এখন চাহিদার কারণে বাইরে থেকেও আসে।  মাছের চাপ আর মিষ্টির দাম কিন্তু কোনো ক্ষেত্রে ডাবল নেয়। আর একটা কথা বালু নদীর শাখা নদীতে ঘুরাটা মজার নয় কারণ পানিতে দূর্গণ্ধ আছে। অবশ্য তারপরও কিছু লোক নৌকায় ঘুরে।

কিভাবে যাবেন

কুড়িল আসতে হবে। এখান থেকে অটোতে ভোলানাথপুর। নিজের গাড়ি থাকলেতো কথাই নেই।  তবে এখানে এখনো বাস কিংবা রিকসা চলাচল শুরু হয়নি।

লেখা ও ছবি: জাহাঙ্গীর আলম শোভন

 

Published : আগস্ট ২১, ২০১৭ | 9875 Views

  • img1

  • Helpline

    +880 1709962798