স্কুলেতে চলো

Published : আগস্ট ১৫, ২০১৭ | 994 Views

স্কুলেতে চলো

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

(পায়ে হেঁটে দেশ ভ্রমণের স্মৃতি নিয়ে লেখা)

হ্যাঁ প্রায় প্রতিদিনই এক দুটো স্কুলে গিয়েছি। দেখবো বাংলাদেশ গড়বো বাংলাদেশ স্লোগানটা ব্যাখ্যা করেছি। ওই বয়সে নীতিকথা শুনতে ভালো লাগে, বড়ো হয়ে ভালো কিছু করার স্বপ্ন মানুষ এই বয়সে দেখে। হয়তো সবাই বড়ো হয়ে আর সে স্বপ্নের পথ ধরে চলে না, চলতে পারে না। আর যারা এই বয়সে ইতিবাচক স্বপ্ন বুনতে পারে না তাদের পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে। একথা স্বীকার করতে হবে আমাদের সমাজ ব্যবস্থা, শিক্ষা ব্যবস্থা এবং প্রচলিত ধর্মচর্চার ধারাতেও বড়ো বড়ো ফাটল আছে। তা না হলে খুনি, সন্ত্রাসী আর চাঁদাবাজ, খুনি অথবা উগ্রবাদী বা জঙ্গি তৈরী হচ্ছে কেন?

আমারো মোটেই ভালো লাগছেনা সুন্দর একটি ভ্রমণ গল্পের মাঝে রক্তারক্তি কান্ড ঘটাতে বা এসব খুন খারাবির কথা লিখতে কিন্তু কি করবো আজ সমাজ সংসার সর্বত্র সামাজিক, রাজনৈতিক অপরাধ এতটাই দানা বেঁধে উঠেছে। কোনোভাবেই এর বাইরে যেতে পারি না, পারছি না। আমার গায়ে বোম পড়েনি বিধায়, আমার বাপ গুলিবিদ্ধ হয়নি বিধায় কিংবা আমার ভাই জঙ্গি হামলায় জড়িত নয় অথবা আমার আত্মীয় বাস দূর্ঘটনায় মরে যায়নি বলে আমি কখনোই ভাবি না যে আমি এসব দ্বারা আক্রান্ত হয়নি। অন্যরা আক্রান্ত হয়েছে আমি বরং চুপ থাকি, আমার তাতে কি?

সেটা ভাবতে কেউ পারে না, যে দেশকে ভালোবেসেছে, দেশের মানুষকে ভালেবেসেছে, এদেশের আলো বাতাস মাটিকে অন্তপ্রানে ভালোবেসেছে। সে প্রতিবার ধর্ষিত হয় যতবার ধর্ষিত হয় আমার বাংলা মায়ের সন্তান, সে ততবারই গুলি খায় যতবার গুলিবিদ্ধ হয় বাংলা মায়ের সন্তান, সে বারবার গুম হয়ে যায় যখন গুম হয় বাংলার কোনো পিতার সন্তান। তাই এতসব হতাশকরা সড়ক দূর্ঘটনা, সেনানিবাসের ভেতরে তরুনির লাশ, পুলিশের এনকাউন্টার, জঙ্গিদের বোমা হামলা সব কিছুকে ধিক্কার দিয়ে হতাশার চাদর ঢাকা আশাটাকে ঘুম পাড়িয়ে রাখি আপাতত আগামীকাল জাগিয়ে তুলবো বলে আর সে একই কারণে আগামী দিনের নাগরিকদের কাছে কেঁদে কেঁদে বলি, দেশকে ভালোবাসার কথা, দেশের মানুষের জন্য কাজ করার কথা। দেশ ভালো থাকুক, খারাপ থাকুক কোনো পরিস্থিতিতে আমি এর চেয়ে অন্যকিছু ভাবতে পারি না।

বগুড়ায় প্রবেশের পর ভরিয়া দ্বিমুখী উচ্চ ‍বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে শ্রেনীকক্ষে গিয়ে ভাব বিনিময় করলাম। কিছু হাসি মজা করে সেখান থেকে বিদায় নিলাম। সেদিন সন্ধ্যায় আমি তখন বগুড়া শহরের নিকটে এই মোটর বাইক আরোহী গাড়ী থামিয়ে তার পরিচয় দিলেন তিনি ছিলেন ভরিয়া দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। রাত ৮টায় তিনি হয়তো আশা করেন নি দুপুর বেলায় দেখা হওয়া পরদেশী পথিককে অন্ধকার পথে ঘর্মাক্ত ও ক্লান্ত দেহে নিজের অচেনা অজানা একটা এলাকায় যেটা আবার নিজেরে এলাকা থেকে শত কিলোমিটার দূরে সেখানে নির্জণ পথে হাঁটতে দেখবেন। কারণ চাইলেইতো এই অচেনা আঁধার পথে কোনো বাস কিংসা সিএনজি না হলেও ভ্যার ট্রলিতে উঠে যাওয়া যায়। তাই আমার সাথে রাস্তায় দেখা হওয়া তার জন্য  প্রত্যাশিত ছিলো না মনে হলো। হয়তোবা ভুলেও গেছেন। তার চোখেমুখে অবাক হওয়ার চিহ্ন দেখেছি আমি। হয়তো তিনি ভাবছেন কি এমন কাজ এটা যার জন্য একহাজার কিলোমিটার এত কষ্ট করে হাঁটতে হবে, তাও আবার এই গরমে সকাল থেকে সন্ধ্যা হেটেও শেষ করা যায়নি যে হাঁটা। এবং হয়তোবা কিছুটা সহানূভূতিও ছিলো যে, এজন্য রাতের অন্ধ্কারে যে লোকটা চাইলে কোনো ভেহিকেল সাহায্য নিতে পারতো তা না করে কৃত সংকল্প বাস্তবায়নে হেটেই চলছে সারাদিন। তার চোখের ভাষায় যেন এটাই বলছিলো।

এলাকাটার নাম ভরিয়া। নামটা সুন্দর একটা ইতিবাচক ইতিবাচক ভাব আছে নামটার ভেতরে। একসময় স্কুল প্রতিষ্ঠা হওয়াই বড়ো ব্যাপার ছিলো কিসের আবার সাইন্স আর্টস কমার্স। এখনতো এসব মামুলি ব্যাপার। তো যখন মানবিক এর পাশাপাশি বিজ্ঞান বিভাগ এলো তখন সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আবার সামর্থে কুলোতোনা আরেকটা সেকশান খোলার সেজন্য কোন স্কুলে কি কি বিভাগ আছে সেটা বোঝানোর জন্য মাধ্যমিক স্কুলগুলোতে নামে সাথে দ্বিমুখী ও বহুমুখী কথাদুটো ব্যবহার শুরু হয় অবশ্য একমুখী টা আলাদা কের বলা হতো না। এখন অবশ্য এগুলো বলা হয়না। ভরিয়াতে দেখলাম যে এসব এখনো ভরিয়া রেখেছে।

Published : আগস্ট ১৫, ২০১৭ | 994 Views

  • img1

  • Helpline

    +880 1709962798