ঢাকার বয়স কত?

Published : আগস্ট ৭, ২০১৭ | 2410 Views

ঢাকার বয়স

ঢাকার বয়স কত?

ঢাকার বয়স কত? এই প্রশ্নের প্রতিষ্ঠিত জবাব হলো ৪শ বছর। কলকাতা নগরীর চেয়ে বেশী বয়স্ক ঢাকা অনেকেই তাই মনে করেন। কারো মতে ৮শ কারো মতে ১২ শ বছর ঢাকার বয়স।  আসুন প্রতিনি মতের স্বপক্ষে যুক্তিগুলো জেনে নেয়া যাক।

তিনটি প্রাদেশিক কাঠামো বা ইকলিমের মধ্যে ১৩৩৮ সালে সোনারগাঁয়ে স্বাধীনতা ঘোষণার মধ্য দিয়ে বাংলা দিল্লির নিয়ন্ত্রণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।  ১৬০৮ থেকে ১৬১০-এর মধ্যে মোগল সুবাদার ইসলাম খাঁর হাতে ঢাকার পতন এ স্বাধীনতার চূড়ান্ত অবসান ঘটায়। বাংলা পরিপূর্ণভাবে মোগল সুবার অন্তর্ভুক্ত হয়। সুবাদার ইসলাম খাঁ ঢাকাকে বাংলা সুবার রাজধানী করেন। সম্রাটের নামে ঢাকার নাম রাখেন জাহাঙ্গীরনগর। এভাবে প্রায় আড়াইশ বছর পর বাংলা আবার দিল্লির প্রদেশে পরিণত হয়। আর দ্বিতীয়বারের মতো প্রাদেশিক রাজধানীর মর্যাদা পায় ঢাকা।
প্রায় ৮০০ বছর আগেই ঢাকায় নাগরিক জীবনের সূচনা ঘটে এবং লিপিসাক্ষ্যে স্পষ্ট যে, প্রায় ৬০০ বছর আগে সুলতানি যুগে স্বাধীন বাংলার একটি ইকলিম বা প্রদেশের রাজধানী প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ঢাকায়। নরসিংদীর উয়ারী-বটেশ্বর প্রত্নস্থান থেকে শুরু করে ঢাকার আশপাশে অনেক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়েছে, যেগুলো রাজধানী ঢাকার ইতিহাসকে পিছিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ৮শ বছর।  সাভারের রাজাসন, হরিশচন্দ্র রাজার ঢিবি থেকে শুরু করে ডগরমুড়া প্রত্নস্থানের ঐতিহাসিকতা যেহেতু বৌদ্ধ ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িত, সেহেতু রাজধানী ঢাকার ইতিহাস রচনা করলে অবশ্যই কমপক্ষে পাল যুগ থেকে শুরু করতে হবে। আর সেভাবে চিন্তা করলে রাজধানী ঢাকার ইতিহাসকে পিছিয়ে নিতে হবে আট শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত।

এতে স্বাভাবিকভাবেই রাজধানী ঢাকার বয়স গিয়ে দাঁড়াচ্ছে কমপক্ষে হাজার বছরেরও বেশি। প্রায় ১২শ বছর। তবে শের শাহের আমলে ঢাকায় প্রশাসনিক রাজধানী ঘোষনা করা হলে ১৬০৪ সালে দিল্লী থেকে লোক লস্কর পাইক পেয়াদারা ঢাকায় আছে। অবকাঠামো না থাকায় প্রথমে বজরা বা ণৌকার মধ্যে থেকে প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করা হয় পরে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়।

সুলতান নাসির উদ্দিন মাহমুদ শাহের (১৪৩৬-১৪৫৯ খ্রি.) সময় উত্কীর্ণ এ শিলালিপি দুটির একটি থেকে স্পষ্টতই ধারণা করা যায়, ঢাকা তখন ‘ইকলিম মুবারকাবাদের’ অন্তর্গত ছিল।  ইকলিম মুবারকাবাদ নামাঙ্কিত শিলালিপিটি পাওয়া গেছে বর্তমান কেন্দ্রীয় কারাগারের কিছুটা পশ্চিমে গিরিদাকিল্লা নামের মহল্লায়— নাসওয়ালা গলি মসজিদের সামনের একটি তোরণের গায়ে। মসজিদ আর তোরণের অস্তিত্ব এখন নেই।

শিলালিপি সূত্রে জানা যায়, মসজিদটি ৮৬৩ হিজরি অর্থাত্ ১৪৫৯ সালে নির্মিত হয়েছিল। এটি সরকারি উদ্যোগে নির্মিত হওয়ায় সমকালীন সুলতান নাসির উদ্দিন মাহমুদ শাহের নাম উত্কীর্ণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা হিসেবে খাজা জাহান নাম লেখা হয়েছে। আর নির্মাণ অঞ্চল হিসেবে লেখা হয়েছে ‘ইকলিম মুবারকাবাদ’। অর্থাত্ পনেরো শতকের মাঝপর্বে পুরান ঢাকা ইকলিম মুবারকাবাদের রাজধানী ছিল এবং গভর্নরের দায়িত্বে ছিলেন খাজা জাহান উপাধিধারী কেউ। এই হিসেবে ঢাকার বয়স ৮শ বছর।

সূত্র: দেখব বাংলাদেশ, গড়ব বাংলাদেশ, জাহাঙ্গীর আলম শোভন

Published : আগস্ট ৭, ২০১৭ | 2410 Views

  • img1

  • Helpline

    +880 1709962798