নির্বাচিত দিনাজপুর: দিনাজপুর ভ্রমণ

Published : আগস্ট ১, ২০১৭ | 1776 Views

 নির্বাচিত দিনাজপুর

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

দিনাজপুর ইতিহাস ঐতিহ্যমন্ডিত এক জেলা। আজ দিনাজপুরের কয়েকটি ভ্রমণ স্থান সম্পর্কে জানা যাক। লেখাটি ২০১৬ সালে আমার পায়ে হেঁটে তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ ভ্রমণের স্মৃতি নিয়ে লেখা।

 চোখের সামনে কান্তজিউ মন্দির

চোখের সামনে কান্তজিউ মন্দির দাড়িয়ে আছে। আমার সামনে ইতিহাস নাকি আমি ইতিহাসের সামনে সেটা বুঝতে পারছিলাম না। দু চোখ ভরে মন্দিরের ছবি তুললাম। তখন সেখানে এক শিশুর অন্নপ্রসাণ চলছিলো দুপুরে চলছিলো নানাবয়সী ভক্তদের খাওয়া দাওয়া।

দিনাজপুরে কান্তজীর মন্দিরের পাশে যে মসজিদটি রয়েছে। সেটিও প্রায় সমসাময়িককালের েএই মসজিদটি প্রাদপ্রদীপের আলো থেকে বঞ্ছিত। আমার মনে হয় এটাকে আরো প্রমোট করা উচিত এবং এর উন্নয়নে কিছু কাজ করা দরকার।

কান্তজিও মন্দিরের সংস্কার করা হয়েছে কয়েকদফা, আশপাশে সৌন্দর্যবৃদ্ধি করা হচ্ছে। পুরনো একটি স্থাপনার জন্য নতুনে সৌন্দয্যেৃরে চেয়ে পুরনো ইতহাস গুরুত্বপূর্ণ তাই সেটাও খেয়াল রাখা উচিত।

 

রামসাগর পাড়ে

এ সময় রাজা একদিন স্বপ্ন দেখলেন গভীর দিঘী খনন এর মাধ্যমে এই জলকষ্ট দূর করা যায়। তারপর শুরু হলো মহাযজ্ঞ। হাজার হাজার শ্রমিক মজুর ঝুড়ি কোদাল নিয়ে নেমে পড়লেন কাজে। তারপর একদিন শেষ হলো খনন কাজ। কিন্তু হায় দিঘীতে যদি জল না থাকে, কি হবে এই দিঘী দিয়ে? জল তো আর উঠেনা। প্রায় ৩০,০০০ টাকা খরচ করে ১৫,০০,০০০ শ্রমিকের ঘামের বিনিময়ে তৈরী কাজ কি ব্যর্থ হবে তবে।

তারপর আবার স্বপ্ন। স্বপ্নাদিষ্ট রাজা, দীঘির মাঝখানে একটি ছোট মন্দির নির্মাণ করেন। তারপর এক ভোরে যুবরাজ রামনাথ সাদা পোষাকাচ্ছাদিত হয়ে হাতির পিঠে চড়ে যাত্রা শুরু করলেন সেই দীঘির দিকে। দীঘির পাড়ে পৌঁছে যুবরাজ রাম সিঁড়ি ধরে নেমে গেলেন মন্দিরে। সঙ্গে সঙ্গে দীঘির তলা থেকে অঝোর ধারায় পানি উঠতে লাগল। চোখের পলকে যুবরাজ রামনাথসহ পানিতে ভরে গেল বিশাল দীঘি। চিরদিনের জন্য যুবরাজ রাম হারিয়ে গেলো দিঘীর জলে। সেই থেকে দিঘীর নাম হলো রাম সাগর। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দিঘী এবং দেশের সবচেয়ে বড় দিঘি এবং সবচেয়ে ছোট জাতীয় উদ্যান রয়েছে এর পাশে।

 

পুরনো মন্দির

রামসাগরের উত্তর পাড়ে একটি পুরনো মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ পেলাম। কিন্তু দিক নির্দেশনা কিংবা কিতাবাদিতে এর কোনো বিবরণ পাইনি মনে হলো যেন এটা আমিই প্রথম আবিষ্কার করলাম। অথচ এর নির্মাণশৈলী নির্মাণ কাঠামো, মন্দিরগাত্রে শিলা, অলংকার, নকশা সকল বিবেচনায় একে একটি দেখার বা বুঝার এক কথায় প্রত্নতাত্বিক স্থান বলে মনে হলো। অন্তত ছবি দেখেও তাই মনে হবে বৈকি?

 

৭১ এর যোদ্ধাদের ৭২ এর গণ কবর    

দিনাজপুর ট্র্যাজেডি দিবস আজ৭২ সালের এ দিনে ৫ শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হনদিনাজপুর প্রতিনিধি আজ ৬ জানুয়ারি। দিনাজপুর ট্র্যাজেডি দিবস। ১৯৭২ সালের এই দিনে দিনাজপুরের মহারাজা স্কুলে মুক্তিযোদ্ধা ট্রানজিট ক্যাম্পে এক আকস্মিক মাইন বিস্ফোরণে ৫ শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। অনেকেই আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেন। ইতিহাসের পাতায় এই দিনটি একটি শোকাবহ দিন।
দিনাজপুরের মুক্তিযোদ্ধারা বিজয়ের পরপরই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পুঁতে রাখা মাইন অপসারণে নেমে পড়েন। এ কারণে দিনাজপুর শহরের উত্তর বালুবাড়ীর মহারাজা স্কুলে স্থাপন করা হয়েছিল মুক্তিযোদ্ধা ট্রানজিট ক্যাম্প। এখানে অবস্থান নিয়ে প্রায় ৮ শত মুক্তিযোদ্ধা উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন স্থান থেকে মাইন অপসারণ করে জড়ো করছিল এই ক্যাম্পে। ১৯৭২ সালের ৬ জানুয়ারি ঠিক মাগরিবের নামাজের পর দুটি ট্রাক থেকে মাইন নামানোর সময় হঠাৎ এক মুক্তিযোদ্ধার হাত থেকে একটি মাইন ফসকে পড়ে যায় জড়ো করা মাইনের ওপর। তৎক্ষণাৎ জড়ো করা হাজারো মাইন বিস্ফোরিত হয়। কেঁপে ওঠে গোটা দিনাজপুর। সেখানে অবস্থান নেয়া ৫ শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা প্রাণ হারান। শত শত মুক্তিযোদ্ধা আহত হন। মুক্তিযোদ্ধাদের শরীরের ছিন্ন ভিন্ন অংশ ছিটকে গিয়ে পড়ে আশপাশে এবং গাছের ডালে। মুক্তিযোদ্ধাদের এসব ছিন্নভিন্ন অংশ জড়ো করে সমাহিত করা হয় সদর উপজেলার চেহেলগাজী মাজারে। সেখানে তাদের গণকবর দেয়া হয়।

মহান মুক্তিযুদ্ধের পর সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে এরকম এটিই একমাত্র ঘটনা। কিন্তু এই স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য সরকারিভাবে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ৬ জানুয়ারি স্মৃতি পরিষদ প্রতি বছর এ দিবসটি পালন করলেও সরকারিভাবে দিবসটি পালনের কোনো উদ্যোগ নেই। ৬ জানুয়ারি স্মৃতি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুলতান কামাল উদ্দিন বাচ্চু জানান, মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে এতবড় ঘটনা আর একটি নেই। নতুন প্রজন্মকে বিষয়টি জানানোর জন্য ৬ জানুয়ারি স্মৃতি পরিষদ এ ঘটনাটি পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছে।

ধান নদী চাতাল

ধান নদী আর চাতালপুর এর নাম হতে পারে দিনাজপুর। ধান নদী আর রাইসমিল এই তিনটা এখানে একসূত্রে গাঁথা। মাঠ ঘাট প্রান্তর জুড়ে সবুজ সমারোহের ধানক্ষেতে ফলানো রাশি রাশি সোনালী স্বপ্ন কৃষকের বারান্দাটুপির শৈল্পিক দোতনার মাঝ দিয়ে কৃষাণীর অবিশ্রান্ত কোমরে বাঁধা শাড়ির আঁচলের বুননি চাষী শিশুর ফোকলা দাঁতের মায়াময় হাসিতে একাকার যেন ভবিষ্যতের দিন গোণা। ক্ষয়ে যাওয়া নদীর হারানো যৌবনের মাঝেও এর বুক চিরে নৌকা কিংবা আধুনিক যান অথবা কৃষকের মাথায় বয়ে যায় সোনালী দানের ভার। কৃষকের কাছ থেকে চাতালে এসে ধান হয়ে যায় চাল মাঝখান দিয়ে একটা সময় ও পক্রিয়া। এটা সম্পন্ন হয় চাতালে। যুগ যুগ ধরে ধান আর ধানের চাতাল বা রাইসমিল এখানকার সবকিূছতে বিশেষ করে বণিক বিদ্যায় এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে। ধান চাল ভূষি খৈলেএসবরে নানা কায় কারবারে জমজমাট এখানকার হাট ঘাট বন্দর।

Published : আগস্ট ১, ২০১৭ | 1776 Views

  • img1

  • Helpline

    +880 1709962798