বড় কমলদহ এবং নাপিত্তাছড়া ট্রেইল

Published : জুলাই ২৯, ২০১৭ | 1377 Views

বড় কমলদহ এবং নাপিত্তাছড়া ট্রেইল
রাত ৮ টা, মাত্রই টিমের ১২ জনের জন্য ঢাকা টু সীতাকুন্ড চট্টগ্রাম মেইল ট্রেনের টিকেট কাটা শেষ করলাম। এখন ট্রেনের সিট দখল করার যুদ্ধ শুরু করার জন্য ২ নং প্লাটফর্ম এর ৩৮ নাম্বার পিলারের কাছে দাড়ালাম। লোকাল বগি ৩৬ থেকে ৪০ নাম্বার পিলার পর্যন্ত থাকে। ট্রেন যদিও ৯ টা থেকে ৯:৩০ মধ্য প্লাটফর্মে থাকার কথা ছিল। সেই ট্রেন আসলো ১০ টায়। ট্রেন আসার সাথে সাথেই শুরু হল যুদ্ধ।

১২ জনের মধ্যে ৮ জনই ট্রেনের জানালা দিয়ে ঢোকার সৌভাগ্য অর্জন করলাম। উঠেই সিট দখল করলাম। বাকি ৪ জন রাজার হালে দরজা দিয়েই প্রবেশ করল। ১০: ৩০ শুরু হল আমাদের ট্রেন যাত্রা। সারা রাত নির্ঘুম কাটল সবার। সকাল ৭ টায় নামলাম সীতাকুন্ড স্টেশনে। নেমেই চলে আসলাম ৫মিনিট দুরুত্বের সীতাকুন্ড বাজারে। খুজে বের করলাম হোটেল সাইমুন। ১০ জনের জন্য নিলাম ২ টা ডাবল রুম। এখানে একটা কথা বলে রাখা ভাল যারা মহিলা সদস্য নিয়ে যাবেন তাদের জন্য এই হোটেল না। তাই বাধ্য হয়ে আমাদের বাকি দুইজনের জন্য হোটেল সন্দীপে এক রুম ঠিক করতে হয়। হোটেল সাইমুন থেকে হোটেল সন্দীপের পরিবেশ ভাল ও খরচও বেশি।

আমরা সকালের নাস্তা শেষ করে ছোট লেগুনা ঠিক করে চলে গেলাম বড় দারগার হাট। লেগুনা আমাদের বড় দারগার হাট থেকে ১০ মিনিট হাটার দুরুত্বে ইটখোলার সামনে নামিয়ে দেয়। ইটখোলার পাশের রাস্তা দিয়ে ২০ মিনিট হাটার পরে রেল লাইন পেলাম। সেখান থেকে আরো ১৫ মিনিট হাটার পরে বড় কমলদহ এর ঝিরি পেলাম। কিন্তু টানা ৪ দিনের বৃষ্টিতে ঝিরি অবস্থা ছিল ভয়ংকর। বড় কমলদহ গা বেয়ে উপরে উঠা এক কথায় অসম্ভব। তাই আমরা পরিকল্পনা পরিবর্তন করলাম। প্রথমে গাইড নেওয়ার ইচ্ছা না থাকলেও বাধ্য হয়েই গাইড নিলাম। আমাদের ইচ্ছা ছিল কমলদহ দিয়ে ঢুকে উপরের সব ঝর্না দেখে ফটিকছড়ি-বারৈয়াঢালা রাস্তার বারৈয়াঢালা দিয়ে বের হবার। কিন্তু এখন যেতে হবে উল্টো পথে।

বারৈয়াঢালা দিয়ে ঢুকে কমলদহ দিয়ে বের হতে হবে। সকাল ৯ টায় শুরু হল আমাদের ট্র্যাকিং। যাত্রা শুরু হওয়ার সাথে সাথেই গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি মুষলধারায় পরিবর্তিত হয়ে যায়। যত ভিতরের দিকে ঢুকতে থাকি ততই ঝিরির পানি বাড়তে থাকে সাথে বৃষ্টির পরিমানও। শাখা ঝিরি শেষ করে যখন মূল ঝিরিতে ঢুকি তখন পানি কোথাও কোমর সমান কোথাও আবার বুক সমান। বৃষ্টি বাড়তে থাকায় আমরা বড় কিছু ঝর্না না দেখেই সেইদিনের মত ট্র্যাকিং শেষ করি। সীতাকুন্ডে আসতে আসতে বিকাল ৪ টা বাজে।

বিকেলের পরিকল্পনা ছিল বাশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত। কিন্তু বৃষ্টির কারনে তা বাতিল করা হয়। তার উপর অনেকেরই জীবনের প্রথম পাহাড় ভ্রমনের কারনে সবাই ছিল ক্লান্ত ও বিদ্ধস্ত।বিকেলটা সবাই ঘুমিয়েই কাটা। রাত ৮ টার দিকে রাতের খাবার শেষ করে আবার সবাই ঘুম। পরদিন সকাল, আমরা হোটেলে চেক আউট করে ব্যাগপত্র নিয়ে বের হয়ে যাই। বাসে করে চলে যাই নয়দুয়ারীর হাটে। রাস্তা পার হয়েই ১০/১২ টা মুদির দোকান পাই। সেখান থেকেই গাইড নিয়ে নাপিত্তাছড়ার দিকে রওয়ানা দেই। পথিমধ্যে সকালের নাস্তা শেষ করি এবং গাইডের বাসায় ব্যাগপত্র, মোবাইল রেখে ট্রেইলের দিকে রওয়ানা দেই। তখন টানা বৃষ্টি চলতে ছিল।

আমাদের পুরো ট্রেইল শেষ করতে সময় লাগে ৬ ঘন্টা। ঝিরিতে পানির স্রোত বেশি থাকার কারনে যেই পথে গিয়েছি সেই পথে না এসে অন্য পথে আসার কারনে এত সময় লেগেছিল। তবুও ঝর্নায় সর্বোচ্চ পানি পাওয়ায় সবারই কষ্ট সার্থক হয়েছিল। আমরা দুপুরের খাবার জন্য বড়তাকিয়ায় চলে আসি।আমাদের পরিকল্পনা ছিল খৈয়াছড়া দেখার কিন্তু সময় ও সবার অনিহার কারনে আর যাওয়া হয়নি। আমরা বড় তাকিয়া থেকে বারৈয়ার হাট চলে আসি। সেখান থেকে সরাসরি ঢাকার বাসে উঠি। যখন ঢাকা পৌছাই তখন রাত ১০ টা।
জীবনের স্বরনীয় এক ভ্রমন ছিল আমাদের সীতাকুন্ড ভ্রমন।
আমাদের জনপ্রতি খরচ হয়েছিল ১১০০ টাকা।
ছবির বিবরন
১- ধুপতলী ঝর্না
২- ছোট ঝর্না
৩- পাথর ভাঙ্গা ঝর্না
৪- নাপিত্তাছড়ার ঝিরির পানির স্রোত
৫- কুপিকাটাকুম ঝর্নার আগের ক্যাসড্যাক।
৬- মিঠাছড়ি ঝর্না
৭- বান্দরকুম ঝর্না।

সূত্র: ট্রাভেলার্স অব বাংলাদেশ। পোস্ট: মাহমুদ বিন আনিস

Published : জুলাই ২৯, ২০১৭ | 1377 Views

  • img1

  • জুলাই ২০১৭
    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
    « জুন   আগষ্ট »
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • Helpline

    +880 1709962798