দিনাজপুরের প্রকৃতি ও জীবন

Published : জুলাই ২৭, ২০১৭ | 1220 Views

দিনাজপুরের প্রকৃতি ও জীবন

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

দিনাজ অথবা দিনারাজ নামে কোনো রাজন দিনাজপুরে তার রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।   ব্রিটিশ আমলে ঘোড়াঘাট সরকার বাতিল করে নতুন জেলা হয় দিনাজপুর। ১৭৬৫ সালে দেওয়ানি গ্রহণের ফলে দিনাজপুর জেলা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নিয়ন্ত্রণভুক্ত হয়। সেই সময় লক্ষনৌতী, বাজিন্নাতাবাদ, তেজপুর, পানজারা, ঘোড়াঘাট, বারবকাবাদ ও বাজুহা, এই ছয়টি স্থানীয় সরকারের অংশ নিয়ে দিনাজপুর জেলা গঠিত হয়। বহুকাল আগে থেকে দিনাজপুর চাষের জন্য বিখ্যাত। ক্রমে এখানে আম ও লিচু চাষ জনপ্রিয় হয়।১৭৮৬ সালে দিনাজপুর জেলা হিসেবে ঘোষিত হয়। একসময় নৌপথ এখানকার প্রধান যাতায়ত নির্ভরশীলতা ছিলো নৌপথে। বর্তমানে রাস্তাঘাটের উন্নয়ন ও নদীগুলো শুকিয়ে যাওয়ার কারণে সব আমুল বদলে গেছে। এখনো এখানে কদাচিত নৌকা ও গরুরগাড়ী চলতে দেখা গেলেও একসময় এগুলো এখানকার প্রধান জনবাহন।

দিনাজপুরের দিগন্তজুড়ানো শষ্য শ্যামল ফসলের মাঠ দেখে মন আকুল হবে। জমির পর জমি আলুখেত তাতে আলু তুলতে ব্যস্ত চাষী পরিবার। পরিবারের সব সদস্য হয়তোবা আজ মাঠে। কারণ জমিতে আজ সোনা উঠবে। সে ফসলে চাষী পরিবারের রিযিকের ফায়সালা তা তার কাছে সোনার চেয়েও দামী হয়ে থাকবে। এক নির্জণ দ্বীপে এক ‍বাক্স সোনার চেয়ে এক ঝুড়ি খাবারের মূল্যই বেশী হবে যেকোনো মানুষের কাছে। বীজতলা থেকে ধানের বীজ তোলা হচ্ছে জমিতে বোনা হবে বলে। এসব ফসলে শুধু কৃষকের জীবন জীবকিাই চলে না। আমরা যারা নগর জীবনের ইট বালু সিমেন্টর আদলে বসে মাটি না ছোঁয়ার শুচিবায়ুতে ভুগি তারাও বাজার থেকে সেই চাষীদের চাষ করা চাল ডাল আলু কিনে আনি, তারপর সেদ্ধ করার পর ভুলে যাই এসবরে সূত্রাসূত্র।

কখনো চোখের দিগন্তজুড়ে ভূট্টার খেত কখনো মূলার ফুল যেন বারওয়ারী দুয়ারে ক্যানভাসে আঁকা কোনো দূর গাঁয়ের কাল্পনিক ছবি। কিন্তু সেসব যখন চোখের সামনে উজ্জল তখন আর কল্পনাবিলাসের কি দাম ? আমি বরং মুখে পুরে দিই মুলাফুলের ডাঁটা। দারুন ঝাঁঝ ও মিস্টি স্বাদে ভরে যায় মুখ। না এ স্বপ্ন কিংবা কল্পনা নয় এ এক বাস্তবের মেলবন্ধন। মানুষ আর প্রকৃতি যেখনো মোহনা বানায় সেখানে তাদের বিনিময়ের এক আদিগন্ত খেলা চলে অবিরাম। হয়তো এভাবে মানুষে গাছে, মানুষে মাটিতে আর মানুষে প্রকৃতিতে এক অমোঘ বন্ধন রচনা করে পৃথিবীটা ঘুরে চলেছে দিনমান বেলা অবেলায়।

সোনালী ধান কেটে ঘরে ফেরা কৃষকের সারি সারি পা, রাস্তা ধার ধরে বামুন কলা গাছের বাগান। সারি সারি সাজানো আমের গাছ। সবই যেন কথা বলছে। ভাবুক মন কখনো হয়তো তাদের সাথে সংলাপে মেতে উঠে যখন একা চলি আপন মনে পিচঢালা পথের ধার দিয়ে।

(পায়ে হেঁটে তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ ভ্রমণের স্মৃতি নিয়ে লেখা)

Published : জুলাই ২৭, ২০১৭ | 1220 Views

  • img1

  • জুলাই ২০১৭
    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
    « জুন   আগষ্ট »
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • Helpline

    +880 1709962798