চৌদ্দগ্রামের সাত কথা

Published : জুলাই ২৬, ২০১৭ | 1118 Views

চৌদ্দগ্রামের সাত কথা

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

নকল্যান্ডের বাসিন্দা, ভাবছেন এটা আবার কোনদেশ? জাতিসংঘের কততম সদস্য। তবে এটা কোনো দেশ নয়। কিন্তু এর জনসংখ্যা পৃথিবীর অনেক ছোটখাটো দেশের চেয়ে বেশী। কারণ আমরা যে জনসংখ্যার ঘনেত্বে চ্যাম্পিয়ন। এটা আমার কথা নয় গিনেস বুক অব রেকর্ড বলছে। আমি বলেলে আপনারা বিশ্বাস নাও করতে পারেন। আর নকল্যান্ড হলো এই দেশের একটা অঞ্চল।

নোয়াখালীতো আমরা চিনি। ভারতের অনেক প্রদেশ এমনকি আফ্রিকাতেও অনেক লোক আছে। বাংলাদেশের তিনটা এলাকার নাম জানলে তিন নম্বরটা অবশ্যই নোয়াকালি হয়ে থোকে। এর হাকিকত আমি জানি না। তবে নকল্যান্ডের হাকিকত বলতে পারবো।

নোয়াখালি ভাষা, সাহিত্য ও লোক সংস্কৃতিতে একটা স্বতন্ত্র ধারা রযেছে। কুমিল্লা আর চট্টগ্রাম তার চেয়ে একটু আলাদা কিন্তু তা সত্বেও চট্টগ্রামের মিরশ্বরাই, চাঁদপুরের হাজিগঞ্জ, কুমিল্লার লাঙ্গলকোট, লাকসাম এবং চৌদ্দগ্রাম বৃহত্তর নোয়াখালীর সাথে সীমান্তযুক্ত এবং ভাষা ও কালচারে মিল রয়েছে। আমি যেন কবে থেকে এই পুরো এলাকার নাম দিয়েছি নকল্যান্ড।

চৌদ্দগ্রামে হাঁটার স্মৃতি, মজার ব্যাপার হলো এই চৌদ্দগ্রামে আমার পায়ে হাঁটার লম্বা একটা স্মৃতি আছে। ১৯৯৬ সাল হবে চ্যেদ্দগ্রামের জঙ্গলপুর গ্রাম থেকে হেঁটে রাতের বেলায় মহাসড়গকে উঠেছিলাম , পথটা আট দশ কিলোমিটারের কম নয়। এটাই মনে হয় আমার বেশী হাঁটার প্রথম স্মৃতি হয়ে থাকবে। গেছিলাম এক দাওয়াতে, গল্পে গল্পে রাত হয়ে এলো ফেরার সময় কোনো বাহন পাওয়া গেলো না। মানে রিক্সা পাওয়া যায়নি, বাসের পথ সেটি নয় আর তখন সিএনজি চালু হয়নি। শহর থেকে রাতে গ্রামে যাওয়ার জন্য বেবিট্যাক্সি মিলত কিন্তু পাড়াগ্রাম থেকে শহরে আসার জন্য? সেতো সোনার হরিণ, তা পেতে হলে চ্যাক্সি ওয়ালার বাড়ির পাশে বাড়ি বানাতে হবে বৈকি?

যমুনার জল দেখতে কালো, স্মান করিতে লাগে ভালো, আচ্চা যমুনার জল কি দেখতে আসলে কালো? যমুনায় গোসল করতে কি আসলে ভালো লাগে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আপেক্ষিক হয়ে থাকবে। কিন্তু যমুনা বোডিং এর ব্যাপারে আমি আপনাদের ঠিক ঠিক ডেটা দিতে পারবো। শুয়াগাজী বাজার থেকে কোয়াটার কিলোমিটার আগে একটা আবাসিক হোটেল। একুশটা রুম আছে। বেশীরভাগ রুমই বুকড থাকে। ভাড়াও কম নয়। আলো বাতাস পাওয়া যায় এরকম একটা বড়ো রুমে আমি একরাত ছিলাম। অবাক হলাম এরকম জায়গায় এমন একটি গেস্টহাউস পেয়ে।

হাইওয়ে রেস্তোরা, ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের এই অংশে সব হাইওয়ে রেস্তোরার অবস্থান। আমি খুব ভাবি যখনই ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে গাড়ী ছাড়বে সব সময় বুঝি এখানে লাঞ্চ কিংবা ডিনারের টাইম হবে? নইলে এখানেই সব রেস্তোরা কেন? সবাই জানে একানে রেস্তোরা মানে হলো খাবার মোটামোটি টাইফ আর দামটা  হাইলেভেল এর। তবুও যাত্রীসেবা বলে কথা।

কিছু কিছু রেস্তরার সাথে ৫/৭/১০/১২ রুমের আবাসিক ব্যবস্থা রয়েছে। হায় আল্লাহ একটু দেখবো রুম গুলোর কোয়ালিটি কেমন না কোনো রুমই খালি নেই। সবরুমে ঘেস্ট আছে। কারণ হলো মহাসড়কের পাশে বিভিন্ন কারখানা ও ব্যবসায়িক প্রজ্টেকগুলোর সংশিবলষ্ট ব্যক্তিরা প্রায় এসে থাকেন। এটাই কারণ হয়ে থাকবে। তবে একটা পুরো ফাঁকা পেয়েছি আর সেদিন রাতে ওটাই ছিলো আমার ঠিকানা। বলছি দাড়ান।

বেহেল, বেহেল বুঝেনতো? তিনকোণা একটা জাল যেটা খালের মধ্যে চুবিয়ে বাঁশটেনে আবার উঠালে তাতে মাছ আসে। ছোটবেলায় কতো দেখেছি। এখন খাল গেছে ভরাট হয়ে, মাছ গেছে ফরাট হয়ে বেহেল গেছে বিলোফ হয়ে। কিন্তু এখানে ছিকন খালের মধ্যে কয়েকটা বেহেল দেখলাম। ভালো লাগলো গ্রাম বাংলার চিরান্তর রুপ দেখে।

ফুলেল ভালোবাসায়, বলছিলাম ফুল আর ফুলের ছবি তোলার কথা। পথে পথে মুগ্ধ হয়ে ফুলের ছবি তুলেছিলাম। কুমিল্লা আর চৌদ্দগ্রাম এর ব্যতিক্রম নয়। এখানে বেশকিছু নাম না জানা ফুলের ছবি তুললাম। নাম জানি না তাতে কি? নাম না জানার জন্য ফুলের সৌন্দর্য আর গৌরব কোনোটাইতো আর কমে যায়নি?

ফুটবল টূর্ণামেন্ট, এটা এই সফরে আমার দ্বিতীয় ম্যাচ। প্রথমটি হয়েছিলো তারাগঞ্জ রংপুরে প্রাইমারি স্কুলের ছাত্রদের সাথে। এটা চৌদ্দগ্রামের একগ্রামের দুষ্টু বালকদের সাথে। প্রায় ১০ মিনিটের মতো খেলেছি। দুইভাগ ভাগ হয়ে আজও আমার দল জিতেছে। হুররে।

জগন্নাথ দিঘী

এ অঞ্জলের বিখ্যাত দিঘী হলো জগন্নাথ দিঘী। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম সীমান্তে। তের তারিখ যাত্রা শুরু প্রাক্কালে সকাল বেলায় জগন্নাথ দিঘী অতিক্রম করেছিলাম। যারা এই সড়কে যাতায়াত করে থাকেন তারা জগন্নাথ দিঘীকে রাস্তার পাশে প্রত্যক্ষ করেন। ফেনীর মুক্তিযোদ্ধাদের শক্ত অবস্থান ছিলো জগন্নাথ দিঘীকে ঘিরে ১৯৭১ সালে জগন্নাথ দিঘীকে কেন্দ্র করে যুদ্ধ সংগঠিত হয়। ১৯৭১ সালের পত্র পত্রিকায় যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে জগন্নাথ দিঘী যুদ্ধক্ষেত্রকে ঘিরে। তা এরকম ‘‘ফেনীর মেজর জাফর ইমামের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধাদল চিওড়া গ্রামে অবস্থানরত পাকসেনাদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালায়। এই আক্রমণে পাকসেনারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় এবং ২৪ জন পাকসেনা নিহত হয়। কিছু পাকসেনা আহত অবস্থায় পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় ‘’|

ভিটা ওয়াল্ড:

২০০৫ সালে একজন জাপান প্রবাসীর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় ভিটা ওয়ার্ল্ড। মোটেল, রেস্টুরেন্ট ও থ্রি ডি পার্ক নিয়ে এক অনন্য আয়োজন। ঢাকা এবং চ্ট্গ্রামের ঠিক মাঝামাঝিস্থানে থেকে ১৩২ কিমি চট্টগ্রাম থেকে ১৩০ কিমি । েএখানে একরাত আমি থাকি। এখানেই আমার সফরে সবচে ব্যয়বহুল রাত কাটাই। পুরো ভিটাওয়াল্ডে সেদিন আমি একমাত্র বর্ডার ছিলাম।

ফুলেল ভালোবাসায়

সফরের সময় পথের ধারে নানা নাম জানা অজানা ফুলের ছবি তোলা ছিলো আমার শখ। হয়তো শ তিনেক জাতের ফুলের ছবি তুলেছিলাম। যেসব জেলায় সবচে বেশী ফুলের ছবি তুলতে পেরেছিলাম। তারমধ্যে কুমিল্লা েএকটি।

 

সীমান্তে মাদক:

চৌদ্দগ্রাম সীমান্ত এলাকা। সীমান্ত এলাকাগুলোর বদনাম হলো এসব এলাকায় ভারতীয় পন্যের ব্যাপক প্রচলত থাকে আর মাদকের প্রচুর চালান আসে। সত্যি বলছি কথাটা সত্যি কিনা আমি জানি না। কিন্তু সীমান্ত জেরাগুলোতে রিাস্তার পাষে বিভিন্ন স্থানে মদের বোতল বিশেষ করে পেণ্সির বোতল পড়ে থাকতে দেখেছি। কুমিল্লাকে শিক্ষা পর্যটন বা আইটি যেকোনো একটি বিষয়ে প্রাধান্য দিয়ে, এসবরে জন্য পর্যাপাত সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করে সেভাবে প্লান ভিত্তিক উন্নয়ন করা যেতে পারে। এতেকরে ঢাকার উপর ছাপ কমবে আর কুমিল্রায় পরিকল্পিত ও বিশেষায়িত উন্নয়নের ছোঁয়া লাগবে।

কুমিল্লায় হাইজিং কোম্পানীগুলো প্রচুর আবাদী ও কৃষিজমি অপরিকল্পিত ভাবে ভরাট করছে। মেঘা সিটি েপ্লানের আওতায় নিয়ে এসে এগুলোকে নিয়ন্ত্ন ও সমন্বয় সাধন করা উচিত। তা না হলে আগামী দিনে কুমিল্লার অবস্থা ঢাকার চেয়ে আরো বেশী শোচনীয় হতে পারে। আর ঢাকা চট্ট্রগাম মহাসড়কের পাশে জনবসতি বাড়ার ফলে তার চাপ এসে পেড়তে পারে মহাসড়কেও।

 

Published : জুলাই ২৬, ২০১৭ | 1118 Views

  • img1

  • জুলাই ২০১৭
    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
    « জুন   আগষ্ট »
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • Helpline

    +880 1709962798