মজার সব মানুষেরা

Published : জুলাই ২৫, ২০১৭ | 1092 Views

মজার সব মানুষেরা প্রেক্ষিত তেঁতুলিয়া থেকে হেঁটে টেকনাফ সফর

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

 

বলেছিলাম আমার পায়ে হেঁটে দেশদেখার সময় পথে পথে যেসব মজার মানুষদের সাথে দেখা হয়েছিলো তাদের নিয়ে একদিন লিখবো। তাই আজ লিখলাম।

আলমাছ আলী

আলমাছ আলী একজন মুক্তিযোদ্ধা। তারসাথে পরিচয় তেঁতুলিয়া ডাকবাংলোর পাশে। তাকে বাজার করে দিয়েছি। তিনি আমাদের জন্য দুপুরের রান্না করেছেন। আলমাছ আলী বর্তমানে ভ্যান চালান। তা দিয়ে তার সংসার চলে। দেশ ও সরকারের কাছ থেকে কিছু না পাওয়ায় তার ক্ষোভ সবসময় উপরে পড়ে। তার ধারণা স্থানীয় রাজনীতিবিদরাই তাকে বঞ্চিত করছে।

মোহন দাস

ইনি একজন গর্ববিত মুক্তিযোদ্ধা। থাকেন গোবিন্দগঞ্জ গাইবান্দায়। মুক্তিযোদ্ধা শুধু নয় তিনি এই এলাকার গেরিলা কমান্ডার। ছ ফূটের কাছাকাছি লম্বা। একেবারে শানবাঁধানো শরীর। দেখে মনে হয় এখন যদি যুদ্ধের ডাক আসে এখনি তিনি ঝাঁপিয়ে পড়তে পারবেন। হাতে সময় থাকলে তার কাছ থেকে গেরিলা যুদ্ধের নানা রোমাঞ্চকর গল্প শোনা যেত।

ট্র্যাক করে হোটেল পর্যন্ত

আমি তখন দিনাজপুরে। দিনাজপুরে আমার থাকার জন্য বাংলাদেশ পর্যটন করেোপরেশন থেকে মোটেল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কিন্তু সেদিন ৩৫ কিলোমিটারের মতো হাটার পর আমার আর এনার্জি কুলোয়নি যে মোটেল খুজে বের করবো। সামনে যেটা পেলাম সেখানেই থাকার আয়োজন করলাম। হোটেল মিগমার। চারু বাবুর মোড়। আমার অবস্থান নির্ণয়ের জন্য দিনরাত্রি ডট কম থেকে একটি লাইভ ট্যাকিং সার্ভিস দেয়া হয়েছিলো। তো যে েকেউ দেখতো পারতো যে আমি কোথায় আছি। এমনি অবস্থায় সেখানকার একজন অতিউৎসাহী লোক আমাকে ট্রাক করতে করতে খোদ হোটেলে এসে হাজির। আমি তখন খেতে  গিয়েছিলাম বাইরে। এসে দেখি দুজন লোক বসে আছে। হোটেলের ম্যানেজার বললেন যে এরা আপনার সাথে দেখা করতে চায়। পরে তিনি পরিচয় দিয়ে বলেলন যে তিনি কিভাবে হোটেলে এসে পৌছেছেন।

 

 নারায়নগঞ্জের শিক্ষিতলোক

নারায়নগঞ্জে আমি ছিলাম বেস পরিচালিত সোনারগাঁ গণবিদ্যালয়ের গেস্টহাউসে। পরেরদিন বের হয়ে সেখানকার বিভিন্ন পিকনিক হাউস ও হোটেল গুলোর রুম ট্যারিফ সম্পর্কে খবর নিচ্চিলাম। একটার পর একটা পিকনিক স্পটে যাছ্ছিলাম। এমন সময় আমার সামনে চশমাপরা এক হ্যান্ডসাম যুবক মোটর সাইকেলে করে এসে দাড়ালো। জানতে চাইলো আমি কি বিক্রী করছি। তো আমি আমার স্ট্রলার এর প্লেকার্ড তার সামনে ধরলাম। তিনি আবারো প্রশ্ন করলো আমি ইঁদুরের বিষ বিক্রি করছি কিনা? তার বাসায় নাকি অনেক অনেক ইঁদুর। আমি বললাম দেখুন এখানে লেখা আছে। সাধারনত আমি লোকজনকে যেকোনো প্রশ্নের উত্তর বাবলীল ভাষায় দিয়ে থাকি।িএই ভদ্রলোক একেবারে সামনে দাড়াণোয় তাকে লেখা দেকালাম। ওমা। তিনি ভয়নাক চটে গেলেন। আমার কাছে জানতে চাইলেন আমি বলদ না তিনি বলদ? আমি বুঝতে পারছিনা কি জবাব দেব। তিনি বললেন তিনি লেখাপড়া জানেন না, এজন্য মুখে শুনতে চান। আমি কেন তাকে লেখা দেখাছ্ছি। ওরে ব্বাহ! এই লোক লেখাপড়া জানে না, আমি অবাক হয়ে আবার ফিরে এলাম বুঝলাম হ্যাঁ লেখাপড়া জানলে আসলে তার আচরণটা এতটা খারাপ হতো না। বললাম ভাই আপনি নয় আমিও বলদ, আমি কেন বুঝলাম না আপনি লেখাপড়া জানে ন না। এটা আমারি বোঝার উচিত ছিলো। আমি নিজেকে বলদ বলে স্বীকার করেছি তাই তিনি ধন্যবাদ দিয়ে ঘোঁ ঘোঁ করে মোটর সাইকেল হাকিয়ে চলে গেলেন।

শেখ আবদুল বারেক

ইনি একজন সিএনজি ড্রাইভার চট্টগ্রামের বেশীরভাগ লোকই তাকে চেনেন। তার অনন্য কাজ হলো তিনি চট্টগ্রাম ব্লাড ব্যাংক নামে একটি স্বেচ্চাসেবী সংগঠনের সাথে যুক্ত। তার সিএনজির গায়ে রক্ত দেয়ার জন্য সচেতনতা মুলক বিভিন্ন স্লোগান লেখা রয়েছে। বিভিন্ন সময় তিনি রক্তদাতাদের তার সিএনজিতে বিনা ভাড়ায় বহন করেন।

 

একজন আনার মিয়া

যৌবনকালে বনে জঙ্গলে ঘুরে সময় কাটিয়েছেন জীবিকা নির্বাহ করেছেন। এখন সে এলাকা সরকার ইকোপার্ক ঘোষনা করেছে। আনার মিয়াও চলৎশক্তি হারিয়েছেন। তবুও অসুস্থ্য শরীরে প্রতিদিন লাঠি ভর দিয়ে ইকোপার্কের রাস্তা ধরে তিনি জঙ্গলে আসেন। ‍বনের গাছের সাথে পাখির সাথে কথা না বললে তার সময় যে আর কাটতে চায়না। তার সাথে দেখা হয়েছিলো। সীতাকুন্ড ইকোপার্কের ভেতরে।

সেলিম জ্বালালী

তিনি শাহজালালের ভক্ত। বাড়ী পশ্চিম লামাকাজী, সিলেট। ভবঘুরে সংসার বৈরাগী মানুষ। এখানে সেখানে পড়ে থাকেন। গায়ে বস্ত্র নেই। জীর্ণশীর্ণ শরীর। কেউ খেতে দিলে খান না দিলে পড়ে থাকেন।  সম্ভবত শাহজালালের মাঝারে আশপাশে ছিলেন দীর্ঘদিন। হঠাৎ তার শখ হয়েছে তিনি সিলেট থেকে হেঁটে কক্সবাজার যাবেন তাই তিনি দশমাস আগে হাঁটা শুরু করেছেন। তিনি আসলে একটানা হাটেন না। কোথাও মাজার পেলে সেখানে কয়েকদনি থাকেন। এভাবে চলছে তার পথচলা। তার কথা অনুযায়ী দশমাস আগে মানে এটা ২০১৫ সালের এপ্রিল মাসে যাত্রা শুরু করেছেন। আমার সাথে দেখা কক্সবাজারের চকোরিয়াতে। লোকে তাকে পাগল বলে।ে বেশভূষা দেখে সেটা বলাই স্বাভাবিক। তিনি নিজেকে একজন শাহজালালের ভক্ত পরিচয় দিলেন। আমার আমার নোটবুকে খুব ভালো বাংলায় স্পষ্ট অক্ষরে তার নাম ঠিকানা নির্ভুল বানানে লিখে দিলেন। লোকটা শিক্ষিত মনে হলো। নামের পাশে উপাধি লিখলেন বাঁশিওয়ালা, সম্ভবত ভালো বাঁশি বাজাতে পারেন।

 

১০৭ বছরের দাদু

নাম নাম কালাম মিয়া। তিনি দাবী করেছেন তার বয়স ১০৭ বছর। অবশ্য তাকে দেখেও তাই মনে হয়। প্রায় ৬ ফুটের বেশী লম্বা, চোখে ভালো দেখেন না। লাঠি ভর দিয়ে চলেন। এই দাদু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। এবং অন্যান্য ইতিহাস সম্পর্কে যে তথ্য দিয়েছেন তাতে তার কথা সঠিক বলে মনে হয়। তার সাথে দেখা হয়েছে কক্সবাজারে বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্কের সামনে।

যিনি আমাকে খুন করতে চেয়েছেন

লোকটার নাম আমার মনে নেই। এমনকি ছবি তুলতেও ভুলে গেছিলাম। তিনি আমাকে খুন করতে চেয়েছেন মানে তিনি বলেছেন। আমি এত বোকা কেন হেঁটে হেঁটে এত কষ্ট করে দেশ দেখছি কেন? আমিতো বিমানে করে গিয়ে ফূর্তি করে দেশ-বিদেশ ঘুরে দেখতে পারতাম। যদিও পরে উনাকে বুঝিয়ে বলায় উনি খুব লজ্জিত হয়েছেন। আমি তাকে বলতে চেয়েছি, ঘোরা মানে আনন্দ ফূর্তি নয় ঘোরা মানে দেশ ও দেশের মানুষকে দেখা।

 

 

Published : জুলাই ২৫, ২০১৭ | 1092 Views

  • img1

  • জুলাই ২০১৭
    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
    « জুন   আগষ্ট »
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • Helpline

    +880 1709962798