বান্দরবানের পাশ দিয়ে

Published : জুলাই ২৪, ২০১৭ | 938 Views

বান্দরবানের পাশ দিয়ে

 

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

২০১৬ সালে যখন পায়ে হেঁটে তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ যাচ্ছিলাম। তখন চলার পথে পড়েছে ১৮তম জেলা বান্দরবান। বান্দরবানটা আসলে সঠিকভাবে চলার পথে পড়েনা বললেই চলে। চুনুতি পার হলে আজিজ নগর। এটা রাস্তার বামপাশে। মানে হচ্ছে বামপাশটা বান্দরবান আর ডানপাশ কক্সবাজার। আজিজনগর বান্দরবানের লামা থানার একটা অংশ। এদিকদিয়ে লামায় যাবার পথ রয়েছে। আজিজ নগর কয়েকটি দোকানপাট রয়েছে ছড়িয়ে ছিটিয়ে। এখানে দুদিকের বনানী তবে বাঁদিকে কিছুটা পাহাড়ী বন রয়েছে সেটা বেশ বোঝা যাচ্ছে। একটি তোরণে আজিজ নগর গোল্ডকাপ টুনামেন্ট আয়োজনের ব্যানার ঝোলানো রয়েছে। এখানে এজনের সাথে দেখা হলো ইনি সিটিজি ব্লাড গ্রুপের ফেসবুক গ্রুপের মেম্বার আমার সম্পর্কে কয়েকদিন আগেই জেনে গেছেন যখন আমি চট্টগ্রামে ছিলাম। তিনি আজিজ নগরে আপ্যায়ন করালেন। বাইরের কিছু না খেলে ভালো লাগে বলার পর এখানকার পাহাড়ী কলা খেতে দিলেন।

 

আগের দিন যখন চুনুতি থেকে সন্ধ্যায় জঙ্গলের ভেতর দিয়ে হেঁটে পথ চলছিলাম। তখন অনেকে বলল বিশেষ করে লোহাগড়া ও চুনুতির পুলিশরা যে আজিজ নগর চলে যান ওখানে বোর্ডিং পাবেন। আমিও রাতের বেলায় জঙ্গলের মধ্য দিয়ে হাঁটার লোভে চলে আসতে চাইছিলাম। যদিও স্থানীয় লোকদের নিষেধ এর কারণে আর আগাইনি।

কিন্তু মনে হয় যদি হাতি কিংবা ডাকাতের ভয়ের কথা বলেছিলো লোকেরা। সেটা যদি সমস্যা নাও হতো। মনে হয় বনের মধ্য দিয়ে রাত ১০টা নাগাদ হাঁটতে হতো। কিছুটা চ্যালেঞ্জিং, ঝুকিপূর্ণ আর অন্যরকম হতে যাত্রাটা। চ্যালেঞ্জ নেব নেব করে আর নেয়া হলো না। কারণ বনের মধ্যে দস্যূরা জিনিসপত্র নিয়ে যাবে শুধু তাই নয়। জীবন নেয়ার চেষ্টাযে করবেনা তা কে জানে। পরে চুনুতিতে মাগরিব এর নামায পড়ে সেখানেই রয়ে গেছিলাম।

ফোসকার সমস্যা এখন কম। কিন্তু এখন আমার নয় বরং জুতার ফোসকা ফুটে গেছে। আর জুতার ফোসকা ঢেকে না দিলে আমার ফোসকা ফুটে যায়। জুতার ভেতরের কিাপড় ক্ষয় হয়ে পা শক্ত অংশে লেগে যাচ্ছে। সেখানে ঘষা লাগলে পায়ের পেছনের দিকে ফোসকা ফুটে যায়। এর জন্য একটা সমাধান বের করলাম সেটা হলো আমার খুবই সফট নীল একটা টি শার্টি ছিলো সেটাকে কিাঁচি দিয়ে কেটে ছোট ছোট টুকরো করলাম। যাতে পায়ের পাতায় মোড়ানো যায়। তারপর সে টুকরো পায়ে এমনভাবে পেঁছিয়ে নেই যাতে জুতোর যে জায়গাটাতে সমস্যা সেখানে পাকে একটা সার্টটো দেয়া যায়। কিন্তু গেঞ্জির অংশগুলো শেষ হয়ে যায়। তারপর যশোরের টিপু সুলতান ভাইয়ের গিফট ব্যান্ডেজ এর জন্য দেয়া কটন টেপগুলো ব্যবহার শুরু করে দিয়েছি।

গিফট হিসেবে ফাস্টএইড এর যাবতীয় সরঞ্ঝামসহ বেশকিছু ওষধ পেয়েছি। খাবার স্যালাইনও। শুধু প্যারাসিটামল আর ওরাল স্যালাইনগুলো শেষ হয়ে যাওয়ার পর আবার কিনেছি। আর কিছু গ্যাসের বড়ি খেয়েছি। নইলে আর কিছু খুলেও দেখতে হয়নি। এজন্য আল্লাহর কাছে অশেষ কৃতজ্ঞতা। বড়ো ধরনের কোনো বিপদ হতে পারতো। হতে পারতো রাস্তায় কোনো দূর্ঘটনা, বা চুরি ছিনতাই। এবং আমি নিজেও কোথাও কোনোকিছু রেখে আসতে পারতাম। আমার যা ভুলো মন।

এসব না হওয়ার জন্য অবশ্য অনেক কিছু করেছি। যেমন প্রথমত রাস্তায় আমি বেশীরভাগ সময় ডানপাশ দিয়ে চলতাম। গোধুলিবেলায় রাস্তায় গাড়ি বেশী চলতো বলে কখনো কখনো সে সময়ে হাঁটা বন্ধ রেখেছি। রাতের বেলায় আমাকে ‍যেন গাড়িগুলো দেখতে পায় সেজন্য হেলমেটের সাথে লাল লাইট ব্যবহার করেছি। যখনি মনে হয়েছে রাস্তায় দুটো গিাড়ি ক্রস করলে আমার আর জায়গা হবেনা তখনি চট করে ফুটপাতে নেমে গিয়েছি।

আমার ওজন সফর শেষে ৮২ কেজী থেকে ৭০ কেজীতে নেমে এসেছিলো। ১২ কেজী ওজন মানে  গড়ে প্রতিদিন ২৫০ গ্রাম।

পানিরছড়া্ এলাকা পার হওয়ার পর পেলাম বান্দরবনের নাইক্ষংছড়ি। পাহাড়ি যে আকাঁবাঁকা রাস্তাটি নাইক্ষংছড়ি উপজেলা শহরের দিকে চলে গেছে সেটিও নদীর মতো সুন্দর। অনেকক্ষণ বসেছিলাম রাস্তার বাঁপাশে মানে সেটা নাইক্ষংছড়িতে ছিলো। রাস্তা ধরে বান্দরবান থেকে চাঁদের গাড়ি করে লাড়কি থেকে শুরু কাঁটাল নানা ফলমূল ও শাকসব্জি আসছিলো আমি একটি দোকানে বসে মুড়ি দিয়ে গুড় দিয়ে খাচ্চিলাম আর নাইক্ষংছড়ি থেকে আসা মালভরাতি চাঁদের গাড়িগুলো দেখছিলাম।

Published : জুলাই ২৪, ২০১৭ | 938 Views

  • img1

  • জুলাই ২০১৭
    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
    « জুন   আগষ্ট »
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • Helpline

    +880 1709962798