তাহারা বলিলেন

Published : জুলাই ২৩, ২০১৭ | 1021 Views

তাহারা বলিলেন

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

প্রথমে নামগুলো জেনে নিন। আবদুল হাকিম, মীর মোশারফ হোসেন, কায়কোবাদ, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়,  কাজী নজরুল ইসলাম, জীবনান্দ দাস, জসিম উদদীন, ও হুমায়ন আহমেদ।

এবার ঘটনা শুনুন এই সব বিশিস্ট কবি সাহিত্যিকরা যদি বেঁচে থাকতেন তাহলে সম্প্রতি আমার পায়ে হেঁটে তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ ভ্রমনে কি ধরনের মতামত দিতেন তা আপনাদেরকে জানাই।

আবদুল হাকীম: বঙ্গের এই শেষ  থেকে বঙ্গের ওইশেষ,

রহিছে কত রুপ তাহা অনিশেষ।

জাহাঙ্গীর শোভন নামে বালক এক আছিল,

জনপথ মাঠ প্রান্তর পাড়ি সে দিল।

তাহারও খেয়াল এই দেখিব বাংলা,

সহায় যেন তার প্রভু নিরঞ্জন আল্লা।

শরৎ চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:

পূর্ব বাঙ্গালার প্রান্ত পদব্রজ করিবার অভিলাস তাহার অন্তরকোণে  এক কাল হইতে হয়তোবা বাজিতেছিলো। কিন্তু তাহা হয়তো তাহার কাছের লোকদিগের জ্ঞানের বাইরে ছিলো। অবশেষ একদিন যখন প্রভাত রবিত মতো শতশত ক্রোশ পাড়ি দিবার মানষে তাহার পদসঞ্ছারণ শুরু হইলো। লোকে তখন ধন্য ধন্য করিলো। লোকেরা বলিল। বাহ এতো বেশ মজার ভ্রশন। দিন নাই রাত্রি নাই কেবল হাঁটিয়া হাটিয়া চলা। একদিন সত্যি যে যুবা তাহার মনস্কামনা পূর্ণ করিল। সে তাহার অভীষ্ট গন্তব্যে পৌছাইয়া গেল।

মীর মোশারফ হোসেন:

রে যুবা, রে কালের সাক্ষী। তুই কেন তবে বসিয়া বসিয়া জগতের অন্ন ধ্বংস করিবে। তুইতো বাহির পানে আসিয়া ভাঙ্গিয়া ফেলিতে পারিস যত জড়তার জিঞ্জির। তবে কেন কালক্ষেপন কেন এই পিছুহটা। এই মতে একদিন মনের ইচ্চা আর অসীম সাহসিকতা তাহার মনপ্রাণকে উদ্ভাসিত সমুদ্রের ন্যায় তনুমনে অন্তকরনে জাগাইয়া তুলিল। ওহে জগতবাসী তবে কেন এই মিছি মিছি কথার ফুল বুননি? কাজেই পথবাকী আরো বহুদূর। রে শোভন তুই তবে শেষ পর্যন্ত জিতিয়া গেলি। ইশ্বর তোর পদযুগলে যাহা শক্তি দিয়াছে তাহা তুই দেশ দেখিবার কাজে খরচা করিলি। তবে বেশ করিলি।

কায়কোবাদ:

দূর থেকে শুনি সমুদ্রের রোল

তাহার পাশে আজি লোকেদের শোরগোল

কি হলোর কি হলো, সভায় মাতামাতি

নারে বাঘ নয় না এলোরে হাতি

শোভনীয় দেহ তার কমনীয় মন

সারা বাংলা পাড়ি দিলো জাহাঙ্গীর শোভন।

কাজী নজরুল ইসলাম:

জড়তা যেখানে বুদ্ধিকে ঘ্রাস করিতে চাহে, তারুন্যের ধারা যেখানে আবাহত আর সেখাণে প্রবল জোয়ার আনিয়া দেয় অনিরুদ্ধ শক্তি। তখনি উদ্ভাসিত নবারুন দিকে দিকে তাহার জয়ের বারতা ঘোষণা করিয়া দেয়। আজি জাহাঙ্গীর আলম শোভন যে পদব্রজ যাত্রা করিয়া রেলগাড়ি, ট্রাম, নৌকা সকল বাহনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাইয়া দেশের এই প্রান্ত থেকে ওই প্রান্তে ভ্রমণ করিল। তাহা নওযোয়ানের নব উল্লাসেরই গান।

জীবনান্দ দাস:

বাংলাবান্ধা থেকে গোলারচর কতো কতো শত বছরের পর

বাংলার ঘাষকলমিফুল ছুঁয়ে, জলাঙ্গির ঢেউয়ের মাতম দেখে

শালপিয়ালের বনে হুতোম প্যাঁচা আর পাহাড়ি শেয়ালেরা ডাকে।

তারি মাঝে উদ্ধতবাহু নিয়ে পদচালায় এক নবযুবা

পূর্নিমার ঘোর চাঁদের পূর্ণতা শেষে চৈত্রের খরতাপের রাঙাচোখ দেখে দেখে

শেষে একদিন চলেগেলো প্রবাল পাথরের বন্দরে। নাম তারলেখা হয়নি পাথরে

তবুও নাম তার লেখা হলো বুনোশালিকের ডাকে, লেখা হলো সামুদ্রিক শামুকের চলার পথে।

 

জসিম উদদীন:

এক জেলার এক উদাম ছেলে চালায় পায়ের রথ,

সকাল সন্ধ্যায় পাড়ি দেয় এই বাংলার মাঠ পথ।

রণঅশ্বের ক্ষুরের মতো পা দুখানি তার,

মাড়িয়ে চলে পথের ধুলা অসীম পাথার।

চৌকষ নাবিকের দৃষ্টি যেন তারি দুটো চোখে,

শাবল সমান চালায় পা কে তারে আজ রোখে।

ঘাষ পাতা ফুল তাহার পথে বিছায়ে দিল পাটি,

তার পায়েতে পথ বাড়ালো এই বাংলার মাটি।

হেসে যেন কুটি কুটি হয় বউ টুবানির ফুল

পাগলিামি আরে কারে কয়? নাকি মনের ভূল।

সব ভুলেরে ফুল দিয়ে সে সরিয়ে দিলো দূরে

তার বাঁশি আজ বাজলে সেথায় বিজয় গাঁথা সূরে।

হুমায়ন আহমেদ:

তারপর হাঠৎ একদিন সবাই জানলো সে এখন তেঁতুলিয়ায়। তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধা থেকে সত্যি সত্যি হাঁটা শুরু করলো। তার খুব ইচ্ছে হলো একা একা হাঁটতে। অন্য দুইজনও চলে এলো। কিছু দূর হাঁটলো। তারা আবার ফিরে গেলো। সে একাই পথচলা শুরু করলো। তখন চাঁদের আটপ্রহর। চাঁদনী রাত তার সব সময় ভালো লাগে। আজো ব্যতিক্রম হলো না। একমাস চলার পর আবার চাঁদরাত। একদিন তার সফর শেষ হয়ে যাবে। তার মন খারাপ। সফর শেষ হয়ে গেলে আর সমুদ্রে পাড় ধরে একা একা হাটা যাবে না। চাঁদের রাতে নির্জন পথে আনমনে কথা বলা যাবে না। দেড়মাস পর বাংলাদেশের শেষপ্রান্তে চলে এলো শোভন। বাংলাদেশের পতাকা উড়ালো। সবাই জানলো তার সফর শেষ হয়েছে। শোভন জানলো তার সফর শেষ হয়নি। প্রতি জোসনার রাতে তার সফর হয়। সে চলে যায় অর্জুন গাছের ফাঁক দিয়ে সামনে। পাহাড়ি পথ থেকে সমুদ্রের পাড়ে। সে চলে যায় সমুদ্র বিলাসে যেখানে আমার কাঠের বাড়ি। সেন্টমার্টিন দ্বীপের পশ্চিম প্রান্তে।

 

 

Published : জুলাই ২৩, ২০১৭ | 1021 Views

  • img1

  • জুলাই ২০১৭
    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
    « জুন   আগষ্ট »
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • Helpline

    +880 1709962798