আমাদের কি বদলে যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে?

Published : জুলাই ৯, ২০১৭ | 1015 Views

আমাদের কি বদলে যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে?

বিভিন্ন অপরাধের জন্য আমরা বিভিন্ন লোকজনের সমালোচনা করি। কখনো কখনো বিভিন্ন শ্রেনী, পেশা ও সম্প্রদায় এমনকি দলের সমালোচনা করি। এবং তাদেরকে দায় করি। কিন্তু আসলে কি তাই। যে গৃহবধু  ‍খুন্তি দিয়ে আট বছরের কাজের মেয়ের শরীর ঝলসে দিয়েছে সে কি ছাত্রলীগ করে? অথবা যে নূর হোসেন একসাথে সাত খুনের সাথে জড়িত সে আই এস এর লোক? যারা রাঙামাটিতে মানুষের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে তারা হিংস্র (!) বৌদ্ধভিক্ষু?

রাজন রাকিবের মৃত্যুর পর দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার পরও এই সমাজে কোনো পরিবর্তন হয়নি। প্রতিনিয়ত এসব ঘটনা ঘটে চলেছে। আমরা কিছু লোক ঘটনা ঘটার পর ফেসবুকে প্রতিবাদের ঝড় তুলি। কিন্তু ঘটনা যেন না ঘটে সেজন্য কিছুই করিনা। একদিকে সমাজে যেসব অভাবের কারণে ছোটখাটো চুরি চামারি হয় এসবের প্রতিকারের কোনো ব্যবস্থাই আমরা করিনা। আমরা এর নীতিগত শিক্ষা দিতে পারি। এবং মানুষদের আর্থিক সাহায্য দিতে পারি। যে ব্যক্তি সমাজে ভালো পরে ভালো খায়। আর তার প্রতিবেশী তা করতে পারে না। সে লোকের নীতি কথা বলার অধিকারও থাকেনা। ফলে আমরা যেহেতু সমাজে দায়িত্ব পালন করতে পারি না। সূতরাং চুরির দায় আমাদের। এ দায় আমরা এড়াতে পারি না।

এড়াতে পারতাম। যদি এটা মধ্যযুগ হতো কিংবা আজ থেকে দেড় হাজার বছর আগের গল্প হতো। পৃথিবীর বর্তমান সভ্যতায় এটা স্বীকৃত যে মানুষ যখন কোনো স্বাভাবিক আচরণ করছেনা তাহলে বুঝতে হবে হয়তো সমাজের কোথাও সমস্যা আছে। নইলে সে লোকটার মানসিক সমস্যা আছে। আজ শিশু কিশোররা যদি চুরি চামারি করে এটা হতে পারে মানসিক রোগ আর নইলে সমাজের দুষ্টু ক্ষত। যেখানে অভাবের প্রশ্ন, নীতির প্রশ্ন আর সমাজের ভালোমানুষদের মুখোশ পরে নিজের স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ততার প্রশ্ন থাকে। সেখানে মানসিক সমস্যা নয়। বরং সমাজের স্বার্থপর লোকগুলোর স্বার্থের বলি হয় ওইসব অভাবী মানুষগুলো। প্রথমবার বলি হয়। সুযোগ সুবিধা হারায়। সমাজের কিছু স্বার্থপর ভদ্রতার মুখোশধারীরা সুবিধাগুলো ভোগ করে আর তাদেরকে বঞ্চিত করে। দ্বিতীয়বার বলি হয় তাদের দিকে বাঁকা চোখে দেখা হয়, নিচু ভাবা হয় ফলে তাদেরকে অপরাধের দিকে ধাবিত করা হয় এবং তৃতীয়বার বলি হয় সেই কৃত অপরাধের জন্য তাদেরকেই নির্যাতন করা হয়।

অথচ আধুনিক সভ্য আইন কিংবা নীতি কিংবা মনোবিজ্ঞান সব সূত্র বলছে এই অপরাধের জন্য সে দায়ী নয়। দায়ী সমাজ। আর একজন কিশোরকে শাস্তি দেয়াতো পৃথিবীর কোনো দেশের আইনে নেই। একটি নিষ্পাপ শিশু কিশোর হতে হতে কিভাবে চুরি করার কথা মাথায় আসলে এগুলো গবেষনা করে সমাজ বিজ্ঞানীরা এসব ঘটনার জন্য সেসব লোকদের দায়ী করেছেন। যারা তাদের পাশের লোকের ভালোমন্দ দেখেনা। সুবিধা ভাগাভাগি করে না। বরং অন্যকে দোষারোপ করে, অন্যকে তিরষ্কার করে। মুলত এরাই সমাজের শত্রু। গরিব ও অভাবী লোকদের কৃতকর্মের শাস্তি এদেররই পাপ্য। আর পাপ্য যারা রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণ করে, আইন প্রণয়ন করে এবং আইন প্রয়োগ করে।

আরো খোলাশা করা যাক। যদি বাংলাদেশ আজ উন্নত রাস্ট্র হতো। তাহলে যে নাক সিটকানো ভদ্রলোক নীতিকথা বলে গরিব মারার জন্য অধিকার অর্জন করছেন বলে বিষোদগার করছেন। তার মাসে পাওয়া ৮০ হাজার টাকা বেতনের ২০ হাজার টাকা সরকারকে ট্যাক্স দিতে হতো। সে টাকায় গরিবের শিক্ষা চিকিৎসা ও কর্মসংস্থান হতো। কারো মোবাইল চুরি করার কথা তার মাথায় আসতো না। আজ সেসব লোকেরা গরিবের সে ২০ হাজার টাকা নিজেরা খাচ্ছে। আবার গরিবকে বঞ্চিত করছে। নিন্দা করছে। এবং তার উপর নির্যাতনের সমর্থন দিচ্ছে। এই জায়গায় এসেও একই কথা বলতে হয়। এটা সমাজের ক্ষত নয়তো মানসিক অসুস্থতা। এই মানসিক রোগীদের সুস্থ্য করতে হবে এবং সমাজের ক্ষত সারতে হবে। এগুলো আমার বানানো মতবাদ নয়। কোনো মনোবিশেজ্ঞ, কিংবা উন্নত দেশের আেইনজীবিকে জিজ্ঞেস করলে জানতে পারবেন।

জানি এখানে মানুষের কি দোষ সরকারতো বেতন বাড়িয়ে দিয়ে সেখান থেকে ট্যাক্স নিয়ে গরিবকে দিতে পারে। সরকার উদ্যোগ না নিলে কার কি করার আছে। হা সারাদেশ বদলে দেয়ার ক্ষমতা কোনো ব্যক্তির নেই। কিন্তু তার সম্পদের অংশ থেকে সে তার আশপাশ কিংবা গরিব প্রতিবেশীকে দিতে পারে। প্রতিবেশীর ছেলের শিক্ষার দায়িত্ব নিতে পারে। কেউ কেউ করে। তবে যারা এ ধরনের অপকর্মকে সর্মর্থন করে তারাযে করে না। এব্যাপারে আমি নিশ্চিত। ঘুরে ফিরে আবার একই কথা বলতে হয়। সমাজের ক্ষত অথবা মানসিক অসুস্থ্যতা।

তাহলে যার পিছে রাস্ট্র অর্থ নষ্ট করলো। আর যার পিছে করলো না। এই ২ জন যদি সমাজের ক্ষত হলে কে সমাজের বড়ো শত্রু। একজন ছাত্র মাস্টার্স পাশ করা পর্যন্ত সরকারের ২৩ লাখ টাকা তার পিছে খরচ হয়। এটা জনগের টাকা। এখানে গরিবের টাকাও আছে। তারপর সে চাকরি পেয়ে তার সব লাভ নিজেই একা ভোগ করে। গরিবদের দিকে থুথু ফেলে। চুরির দায়ে নির্যাতিত কিশোরের প্রতি বিষোদগার করে। ধিক তোর শিক্ষা, ধিক তোর পারিবারিক আদব, ধিক তোর মানব জনম।

– একটি শক্ত লেখার জন্য দু:খ ও ক্ষমা প্রার্থনা

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

Published : জুলাই ৯, ২০১৭ | 1015 Views

  • img1

  • জুলাই ২০১৭
    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
    « জুন   আগষ্ট »
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • Helpline

    +880 1709962798