সফরের নিরাপত্তার গোপন সূত্র

Published : জুন ২৫, ২০১৭ | 1569 Views

সফরের নিরাপত্তার গোপন সূত্র: তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

বলছিলাম পায়ে হেঁটে তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ ভ্রমণের গল্প। তখন নিরাপত্তা নিয়ে আমার ভেতরে বেশ টেনশন ছিলো। যদিও সেটা আমি বাইরে প্রকাশ করিনি। এজন্য আমার কিছু প্রস্তুতিও ছিলো।  সে বিষয়ে এ লেখায় স্মৃতি শেয়ার করছি।
যখন টেকনাফ যাচ্ছি সমুদ্রের পার ধরে। এশারের নামাজের পর লোকজন একেবারে ‘‘নাই’’ হয়ে গেলো। মাঝে মধ্যে দু একটা মাটিভর্তি ট্রাক যায়। রাশি রাশি প্রশ্নচোখে নিয়ে তারা তাকিয়ে থাকে। কেউ কেউ সাহস করে টর্চ মেরে বসে। তখনি আমি যাই চেতে। কেরে চোখের উপর লাইট মারিশ, এই তুই কে? এখানে চাপা শক্ত না রাখলে বিপদে পড়ে যাবো। সূতরাং পুরোটা পথের মতোই, রাত হলে আমি এমন একটা ভাব নেই। যেন আমি কিছু একটা। ফলে গ্রামের লোকদের ধারণা হয় আমি কোনো সরকারী লোক। আর আমার স্ট্রলারটো দামী কোনো যন্ত্র। আমি রাস্তা মাপা বা এই জাতীয় কোনো কাজ করছি। তো কারো মনে কোনো দূরভীসন্ধি থাকলে সাধু সাবধান। এরকম ভাব নিয়ে থাকাটাই আমার নিরাপত্তার কৌশলগত অস্ত্র। সত্যিকার অর্থে আমার নিরাপত্তার আর কোনো ব্যবস্থা নেই। এই জনবিরল পাহাড়ী পথে অন্ধকার এই রাতে। আরো দুটো অস্ত্র আছে একটা হলো আমার লাইভ ট্র্যাকার, তাতে ছোটন ভাই ইঞ্জিনিয়ার আসাদসহ সহ বেশ কয়েকজন আমার উপর নজর রাখছে। যদি আমার চিহ্ন রাস্তা ছেড়ে অন্যদিকে চলে যায়, বা গতি স্বাভাবিক হাঁটার চেয়ে বেড়ে যায় বা এক জায়গায় অনেকক্ষন দাড়িয়ে থাকি তাহলে আমাকে ফোন দেবে।
আর একটা অস্ত্র হলো বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশের লোগো রয়েছে আমার সাথে। ডিইজি ট্যুুরিস্ট পুলিশের মৌখিক অনুমতিক্রমে ব্যবহার করছি তাদের পরামর্শে পুলিশের একটা এ্যাপও সাথে রয়েছে। যাতে সব থানার ফোন নাম্বার রয়েছে। কিন্তু আসলে এগুলো কোনোটাই প্রকৃত অস্ত্র নয়। আমাকে এখানে কেউ আক্রমণ করলে ঢাকা থেকে ছোটনভাই বা থানা থেকে পুলিশ আমাকে সেভ করতে পারবেনা। এটাই বাস্তবতা। বাধ্য হয়ে আমি উৎস্যুক লোকদের মাঝে এমন ধারণা তৈরী করি যেন, আমাকে ছুলেই বিপদ! অনেক জায়গায় লোকেরা জিজ্ঞেস করে , ভাই আপনি এতদামী মালপত্র, (ল্যাপটপ ডিএসএলআর এসবের কারণে বলে) নিয়ে বের হয়েছেন, আপনার নিরাপত্তার গ্যারান্টি কি? আমি বলি কিছু একটাতো আছে। বিশ্বাস না হলে আমার মালপত্রগুলো নিয়ে যান তারপর দেখেন কি হয়? এতে আমার ধারণা কাজ হয়েছিলো।

সাধারণত আমার ব্যাগে একটা ফল কাটার চুরিও রাখি নাই। বলাতো যায়না কখন এটা কাল হয়ে দাঁড়ায়। তবে এ ধরনের পরিস্থিতিতে আমি সব সময় লোহার শেকল রাখি। সেরকম একটা শিকল সাথে আছে। শিকল এর  সুবিধা হলো এটা দিয়ে প্রয়োজনে মারা যায় আবার বেঁধেও রাখা যায়। আর শেকলটাকেও জোরসে ধরা যায়। যেখানে সেখানে রাখা যায়। সন্ধ্যা হলে আমি সাধারণত ওটা কোমেরে বেঁধে রাখতাম। আর চাইলে এক সেকেন্ডের মধ্যে খুলে ফাঁ ফাঁ করে চারদিকে ঘোরানো যাবে। মাঝে মধ্যে মোটর সাইকেল এসে থামে। আর আমি কোমরে হাত দিয়ে পস্তুত হয়ে থাকি। তারাতো কেবল আমার এভাবে হাঁটার কারণ জিজ্ঞেস করে অবাক হতে হতে চলে যায়। আমিতো আর জানি না কার মনে কি?  কথায় কথায় একটা সিক্রেট আউট করে দিলাম।
কষ্ট হলেও ভালো লাগছে এই ভেবে যে, এই সফরে অনেক অভিজ্ঞতা হচ্ছে। রাত ৯টা নাগাদ আবার সমুদ্রের কলকল ধ্বনি শুনতে পেলাম। ১০ মিনিট পরই সমুদ্র দেখা দিলো। আবার একপাশে পাহাড় একপাশে সমুদ্র। এবার মনে হচ্ছে চাঁদ উঠবে। কিন্ত চাঁদ যে পাশ থেকে উঠবে সেপাশে যে পাহাড় চাঁদের দেখা পেতে অনেক রাত হয়ে যাবে। ভালো লাগছে বনের পথ ধরে সমুদ্রের ধারদিয়ে পাহাড়কে স্বাক্ষী রেখে একা একা পথ চলছি। আজকের দিনটাকে অনন্য মনে হচ্ছে। কারণ এরকম দিন জীবনে আর কথনো আসবে কিনা জানি না। আকাশে হালকা মেঘ রয়েছে। আমি পাহাড়ের আড়ালে থাকলেও সমুদ্রে আকাশভরা তারার আলো প্রতিফলিত হচ্ছে। মেঘের কারণে তাও খুব বেশী নয়। সমুদ্রেরও উত্তাল নড়াচড়া কখনো চোখে পড়ছে গাছের ফাঁক দিয়ে।
আজকের দিনটা আরো একটা কারণে আলাদা এবং অনন্য। কারণ আজ একমাত্র দিন যেদিন আমি কোথায় হাটা শেষ করবো সেরকম কোনো কিছু ঠিক করিনি। সম্ভবত এর মধ্যে কোনো একসময় চকরিয়া উপজেলার সীমানা পেরিয়ে টেকনাফে প্রবেশ করেছি।

Published : জুন ২৫, ২০১৭ | 1569 Views

  • img1

  • জুন ২০১৭
    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
    « মে   জুলাই »
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • Helpline

    +880 1709962798