যেভাবে আমরা ঈদ পেলাম

Published : জুন ২২, ২০১৭ | 2007 Views

যেভাবে আমরা ঈদ পেলাম

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

আজ ঈদের আনন্দে আমরা মাতোয়ারা হয়ে যাই। নতুন জামা, সুস্বাদু খাবার আরো নানা আনন্দ উপাদানে ভরে থাকে ঈদের সময়। একটা ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব আজ সবাজনীণ রুপ ধারণ করেছে। ঈদ হয়ে গেছে আমাদের জীবনেরেই অংশ। ক্যালেন্ডারের পাতা থেকে ব্যবসায়ের খাতা, মসজিদের মিনার থেকে ফুটপাতের দোকান, বিনোদনের পর্দা থেকে পর্যটনের হোটেল, পত্রিকার বিশেষ পাতা থেকে শুরু করে বিজ্ঞাপনের অফার সর্বত্র  ঈদের আমেজ। কিন্তু এই ঈদ আমরা কিভাবে পেলাম সেটুকু জানার কসরত হয়তো আমাদের অনেকের হয়নি। আজ সেটাই আপনাদের জানাতে চাই।

হাদীস শরীফে এসেছে, রসুল যখন মদীনায় হিজরত করলেন তখন মদিনা বাসীদের দুটো বিশেষ দিন ছিল, যেখানে তারা নানারকম খেলাধুলা করত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কাছে এ দু দিনের তাৎপর্য জানতে চাইলেন? এমন অনেক উপলক্ষ ছিলো তৎকালীন মক্কা মদীনায় যেগুলো সম্পর্কে তখনকার মানুষরা ওয়াকীবহাল ছিলো না। কেবল বাপ দাদারা পালন করেছেন বলে তারা পালন করে আসছিলেন।
মদিনা বাসীরা উত্তর দিলেন : আমরা জাহেলিয়াতের যুগে এ দু দিনে খেলাধুলা করতাম। তখন রাসূলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এ দু দিনের পরিবর্তে তোমাদের এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ দুটো দিন দিয়েছেন। তা হলো ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতর।্ (আবু দাউদ)
ইসলামে যেহেতু ইবাদাত ২ প্রকার আনুষ্ঠানিক এবাদাত ও অনানুষ্ঠানিক এবাদাত যেমন আনুষ্ঠানিক ইবাদাত হলো নামায রোজা হজ্জ যাকাত ইত্যাদি আর অনানুষ্ঠানিক ইবাদাত হলো দৈনিন্দিন অন্যান্য কাজ আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী শরীয়ত সম্মতভাবে করা। যেমন একজন কৃষক জমিতে ফসল চাষ করছেন তিনি সেটা সঠিকভাবে করছেন, জমির আইল ঠেলবেন না। এটা তার জন্য ইবাদাত। একজন দোকানী সঠিক ওজনে মাল দিলেন এটা তার জন্য ইবাদাত। একজন শ্রমিক সঠিক সময়ে সঠিকভাবে তার কাজ করলেন সেটা তার ইবাদাত।

শুধু খেলাধুলা, আমোদ-ফুর্তির জন্য যে দুটো দিন ছিল আল্লাহ তাআলা তা পরিবর্তন করে এমন দুটো দিন দান করলেন যে দিনে আল্লাহর  শোকরিয়া, তার  যেকের, তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনার সাথে সাথে শালীন প্রমোদ-ফুর্তি, সাজ-সজ্জা, খাওয়া-দাওয়া করার ব্যবস্থা করা  হবে। এভাবে আনন্দফুর্তিও কেউ ইসলামে নির্দেশ মোতাবক করবেন সেটাই তার জন্য ইবাদাত হিসেবে পরিগনিত হবে। সাথে কিছু আনুষ্ঠানিক ইবাদাত তো রয়েছেই।

ইসলামের এ দ্ুেটা উৎসবের দিন শুধু আনন্দ-ফুর্তির দিন নয়। বরং এ দিন দুটোতে আনন্দ-উৎসব এর সাথে সাথে প্রতিপালকের এবাদত-বন্দেগি দ্বারা সুসজ্জিত করাতে হবে। যিনি জীবন দান করেছেন, দান করেছেন সুন্দর প্রকৃতি, সুস্থ শরীর, ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্তানাদি, পরিবার পরিজন, যার জন্য জীবন ও মরণ তাকে এ আনন্দের দিনে ভুলে থাকা হবেÑআর অন্য সব কিছু ঠিকঠাক মত চলবে এটা কীভাবে মেনে নেয়া যায়না।  তাই ইসলাম আনন্দ-উৎসবের এ দিনটাকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের এবাদত-বন্দেগি, তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ দ্বারা সু-সজ্জিত করেছেন।
লে একদিকে আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করার দোষে দুষ্ট হই, অন্যদিকে নেকি বা সওয়াব লাভের সুযোগ থেকে বঞ্চিত থেকে যাই।

আবাল বৃদ্ধ বনিতা সবার জন্যই আজ ঈদ। তাই আমাদের উচিত ঈদের মতো একটা উৎসবের জন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করা। আর আমাদের চারপাশের সেসব মানুষদের পাশে দাঁড়ানো যারা কেবল আর্থিক দৈন্যতার জন্য ঈদ উৎসবের বা ঈদের আনন্দের পূর্নতা পাচ্ছে না। তাদের সাথে জামা খাবার এবং বিভিন্ন ভাবে আমরা ঈদের আনন্দ ভোগ করতে পারি। প্রিয়নবী (স) আমাদের এই শিক্ষায় দিয়েছেন। যারা নিজেদের ভোগ বিলাসের জন্য ঈদের আনন্দকে ব্যবহার করে প্রতিবেশী ও সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালন করে না। তারা প্রকৃত মুসলিম নয়।

ছবি: দ্যা ইনডেপেন্ডেন্ট

Published : জুন ২২, ২০১৭ | 2007 Views

  • img1

  • জুন ২০১৭
    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
    « মে   জুলাই »
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • Helpline

    +880 1709962798