খাদিম নগর: বনবাসীর ঘর

Published : জুন ১৬, ২০১৭ | 1921 Views

নতুন বন: খাদিমনগর জাতীয় উদ্যান :

সিলেট শহরের পাশেই বাংলাদেশের নবীনতম জাতীয়উদ্যান খাদিমনগর। শহর সিলেট ছেড়ে জাফলং তামাবিলসড়কের খাদিম নগরে হাতের বাঁ বড় জান আর খাদিমনগরচা বাগানের দিকে চলে যাওয়া সড়কটির ঠাঁই মেলেছেখাদিমনগর জাতীয় উদ্যানে। চা বাগানের ভেতর দিয়েচলতে চলতে জঙ্গলের ঘনত্বই জানান দেবে তার আপনপরিচয়। সিলেট শহর থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে খাদিমনগরজাতীয় উদ্যানের দূরত্ব মাত্র ১৫ কিলোমিটার।

বাংলাদেশের যে কয়টি সংরক্ষিত বনাঞ্চল আছে তার মধ্যে খাদিমনগর নবীনতম। ২০০৬সালে এটি জাতীয় উদ্যান বা ন্যাশনাল পার্কের মর্যাদা পায়। এর আয়তন প্রায় ৬৭৮ হেক্টর।তবে সর্বপ্রথম ১৯৫৭ সালে এই বনকে রিজার্ভ ফরেস্ট ঘোষণা করা হয়েছিল। জানা যায়, সেসময়ে বাঁশবন পরিষ্কার করে এখানে বনায়ন করা হয়েছিল। প্রায়-পাতাঝরা উষ্ণ মণ্ডলীয়চিরসবুজ এই বন দুর্লভ প্রজাতির বৃক্ষ, লতাগুল্ম, পাখি আর বন্য প্রাণীদের অভয়াশ্রম। এবনে বসবাসকারী বন্যপ্রাণীদের আছে ২৬ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৯ প্রজাতির উভচর, ২০প্রজাতির সরীসৃপ এবং ২৫ প্রজাতির পাখি। খাদিমনগর জাতীয় উদ্যানের এসব স্তন্যপায়ী প্রাণীদের উল্লেখযোগ্য হলো মুখপোড়া হনুমান,বানর, বনবিড়াল, ভল্লুক, মায়া হরিণ, লজ্জাবতী বানর, বনরুই, খাটাশ, সজারু, সাদা বুক-কাঠবিড়ালি, খরগোশ, মালায়ান বৃহত্ কাঠবিড়ালি, বাদুর প্রভৃতি। সরীসৃপের মধ্যে আছেবিভিন্ন জাতের সাপ, অজগর, গুইসাপ, উড়ুক্কু লিজার্ড, বেজি ইত্যাদি।

এ ছাড়া নানানপাখপাখালির কলকাকলিতে সবসময় মুখরিত থাকে খাদিমনগর জাতীয় উদ্যান। হলুদ পাহরিয়াল, পাকড়া ধনেশ, বড় র্যাকেট টেইল ফিঙ্গে, লালপিঠ ফুলঝুরি, বেগুনি মৌটুসি, মদনাটিয়া, কালা মথুরা, বাসন্তী লটকন টিয়া, মালয়ি নিশি বক ইত্যাদি। বনের গাছগাছালির মধ্যেরয়েছে চাঁপালিশ, কদম, জলকড়ই, কড়ই, গর্জন, সিভেট, বাঁশ, মুলিবাঁশ, বুনো সুপারি, ট্রি-ফার্ন ইত্যাদি।

খাদিমনগর জাতীয় উদ্যানের ভেতরে ঘন জঙ্গলের ভেতরে চমত্কার দুটি ট্রেইলে গা ছম ছমকরা পরিবেশের মধ্যে হেঁটে বেড়াতে পারেন। বনের ভেতরে জঙ্গলের ঘনত্ব কোথাও কোথাওএতো বেশি, সূর্যের আলো পর্যন্ত মাটি ছুঁতে পারে না। দুটি ট্রেইলের মধ্যে একটি ৪৫মিনিটের, অন্যটি দুই ঘণ্টার। ৪৫ মিনিটের ট্রেইলটির শুরু সড়কের খাদিমনগর চা বাগানথেকে চলে আসা সড়কটির কালিবাড়িতে আবুলের টিলাকে বাঁয়ে রেখে শুরু হয়েছে। এ পথেশীতল জলের পাহাড়ি ছড়া আছে। এ পথে বিভিন্ন রকম বনফুল, ঘন বাঁশবন আছে। নিরবতাঅবলম্বন করলে নানান দুর্লভ বন্যপ্রাণী আর পাখির দেখা মিলতে পারে এ পথে। ঘুরে ফিরেএসে এ পথটির শেষ হয়েছে বিট অফিসের আগে প্রদান সড়কের সঙ্গেই।
দুই ঘণ্টার ট্রেইলটির শুরু বিট অফিসের পাশ থেকে। শুরুতেই ছড়ার উপর থেকে বাঁশেরসেতু পেরিয়ে হাঁটা শুরু করতে হবে। বিট অফিসকে হাতের ডানে রেখে বাঁয়ের সরু পথ ধরেচলতে হবে। এ পথে জোয়ালনালা, জলকণা, জিয়ানা, সাধুনালা নামের চারটি পাহাড়ি ছড়াপড়বে। এ পথে আছে ঘন বাঁশবন। নির্দেশনা অনুযায়ী চলতে চলতে এ পথের শেষ হয়েছেআবার প্রধান সড়কে এসে। এ পথেও দেখা মিলতে পারে নানান বন্যপ্রাণী আর পাখির।

ছবি: প্রথম আলো

Published : জুন ১৬, ২০১৭ | 1921 Views

  • img1

  • জুন ২০১৭
    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
    « মে   জুলাই »
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • Helpline

    +880 1709962798