বাংলাদেশের সংরক্ষিত বনাঞ্চল বা জাতীয় উদ্যান

Published : জুন ১৫, ২০১৭ | 2752 Views

বাংলাদেশের সংরক্ষিত বনাঞ্চল
বাংলাদেশের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মধ্যে রয়েছে বন্যপ্রানীর অভয়ারণ্য, জাতীয় উদ্যান, এবং গেম রিজার্ভ । দেশের মোট বন এলাকার ১০.৭% সংরক্ষিত বনাঞ্চল । তম্মদ্ধে বর্তমানে বাংলাদেশে ১৭টি জাতীয় উদ্যান রয়েছে।
ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান: বাংলাদেশের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় উদ্যান। এই উদ্যানটি রাজধানী ঢাকা থেকে উত্তরে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে গাজীপুর জেলার গাজীপুর সদর ও শ্রীপুর উপজেলায় অবস্থিত। বাংলাদেশ সরকার ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন (১৯৭৪) অনুযায়ী ৫,০২২ হেক্টর জায়গা জুড়ে পৃথিবীর অন্যান্য উন্নত দেশের আদলে অভয়ারণ্যের ছাঁচে ভাওয়াল শালবনে এই উদ্যান গড়ে তোলে। করা হয়েছে।

মধুপুর জাতীয় উদ্যান: বাংলাদেশের অন্যতম একটি জীববৈচিত্র্যপূর্ণ উন্মুক্ত উদ্যান, টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় অবস্থিত। ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে এই বনকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা দেয়া হয়। রাজধানী শহর ঢাকা থেকে ১২৫ কিলোমিটার দূরে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় অবস্থিত। টাঙ্গাইল জেলা শহর থেকে ময়মনসিংহ যাবার পথে রসুলপুর মাজার নামক স্থানে গিয়ে মধুপুর জাতীয় উদ্যানের প্রধান ফটক বামদিকে দেখতে পাওয়া যায়।

রামসাগর জাতীয় উদ্যান বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের তাজপুর গ্রামে অবস্থিত একটি জাতীয় উদ্যান। এটি দিনাজপুর সদর থেকে ৮ কিলোমিটার দূরেরামসাগর দিঘিকে ঘিরে অবস্থিত। ১৯৬০ সালে রামসাগর বাংলাদেশের বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে আনা হয়। ১৯৯৫-৯৬ সালে রামসাগরকে আধুনিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয় এবং ২০০১ খ্রিস্টাব্দের ৩০ এপ্রিলএকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়। রামসাগর উদ্যানের প্রধান আকর্ষণ হলো বিশাল রামসাগর দিঘি।

 

হিমছড়ি জাতীয় উদ্যান : বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিভাগের কক্সবাজার জেলার হিমছড়িতে অবস্থিত। উদ্যানটি ১৯৮০ সালে কক্সবাজার শহর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে ১৭২৯ হেক্টর (১৭.২৯ বর্গ কিলোমিটার) জায়গা জুড়ে প্রতিষ্ঠিত হয়। হিমছড়ি জাতীয় উদ্যান স্থাপনের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে গবেষণা ও শিক্ষণ, পর্যটন ও বিনোদন এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ। হিমছড়ির একপাশে রয়েছে সুবিস্তৃত সমুদ্র সৈকত আর অন্যপাশে রয়েছে সবুজ পাহাড়ের সারি। উদ্যানে অনেকগুলো জলপ্রপাত রয়েছে, যার মধ্যে হিমছড়ি জলপ্রপাতটি সবচেয়ে বিখ্যাত।

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান:  বাংলাদেশে অবশিষ্ট চিরহরিৎ বনের একটি উল্লেখযোগ্য নমুনা। এটি একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল। বাংলাদেশের ৭টি বন্যপ্রাণীঅভয়ারণ্য ও ১০টি জাতীয় উদ্যানের মধ্যে এটি অন্যতম। মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত ১২৫০ হেক্টর আয়তনের বন জীববৈচিত্র্যে ভরপুর। বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে এই বনকে ‘জাতীয় উদ্যান’ হিসেবে ঘোষণা করে। বিলুপ্তপ্রায় উল্লুকের জন্য এ বন বিখ্যাত।

নিঝুম দ্বীপ জাতীয় উদ্যান বাংলাদেশের নোয়াখালি জেলার হাতিয়া উপজেলার নিঝুম দ্বীপে অবস্থিত। ২০০১ সালের ৮ এপ্রিল বাংলাদেশ সরকার পুরো দ্বীপটিকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করে। বল্লারচর, চর ওসমান, কামলার চর এবং চর মুরি এই চারটি দ্বীপের মোট ১৬,৩৫২.২৩ হেক্টর এলাকা নিয়ে উদ্যানটি গঠিত। নিঝুম দ্বীপের জীববৈচিত্র্য বেশ সম্বৃদ্ধ। শীতকালে অসংখ্য পরিযায়ী জলচর ও পানিকাটা পাখি নিঝুম দ্বীপে বেড়াতে আসে। এই উদ্যানটি বৈশ্বিক বিপদগ্রস্ত পাখি দেশি গাঙচষার অন্যতম প্রধান বিচরণস্থল।

এছাড়া এই দ্বীপে রয়েছে প্রচুর চিত্রা হরিণ।

 

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান বাংলাদেশের একটি প্রাকৃতিক উদ্যান। ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ/সংশোধন আইনের বলে ২৪৩ হেক্টর এলাকা নিয়ে ২০০৫ খ্রিস্টাব্দে “সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান” প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই উদ্যানে সাতটি পাহাড়ি ছড়া আছে, সেই থেকে এর নামকরণ সাতছড়ি (অর্থ: সাতটি ছড়াবিশিষ্ট)। সাতছড়ির আগের নাম ছিলো “রঘুনন্দন হিল রিজার্ভ ফরেস্ট”। সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার রঘুনন্দন পাহাড়ে অবস্থিত।

 

কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার একর এলাকা নিয়ে কর্ণফুলী নদীর কোল ঘেঁষে কাপ্তাই উপজেলায় গড়ে উঠেছে কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান। বিস্তৃত পাহাড়রাশি আর চিত্তাকর্ষক উদার প্রকৃতির অপূর্ব সমন্বয় –এ জাতীয় উদ্যান। কাপ্তাই চট্টগ্রাম সড়কের পাশে এ উদ্যানের সবুজ পাহাড়ের বুক চিরে প্রবহমান কর্ণফুলী নদীর দৃশ্য সত্যিই মনোমুগ্ধকর। প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম বৃক্ষরাজি আচ্ছাদিত ও বনাঞ্চলে বিচিত্র বন্যপ্রাণী ও পাখ-পাখালির অবাধ বিচরণ ক্ষেত্র। এ বনে সেগুন, জারুল, গামার আর কড়ই গাছের সারি।

 

মেধা কচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যান বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলায় অবস্থিত একটি জাতীয় উদ্যান। এই বনটি তার সুবিশাল মাদার গর্জন গাছের জন্য সুপরিচিত। মেধা কচ্ছপিয়া একটি প্রাকৃতিক বন। ২০০৪সালে উদ্যানটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০০৮ সালের আগস্ট মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষিত হয়। এই জাতীয় উদ্যানের আয়তন প্রায় ৩৯৫.৯২ হেক্টর।

 

সিংড়া জাতীয় উদ্যান উত্তরবঙ্গের দিনাজপুর জেলায় অবস্থিত বাংলাদেশের একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল। স্থানীয়ভাবে এটি সিংড়া শালবন নামে পরিচিত। দিনাজপুর জেলা শহর থেকে সড়ক পথে ৪০ কিঃমিঃ উত্তরে এবং বীরগঞ্জ উপজেলা থেকে ১৫ কিঃমিঃ দূরে ভোগনগর ইউনিয়নে এর অবস্থান। । এই বনভূমির মোট আয়তন ৩৫৫ হেক্টর এবং এর মধ্যে জাতীয় উদ্যানের পরিমাণ (সংরক্ষণ) ৩০৫.৬৯ হেক্টর। ডালাগ্রাম, চাউলিয়া, সিংড়া ও নর্তনদী এ ৪টি মৌজায় সিংড়া জাতীয় উদ্যান বিস্তৃত।

আলতাদীঘি জাতীয় উদ্যান নওগাঁ জেলার ধামুরহাট উপজেলায় অবস্থিত একটি জাতীয় উদ্যান। এই উপজেলায় আলতাদীঘি নামের একটি দিঘীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে সুবিশাল বনভূমি। শালবন এবং বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদে পরিপূর্ণ ২৬৪ হেক্টর জমির এই বনভূমির ঠিক মাঝখানেই রয়েছে প্রায় ৪৩ একর আয়তনের সেই বিশাল দিঘী। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় ২০১১ সালে এটিকে ‘আলতাদিঘী জাতীয় উদ্যান’ হিসাবে ঘোষণা করেছে। ২০১১ সালের ২৪ ডিসেম্বর এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

খাদিমনগর জাতীয় উদ্যান : সিলেট শহরের পাশেই বাংলাদেশের নবীনতম জাতীয়উদ্যান খাদিমনগর। শহর সিলেট ছেড়ে জাফলং তামাবিলসড়কের খাদিম নগরে হাতের বাঁ বড় জান আর খাদিমনগরচা বাগানের দিকে চলে যাওয়া সড়কটির ঠাঁই মেলেছেখাদিমনগর জাতীয় উদ্যানে। চা বাগানের ভেতর দিয়েচলতে চলতে জঙ্গলের ঘনত্বই জানান দেবে তার আপনপরিচয়। সিলেট শহর থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে খাদিমনগরজাতীয় উদ্যানের দূরত্ব মাত্র ১৫ কিলোমিটার। বাংলাদেশের যে কয়টি সংরক্ষিত বনাঞ্চল আছে তার মধ্যে খাদিমনগর নবীনতম। ২০০৬সালে এটি জাতীয় উদ্যান বা ন্যাশনাল পার্কের মর্যাদা পায়।

 

কুয়াকাটা জাতীয় উদ্যান সমুদ্র সৈকতের একেবারে কোল ঘেঁষে প্রায় ২০০ একর জায়গায় ষাটের দশকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠা নারিকেল কুঞ্জ, ঝাউবন, গঙ্গামতি সংরক্ষিত বন, পশ্চিম দিকের ফাতরার বন ও মহিপুর রেঞ্জের বনাঞ্চল নিয়ে গড়ে উঠেছে ইকোপার্ক ও জাতীয় উদ্যান। সমুদ্রের অব্যাহত ও অপ্রতিরোধ্য ভাঙ্গনে ইতিমধ্যেই নারিকেল কুঞ্জ অনেক খানিই বিলিন হয়ে গেছে। এর পূর্ব দিকে বনবিভাগ কর্তৃক ১৫ হেক্টর বালুভূমিতে তৈরি করা হয়েছে মনোলোভা ঝাউবন। মানব সৃষ্ট হলেও গোধূলী বেলায় সমুদ্র সৈকতে দাঁড়িয়ে ও বিশেষ করে পূর্ণ চন্দ্রালোকিত জ্যোৎস্না রাতে যখন বেলাভূমি থেকে নারিকেল বীথি ও ঝাউবাগানের দিকে দৃষ্টি নিপতিত হয় তখন নিতান্ত বেরসিক দর্শকের কাছেও তা এক অমলিন স্বর্গীয় আবেদন সৃষ্টি করে।

 
নবাবগঞ্জ জাতীয় উদ্যান (শালবন) নবাবগঞ্জ বন বিট প্রায় ১৩৮৪.৯১ একর সরকারী সংরক্ষিত বনাঞ্চল নিয়ে গঠিত।গত ২৪ অক্টোবর ২০১০ ইং তারিখ নবাবগঞ্জ বন বিটের সংরক্ষিত বনাঞ্চলকে জাতীয় উদ্যান হিসাবে ঘোষনা করা হয়। এর আয়তন ৫১৭.৬১ হেক্টর বা ১২৭৮.৫০ একর। নবাবগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে মাত্র ১ কি:মি: উত্তর-পশ্চিমে জগন্নাথপুর,হরিল্যাখুর,বড় জালালপুর, আলোকধুতি, তর্পনঘাট, রসুলপুর ও খটখটিয়া কৃষ্টপুর মৌজায় এ শালবন অবস্থিত যা পঞ্চবটীর বন নামেও স্থানীয় ভাবে স্বীকৃত। মুরুব্বীদের মুখে শুনতে পাওয়া যায় কুশদহ, পার্বতীপুর, ফুলবাড়ী, বিরামপুর ও ঘোড়াঘাট পর্যন্ত এ বনের ৫ টি শাখা বা বাট প্রলম্বিত ছিল বলে এর নাম পঞ্চবটী হয়েছে। জনশ্রুতিতে শুনা যায় শিবের কৈলাশ বাস, সীতার বনবাস এ বনেই হয়েছিল। তা ছাড়াও দস্যু রত্নাকর সিদ্ধি লাভ করে বাল্মীকি মুনিরুপে খ্যাতি লাভ করেন এ শাল বনেই।

 

বারৈয়াঢালা জাতীয় উদ্যান চট্টগ্রামের মিরেরসরাইয়ে অবস্থিত। ২০১০ সালের ৬ এপ্রিল একে সংরক্ষিত বনাঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এই বনের আয়তন ২৯৩৪ হেক্টর।

 
কাদিগড় জাতীয় উদ্যান ২০১০ সালের ২৪শে অক্টোবর ময়মনসিংহ জেলার এই বনাঞ্চলটিকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এর মোট আয়তন ৩৪৪ হেক্টর।

আলতাদিঘী জাতীয় উদ্যান ২০১১ সালের ২৪শে ডিসেম্বর নওগাঁ জেলার এই বনাঞ্ছলটিকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এর মোট আয়তন ২৬৪ হেক্টর।

বীরগঞ্জ জাতীয় উদ্যান ২০১১ সালের ২৪শে ডিসেম্বর দিনাজপুর জেলার এই বনাঞ্ছলটিকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এর মোট আয়তন ১৬৯ হেক্টর।

Published : জুন ১৫, ২০১৭ | 2752 Views

  • img1

  • জুন ২০১৭
    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
    « মে   জুলাই »
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • Helpline

    +880 1709962798