চলুন যাই দলেবলে- রেমা কলেঙ্গার জঙ্গলে

Published : জুন ১০, ২০১৭ | 2294 Views

Rema Kolenga

রেমা-কালেঙ্গা জংগলে, ‎চুনারুঘাট · ‎হবিগঞ্জ

নাম শুনেই কেমন বুনো বুনো এক শিহরণ জাগে। আসলে তাই। এখানে কোনো হিংস্র প্রাণীর ভয় নেই। আর রয়েছে সবুজ নিবিড় নিরিবিলি আর নিরব প্রকৃতির ভেতর রহস্য রোমাঞ্চের গন্ধ। যারা প্রকৃতির কাছাকাছি নিবিড় অরন্যে ঘুরে বেড়াতে চান তাদের জন্য অপেক্ষা করছে রেমা কলেঙ্গার বন। আপনি যদি প্রকৃতিপ্রেমী হোন। প্রকৃতির কোলো থাকা নানা উদ্ভিদ প্রাণীকে দূর থেকে দেখতে চান বিরক্ত না করে তবে আপনার জন্য আদর্শ ট্রেকিং প্লেস রেমা কলেঙ্গা।

রেমা–কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য বাংলাদেশের একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল এবং বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য। এটি একটি শুকনো ও চিরহরিৎ বন এবং সুন্দরবনের পর বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক বনভূমি। এছাড়াও এটি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বণ্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এবং জীব ও উদ্ভিদবৈচিত্র্যে দেশের সবচেয়ে সমৃদ্ধ বনাঞ্চল। সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলায় এর অবস্থান। রেমা–কালেঙ্গা অভয়ারণ্য ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে এটির আরো সম্প্রসারণ করা হয়। (উইকিপিডিয়া)

রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়াশ্রমে আছে ৩৭ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, সাত প্রজাতির উভচর, ১৮ প্রজাতির সরীসৃপ, ১৬৭ প্রজাতির পাখি। এছাড়া ৬৩৮ প্রজাতির গাছপালা ও লতাগুল্মও আছে।

রেমা-কালেঙ্গার বনে পাঁচ প্রজাতির কাঠবিড়ালীর মধ্যে বিরল প্রজাতির মালায়ন বড় কাঠবিড়ালীর একমাত্র বসবাস এ বনেই। তিন প্রজাতির বানর কুলু, রেসাস আর লজ্জাবতী’র দেখা মেলে এ অভয়ারণ্যে। এছাড়াও আছে মুখপোড়া হনুমান, চশমা হনুমান, উল্লুক, মায়া হরিণ, মেছোবাঘ, বন্যশুকর, গন্ধগোকুল, বেজি, সজারু ইত্যাদি। বনের ১৮ প্রজাতির সরীসৃপের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল কোবরা, দুধরাজ, দাঁড়াস, লাউডগা ইত্যাদি।

রেমা-কালেঙ্গা বনের ভেতরে বিজিবি ক্যাম্প ফেলে কিছুদূর সামনে এগুলেই পাওয়া যাবে মুক্তিযদ্ধে শহীদ নায়েক আব্দুল মান্নান বীর উত্তমের কবর। তিন নম্বর সেক্টরের এই যোদ্ধা ১৯৭১ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর পাক হানাদারদের সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে এখানেই শহীদ হন। তাঁর কবরের পাশের বিশাল সেগুন গাছের শরীরে এখনও দেখা মেলে পাক হানাদারদের সেদিনের গুলির চিহ্ন

যেভাবে যেতে পারেনঃ
ঢাকা থেকেঃ বাসে অথবা সিলেটগামী ট্রেনে চার ঘন্টা গেলেই শায়েস্তা গঞ্জ জংশন।
এখান থেকে সরাসরি সিএনজি রিজার্ভ নিয়ে কালেঙ্গা রেঞ্জ চলে আসা যায়, ভারা ৪০০ টাকা। অথবা স্টেশনে নেমে মেক্সি-সিএনজিতে চুনারু ঘাট। ভাড়া জন প্রতি বিশ/ত্রিশ টাকা।এখান থেকে আরো আধা ঘন্টার মধ্যে সিএনজিতে পৌছে যাওয়া যাবে কালেঙ্গা রেঞ্জে।
শ্রীমঙ্গল থেকেঃ থেকে সরাসরি সিএনজি রিজার্ভ নিয়ে কালেঙ্গা রেঞ্জ চলে আসা যায়, ভারা ৬০০/৭০০ টাকা। এ খেত্রে আপনাকে চুনারুঘাট আসতে হবে না । মিরপুর এবং নতুনবাজার হয়ে সি,এন,জি সোজা কালেঙ্গা চলে আসবে । সময় লাগে প্রায় ২ ঘণ্টা।
ভ্রমণ পরামর্ষঃ
শুধু কেলেঙ্গা ঘুরতে চাইলেই আপনি ৭/৮ দিন বিভিন্ন্য ট্রেইলে সময় কাটিয়ে দিতে পারবেন। আবার দিনে গিয়ে ২/৩ ঘন্টার কোন ট্রেইল শেষ করে আবার দিনেই ফিরে আসতে পারবেন । ক্যাম্পিং এর অনুমতি নিয়ে আপনি বিশেষ কিছু স্থানে ক্যাম্প ও করতে পারেন অথবা কালেঙ্গা থাকার জন্য একটি ছোট হোটেল আছে ।

কোথায় থাকবেন
একটি বাংলো আছে। ৩ রুমের টোটাল ভারা পড়ে ২৭০০ টাকা। এক রুম ১০০০ টাকা । খাবার খরচ ডাল+মুরগি+সব্জি+ভাত

কালেঙ্গায় থাকার জন্য আছে বন বিভাগের বিশ্রামাগার। সেখানে অবস্থান করতে হলে সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তার অনুমতি লাগবে। তবে এই জায়গায় থাকার জন্য সবচেয়ে ভালো ব্যবস্থা হল নিসর্গ তরফ হিল কটেজ (০১৭৩১৯৭৭৮০৭)। এর পরিচালক আব্দুর রহমান লাশু। রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়াশ্রমের প্রধান প্রবেশ পথের পাশে অবস্থিত এ কটেজের তিনটি কক্ষে আট জন থাকা যায়। বড় দুটি কক্ষের ভাড়া এক হাজার টাকা আর ছোটটির ভাড়া ৭শ’ টাকা। প্রতিবেলা খাবারের খরচ জনপ্রতি ২শ’ টাকা। আর সকালের নাস্তা ৬০ টাকা।  ( বাংলানিউজ)

ইকো কটেজ

ঢাকা থেকে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে অথবা রেমা’তে অবস্হান করে এই বন দেখতে পারেন। সায়েদাবাদ থেকে সিলেটের বিভিন্ন অঞ্চলের বাস নিয়মিত বিরতিতে ছেড়ে আসে। ভাল হয় শ্রীমঙ্গলে অবস্হান করা। এক্ষেত্রে আপনার ভ্রমণ তালিকায় মাধবকুন্ড, বর্ষিজোড়া, লাউয়াছড়া, সাতছড়ি ইত্যাদি রাখতে পারবেন। শ্রীমঙ্গলে হোটেলের পাশাপাশি ইকো-কটেজেও (নিসর্গ নীরব ইকো-কটেজ, জনাব মোঃ কাজী শামসুল হক, ০১৭১৫০৪১২০৭) থাকতে পারবেন।
রেমা- কালেঙ্গা’তে ফরেস্টের বাংলো রয়েছে। কিন্তু সরকারি ট্যাগ না থাকলে এলাউ করে না। তবে সমস্যা নেই ইকো-কটেজ রয়েছে। নিসর্গ তরফহিল ইকো-কটেজ, জনাব আব্দুর রহমান লাশু, ০১৭৩১৯৭৭৮০৭ (সামহোয়ারইনব্লগ)

 

Published : জুন ১০, ২০১৭ | 2294 Views

  • img1

  • জুন ২০১৭
    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
    « মে   জুলাই »
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • Helpline

    +880 1709962798