দূর্যোগ পর্যটন এখন সময়ের দাবী

Published : জুন ১, ২০১৭ | 1719 Views

দূর্যোগ পর্যটন এখন সময়ের দাবী

দূর্যোগ পর্যটন এখন সময়ের দাবী

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

জীবন জীবিকার সাথে নানাভাবে বদলে যাচ্ছে বিভিন্ন কাজের রুপ। সেগুলোর নানা শাখা প্রশাখা বিকশিত হচ্ছে। আবহমান কাল থেকে বাংলাদেশে বন্যা ঘূর্নিঝড় এবং জলোচ্চাসের জন্য খ্যাত হয়ে আসছে। দেশ বিদেশ থেকে সাহায্য সহযোগিতা আসতো। সম্প্রতি গত ২৯ ও ৩০ মে ঘুর্নিঝড় মোরার আঘাতে কক্সবাজারের উপকূল লন্ডভন্ড হয়ে যায়। এ যাবত ৮ জনের মৃত্যেুর খবর পাওয়া গিয়েছে। প্রায় ৫০ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়েছে। ঘূর্ণিঝগ পূর্ববতী পূর্ভাবাস সচেতনতা এবং বিগত আইলা এবং সিডরের ভয়াবহতার কারণে এবারে প্রাণক্ষয় কম হলেও সম্পদের ক্ষতি ঠেকানো যায়নি। ঘূর্ণিঝড়ের একদিন পর ভারতীয় কোষ্টগার্ড ৩৩  জন বাংলাদেশী জেলেকে সমুদ্র থেকে উদ্ধার করেছে।

১০ নম্বর মহাবিপদ সঙ্কেত নিয়ে মঙ্গলবার সকালে কক্সবাজার উপকূলে আঘাত হানে প্রবল ঘূর্ণিঝড় মোরা। ঝড়ে বঙ্গোপসাগরে ছয়টি মাছ ধরার ট্রলারের ৭১ জন মাঝি-মাল্লা নিখোঁজ হয়েছিল। ঘূর্ণিঘড় মোরার কবলে পড়ে বঙ্গোপসাগরে ডুবে যাওয়া নৌকার ৩৩ মাঝি–মাল্লা ও জেলেকে উদ্ধার করেছে ভারতীয় নৌবাহিনী। পাওয়া গেছে একজনের লাশ।

এদিকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ সেন্টমার্টিনে দেখা দিয়েছে চরম খাদ্য ও পানি সংকট। ১০ হাজারের মতো বাসিন্দা অধ্যূষিত এই দ্বীপে বাংলাদেশ নৌবাহিনী খাদ্য পানি ও চিকিৎসাসেবা দিলেও এখনো সেখানে অভাব রয়েছে ত্রাণ সামগ্রীর। দূর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা হওয়ার কারণে ত্রান সামগ্রী থেকে বঞ্চি হচ্ছে শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দারা। হাজার দশেক লোকের এই দ্বীপের পাশেই রয়েছে জালিয়াপাড়া। উভয় এলাকা রীতিমত ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। সাইক্লোন সেন্টার আর খোলা আকাশের নিচে সময় কাটছে নারী শিশুদের। জেলেদের শত শত মাছ ধরার নৌকা হয়তো ভেসে গেছে নয়তো ভেঙ্গে গেছে ঢেউয়ের আঘাতে। টেকনাফেও দরিদ্র মানুষদের মাঝে খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে। কুতুবদিয়ার মানুষ হাহাকার করছে ত্রানের জন্য। কিছু সরকারী বরাদ্ধ কিছু বিভিন্ন স্বেচ্চাসেবী সংষ্থার ত্রান পৌছলেও প্রয়োজনের তুলনায় সেটা বেশ অপ্রতুল।

কক্সবাজারের নাজিরার টেক ও সমিতি পাড়া, নোয়াখালী পাড়া এসব এলাকার চিত্রও ভিন্ন নয়। এই মুহুর্তে সেসব এলাকায় ত্রান ও খাদ্য সামগ্রী প্রয়োজন। এসব ত্রানে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করা কিংবা বাইরের সহযোগিতা লাভ করার ভালো একটা পদ্ধতি হচ্ছে দূর্যোগ ট্যুরিজম। দূর্যোগ ট্যুরিজম। এর মাধ্যমে আমরা সেখানকার মানুষের পাশে দাড়াতে পারি।

দূর্যোগ ট্যুরিজম মূল ধারণা হলো দূর্যোগ মুহুর্তে দূর্যোগ পূর্ণ এলাকার মানুষের পাশে দাড়ানো।  এই ট্যুরিজম অবশ্যই প্রচলিত ট্যুরিজম এর মত আরামদায়ক নয়। তবে এডভেঞ্চার ট্যুরিজম এর মতো আনন্দদায়ক। সামাজিক ট্যুরিজম এর এই চিন্তার মাধ্যমে সহজে সেসব এলাকার মানুষের পাশে দাড়ানো যায়। বিশেষ করে সেন্টমার্টিন দ্বীপ, শাহপরীর দ্বীপ ও কুতুবদিয়া এমনিতেই পর্যটন গন্তব্য। সেখানকার ন্যাচারাল বিউটি দেখার জন্য আমরা সেখানে যাই। তাই সেসব জায়গার মানুষ শুধু সুখের দিনে নয় দু:খের দিনেও আমাদেরকে তাদের পাশে দেখতে চায়।

সেন্টমার্টিনে বেশকিছু হোটেল রিসোর্ট আছে। যেসব পাকা স্থাপনা রয়েছে সেগুলো অক্ষত আছে। সোলার প্যানেল ভেঙ্গে গেছে এজন্য বিদ্যুৎ সমস্যা থাকতে পারে। তবে থাকার সমস্যা হবে না। আর সাথে করে খাবার নিয়ে যেতে হবে। রান্না করার জন্য লাড়কি ও বাবুচির দেখা মিলবে। যেহেতু এখন শিপ চলছেনা তাই যেতে হবে ট্রলার বা ইঞ্জিনচালিত নৌকায়। সাগর শান্ত থাকলে ভয়ের কিছু নেই। সেখানকার লোকেরা নিয়মিত যাতায়াত করছে। তাছাড়া আনন্দপ্রিয় ও সামাজিক পর্যটকেরা নৌকা চড়েও সেখানে যায়।

শাহপরীর দ্বীপ মুল ভূখন্ডের সাথে কিছুটা সম্পৃক্ত হলেও। লবণক্ষেতের মাঝখানে রাস্তা জোয়ারের তোড়ে ভেঙ্গে গেছে। তাই ২শ মিটারের মতো হেঁটে গেলেই হয়। বাকীটা সিএনজিতে যাওয়া যায়। অবশ্য যদি রাস্তা শুকনো থাকে। এছাড়া সেন্টমাটিনগামী নৌকায় ওঠে শাহপরীর দ্বীপ জেটিতে নামা যায়। অথবা নামাপাড়া থেকে ছোট নৌকায় জালিয়া পাড়া হয়ে শাহপরীর দ্বীপ যাওয়া যায়। সেখানে এলজিইডির ডাকবাংলো আছে। ইচ্ছে করলে রাত কাটানো যাবে। হোম স্টে করা যাবে। টেকনাফ থেকে মাত্র ১ ঘণ্টার রাস্তা তাই চাইলে টেকনাফেও এসে থাকা যাবে।

কুতুবদিয়া মুলত মৎস্যজীবি মানুষদের দ্বীপ। কক্সবাজার থেকে নৌকা বা ট্রলারে চলাচল করা যায়। এটা ঝুকিপূর্ণ নয়। সেখানে সরকারী বাংলো কিংবা হোম স্টে করা যাবে। সমুদ্র শান্ত থাকলে নৌকায়ও থাকা যেতে পারে। শিপ নিয়ে বড় গ্রুপ গেলেতো শিপেই সব করা যাবে। এখানে খাবার ও পানি আছে। তবে যেহেতু দূর্যোগ মুহুর্ত তাই সেসব নিয়ে যাওয়াই ভালো। এসব এলাকার মানুষকে খাবার, পানি, বস্ত্র, টাকা, ইফতার, চিকিৎসা এমনকি ঔষধ প্রদানের মাধ্যমে তাদের পাশে দাড়ানো যায়। এসব নিয়ে সেখানে যেতে পারলে তাদের সাথে সময় কাটানো ও ঘুরে দেখার মাধ্যমে দূর্যোগ পর্যটন এর দৃষ্টান্ত স্থাপন করা যেতে পারে।

টেকনাফে কয়েকটি পয়েন্টে কয়েকহাজার লোক মানবেতর অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে টেকনাফ: যেখানে প্রচুর রোহিঙ্গা শরনার্থিও রয়েছে। নাজিরার টেক যেখানে কুতুবদিয়া থেকেস আসা কিছু লোকও আশ্রয় নিয়েছে। এসব জায়াগায় গাড়ি নিয়ে সরাসরি গিয়ে ত্রাণ বিতরণ করা যাবে।

Published : জুন ১, ২০১৭ | 1719 Views

  • img1

  • জুন ২০১৭
    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
    « মে   জুলাই »
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • Helpline

    +880 1709962798