এগিয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় মোরা। ৭ নম্বর বিপদ সংকেত

Published : মে ২৯, ২০১৭ | 1117 Views

এগিয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় মোরা। ৭ নম্বর বিপদ সংকেত

বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের দিকে ক্রমশ এগিয়ে আসছে  সাগের সৃষ্ট নতুন ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’। আবহাওয়া অফিসের মতে আজ সোমবার ভোরেও এটি চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৫৭০ কিলোমিটার, কক্সবাজার উপকূল থেকে ৪৯০, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬২০ ও পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে  অবস্থান করছিল।  ধারণা করা হচ্ছে এর গতিপথ অনুযায়ী আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল নাগাদ এটি চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার উপকূলে আঘাত হানতে পারে। এসময় এর গতিবেগ ঘন্টায় ৮৮ কিলোমিটারের বেশি হতে পারে। সাগর উত্তাল রয়েছে।

সোমবার আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ জানান, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সাগর তীরের আট দেশের আবহাওয়া দপ্তর ও বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্যানেলের তালিকা থেকে ক্রম অনুসারে ঘূর্ণিঝড়ের নাম ঠিক করা হয়। নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার পর এর নাম হয়েছে ‘মোরা’ (MORA)। এটি থ্যাইল্যান্ডের প্রস্তাবিত নাম।

এছাড়া উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, লক্ষীপুর, ফেনী, চাঁদপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৭ নম্বর বিপদ সংকেত পুনঃ ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে। এদিকে মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৪ নম্বর  স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ৫ নম্বর পুনঃ ৫ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৫ নম্বর বিপদ সংকেত পুনঃ ৫ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর এই নিম্নচাপটি গত মধ্যরাতেই একটি গতিসম্পন্ন ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে। বর্তমানে ঘূর্ণিঝড়টি পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে ও তৎসংলগ্ন এলাকা থেকে কিছুটা উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় ঘুরপাক খাচ্ছে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ আরও শক্তিশালী হয়ে পরবর্তী ১৮ ঘণ্টার মধ্যে সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে। এই পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দর এবং কক্সবাজার উপকূলে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫২ কিলোমিটার। এটি দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত নৌযানগুলোকে অতিসত্বর নিরাপদ স্থানে চলে আসার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ অতিক্রমকালে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর জেলা সমূহ এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণসহ ঘন্টায় ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার গতিতে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলার সমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

নদীবন্দর সমূহের জন্য আজ দুপুর ১টা পর্যন্ত আবহাওয়ার বিশেষ বার্তা বলা হয়, রাজশাহী, রংপুর, পাবনা, বগুড়া টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলসমুহের উপর দিয়ে পশ্চিম/উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার গতিতে অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে বৃষ্টি/বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরসমূহকে ১নম্বর পুন: ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

গতবছর এই সময়ে আঘাত হানে ঘুর্নিঝড় কোমেন,  চট্টগ্রম উপকূলের সন্দ্বীপ, হাতিয়া, কুতুবদিয়া, সীতাকুণ্ড এবং ফেনী উপকূল দিয়ে উপকূল অতিক্রম করতে শুরু করে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু। মোটামুটি ৩০০ কিলোমিটার ব্যাসের এই ঘূর্ণিঝড়ের গতিবেগ ছিলো ৫৪ থেকে  ৮৮ কিলোমিটার। গতবছর কোমেনের আঘাতে চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, কক্সবাজার, ভোলা, পটুয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী জেলায় অন্তত ২৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

 উপকূলীয় জেলাগুলোর নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৪ থেকে ৫ ফুট বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসেপ্লাবিত হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়েছে। ঝড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে বহু বাড়িঘর। সড়কে গাছ পড়ে সড়ক যোগাযোগও বিঘ্নিত হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় বন্ধ রয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ।

গত ১৫ এপ্রিল সকালে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি নিম্নচাপ সৃষ্টি হয় এবং পরদিন তা ঘূর্ণিঝড় ‘মারুথা’য় রূপ নেয়। পরে সেটি দক্ষিণপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে মিয়ানমার উপকূল অতিক্রম করে। ১৮৯১ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ১০০ বছরে ছোট-বড় প্রায় ৭০০টি ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে উপকূলে। যার প্রায় প্রতিটিই সাগর-উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীতে আঘাত হানে। গত কয়েক বছরে আঘাত হানা সিডর ও আইলায় ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছেন বাংলাদেশের জনপদের মানুষ। উপকূলে সিডর-আইলার মতো আরো প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা রয়েছে।

Published : মে ২৯, ২০১৭ | 1117 Views

  • img1

  • Helpline

    +880 1709962798