সামাজিক পর্যটন হতে পারে উন্নয়নের হাতিয়ার

Published : মে ২৫, ২০১৭ | 823 Views

Social Tourism in Bangladesh

সামাজিক পর্যটন হতে পারে উন্নয়নের হাতিয়ার

Jahangir Alam Shovon

সারাবিশ্বে কমিউনিটি ট্যুরিজমের মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলো ট্যুরিস্ট আকৃষ্ট করছে। এতে করে একদিকে তারা বিদেশী মুদ্রা অর্জনের পথকে সুগম করছে। অন্যদিকে তাদের দেশ সমাজ ও সংস্কৃতিকে বিশ্বের দরবারে পরিচিত করে তুলছে। ভারত, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, লাওস, ভিয়েতনাম, ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া প্রভৃতি দেশ কমুউনিটি ট্যুরিজমকে পুঁজি করে গত এক দশকে অভাবনীয় সাফল্যের উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। কমুউনিটি ট্যুরিজম মুলত সোস্যাল ট্যুরিজম বা সামাজিক পর্যটনের একটি অংশ। সামাজিক পর্যটনের আরেকটি দিক হলো মানবিক বা মানবিয় পর্যটন।

মানবিয় পর্যটনের ধারণা হলো আপনি যখন কোনো দেশে ভ্রমণ করতে যাবেন তখন সেখানকার মানুষদের জন্য কিছু কাজ করবেন। যদি সেটা মনুষ্যবিহীন হয় তাহলে সেটা হবে শুধু সামাজিক পর্যটন বা ইকো ট্যুরিজম আর সেটা মানব বসতি হলে সেটা মানবিয় সামাজিক ট্যুরিজম হিসেবে বিবেচিত হবে। যেমন আপনি একটি এলাকায় গিয়ে সেখানকার শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা দিলেন, বয়স্কদের অক্ষরজ্ঞান দিলেন, খাবার স্যালাইন বা ওষধ বিতরণ করলেন, কিংবা তাদের রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করতে পারেন, সেখানে গাছ লাগাতে পারেন, যদি জায়গাটা অপরিচ্চন্ন হয় পরিষ্কার করতে পারেন এগুলো যখন আপনার ট্যুর তালিকায় থাকবে তখন সেটা সামাজিক ও মানবিয় পর্যটন হিসেবে বিবেচিত হবে।

এছাড়া আপনি সেখানে রাস্তা ঘাট পুল কালভার্ট নির্মাণ স্কুল ও হাসপাতাল নির্মাণ এসব কাজও করতে পারেন। এতে আপনি টাকা দিয়ে প্রতিষ্ঠা করবেন এমনটা নাও হতে পারে আপনি একটি ফান্ড রাইজিং প্রোগ্রাম করতে পারেন আপনি একটি সমিতি গঠন করে তাদের দিয়েও কাজগুলো করাতে পারেন আবার আপনি সরকারের কাছে আবেদন ও লবিং করেও তাদের সাহায্য করতে পারেন এমনকি আপনি সে এলাকার লোকদেরকে তাদের অধিকার আদায়ের জন্য সচেতন করার মাধ্যমেও কাজগুলো করতে পারেন।

আপনি যদি স্থায়ী কিছু করতে না পারেন তাহলে অস্থায়ীভাবে কাজ করতে পারেন, একটি স্ব্যাস্থ্যমেলার আয়োজনের মাধ্যমে আপনি একটি দ্বীপের মানুষকে তাদের হেলথ চেকআপের ব্যবস্থা করে দিতে পারেন। একটি কৃষি মেলা আয়োজনের মাধ্যমে আপনি একটি প্রত্যন্ত গ্রামের কৃষকদের পন্যকে শহুরে মানুষদের কাছে তুলে ধরার ব্যবস্থা করতে পারেন। আপনি একটি সংস্কৃতিক উৎসবের আয়োজন করে একটি এলাকার সেংস্কৃতি যেটা শহুরে মানুষের চোখের আড়ালে পড়ে আছে সেটাকে সামনে নিয়ে আসতে পারেন।

আপনি একটি লোকজ ক্রীড়া উৎসবের মাধ্যমে কোনো একটা এলাকাকে তুলে ধরতে পারেন। এভাবে দেশের এক একটা এলাকাকে এক একটি বিশেষ আয়োজনের মাধ্যমে তুলে ধরতে পারেন। কোথাও পিঠা মেলা, কোথাও শাড়ি মেলা, কোথাও মিস্টি মেলো, কোথাও লোকজ মেলা, কোথাও ফল মেলা, কোথাও ফুল মেলা, কোথাও চালের মেলা, কোথাও পেয়ারা মেলা, কোথাও পাহাড়ী মেলা, কোথাও মাছ ও শুটকি মেলা, কোথাও পাখি মেলা, কোথাও পোষাপ্রাণীর মেলা, কোথাও বাহন মেলা, কোথাও বিয়ে মেলা, কোথাও প্রকৃতি মেলা, কোথাও ভেসজ মেলা, কোথাও সবজি মেলা ইত্যাদি আয়োজনে সমৃদ্ধ করতে পারেন।

আমরা আমাদের ৬৪ জেলাকে ৬৪টি বিষয়ে হাইলাইট করে সরকারী বেসরকারীভাবে কাজ শুরু করতে পারি।

জালিয়া পাড়া

ইতোমধ্যে আমি (জাহাঙ্গীর আলম শোভন) বাংলাদেশে সামাজিক পর্যটন ধারণার আলোকে প্রথমবারের মত সামাজিক পর্যটন শুরু করেছি। আমি শুধু লিখার মাঝে সীমাবদ্ধ না রেখে একে নিজের হাতে বাস্তবায়ন শুরু করেছি। গত বছর ২০১৬ সালে আমি যখন পায়ে হেঁটে তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফে যাই তখন আমি পথে পথে নানারকম সচেতনতামূলক কাজের পাশাপাশি দরিদ্র লোকদের সাহায্য সহযোগিতা করেছি।

আমি যতবার সেন্টমার্টিন দ্বীপে গিয়েছি। সেখানকার লোকদের জন্য কাজ করার চেষ্টা করেছি। সেখানে পরিষ্কার পরিছ্চন্নতার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে একাধিকবার বৈঠক করেছি। উন্নয়ন নিয়ে কথা বলেছি। সর্বশেষ গত ১৮ ও ১৯ মে প্রচন্ড গরম উপেক্ষা করে তরুনদের একটি দল নিয়ে সেন্টমাটিণ দ্বীপে গিয়ে সেখানকার প্রায় ৫শ মানুষের রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ে কাজ করেছি এবং যেসব এলাকায় পর্যটকদের ব্যাপক বিচরণ সেসব এলাকায় পরিচ্ছন্নতার কাজ করেছি। এটা কাজ হিসেবে বড়ো না হলেও বাংলাদেশে এইযে সামাজিক পর্যটনের শুভ সূচনা করেছি এটা যদি আরো ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেয়া যায় তাহলে প্রান্তিক মানুষেরা উপকৃত হবে।

আর সামাজিক পর্যটনের এটাই হোক ‍উদ্দেশ্য। আমার পরবর্তী যাত্রা হতে পারে শাহপরীর দ্বীপ। বাংলাদেশের মূল ভূখন্ডের সর্বশেষ এই দ্বীপটিতে ৪০ হাজার মানুষের বাস। অথচ যুগ যুগ ধরে নানা অবহেলায় বেঁচে আছে এখানকার মানুষ। আগামী যেকোনো এক সময় শাহপরীর দ্বীপের মানুষদের জন্য কোনো কর্মসূচী সে সাথে ভ্রমণ নিয়ে হাজির হবো সেখানে। এভাবেই বাংলাদেশে সামাজিক পর্যটনকে প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে মানুষের জন্য কাজ করবো ইনশাআল্লাহ।

Published : মে ২৫, ২০১৭ | 823 Views

  • img1

  • Helpline

    +880 1709962798