বিজয়পুর চিনামাটির পাহাড়

Published : এপ্রিল ২৫, ২০১৭ | 1803 Views

নেত্রকোনা ভ্রমণ

বিজয়পুর চিনামাটির টিলা

গারো পাহাড়ের পাদদেশ লেহন করে এঁকেবেঁকে কংশ, সোমেশ্বরী নদীসহ অন্যান্য শাখা নদী নিয়ে বর্তমান নেত্রকোণা জেলার জলধারায় পলিযুক্ত মাটি হাওড় ও খন্ড খন্ড জলধারায় উর্বর হয়ে আছে এ জেলা। জেলার উঁচু উত্তরাংশ দক্ষিণে ক্রমশ নীচু হয়ে সমতল ভূ-ভাগে রূপ নিয়েছে। সমগ্র জেলাই উর্বর ভূমি দিয়ে গঠিত। সেই উর্বর ভূমিতে বসে ঢেউ এর মেলা। সোনালী ক্ষেত ও হাওড়ের জলের ঢেউয়ে নেচে উঠে এলাকার কৃষকের প্রাণ। তাইতো এ জেলার অন্যতম বৈশিষ্ট কৃষি। এখানে ধান শালিক, ডাহুক, কুড়াসহ নানান রং-বেরঙ্গের পাখির বসে মেলা। এখানে ভোরে পাখির ডাকে নতুর বৌ-এর ঘুম ভাঙ্গে, প্রকৃতি হয় সরব। এ জেলা দূর্গাপুরের চীনা মাটি, হাওড় ও সুস্বাদু বালিশ মিষ্টির জন্য বিখ্যাত।

শুসং দুর্গাপুর, স্বচ্ছ পানি আর চিনামাটির অপরূপ মেলবন্ধনের এক নাম। প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যময় গারো পাহাড়ের মনোরম দৃশ্য যে কারও নজর কাড়ে। দুর্গাপুরের বুক বেয়ে চলা সোমেশ্বরী নদীর ছন্দময় চলনও বেশ আকর্ষণীয়। ঋতুচক্রের পালাক্রমে নদী তার রূপ বদলায়। সূর্যের আলোয় চিকচিক করে স্বচ্ছ পানি আর সাদা বালি। এ যেন প্রকৃতির এক অনন্য সৃষ্টি। তটিনীর আঁকাবাঁকা জলধারারের ওপর দিয়ে বয়ে চলেছে কত নৌকা, স্টিমার ও লঞ্চ।

চিনা মাটির প্রাচীন ইতিহাস না জানা গেলেও ১৯৫৭ সাল থেকে এ মাটি উত্তোলনের কাজ শুরু হয়। ১৯৬০ সালে সর্বপ্রথম কোহিনুর এলুমিনিয়াম ওয়ার্কস নামে একটি প্রতিষ্ঠান এই সাদামাটি উত্তোলনের কাজ শুরু করে। পরে ১৯৭৩ সালে বিসিআইসি সাদামাটি উত্তোলনে যোগ দেয়। বর্তমানে ৯টি কোম্পানী এই সাদামাটি উত্তোলনের কাজ করছে। প্রায় ৩০০ জন শ্রমিক এই মাটি উত্তোলনের সাথে জড়িত। বিভিন্ন রংয়ের মাটি, পানি ও প্রকৃতির নয়নাভিরাম সৌন্দর্য মনকে বিমোহিত করে। সাদা, গোলাপী, হলুদ, বেগুনি, খয়েরী, নিলাভ বিভিন্ন রংয়ের মাটির পাহাড় চোখকে জুড়িয়ে দেয়। সাদামাটি এলাকা জুড়ে আদিবাসীদের বসতি।
দুর্গাপুর উপজেলা পরিষদ থেকে ৭ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে কুল্লাগড়া ইউনিয়নের আড়াপাড়া ও মাইজপাড়া মৌজায় বিজয়পুরের সাদা মাটি অবস্থিত। বাংলাদেশের মধ্যে প্রকৃতির সম্পদ হিসেবে সাদা মাটির অন্যতম বৃহৎ খনিজ অঞ্চল এটি। ছোট বড় টিলা-পাহাড় ও সমতল ভূমি জুড়ে প্রায় ১৫.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ৬০০ মিটার প্রস্থ এই খনিজ অঞ্চল। খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী ১৯৫৭ সালে এই অঞ্চলে সাদামাটির পরিমাণ ধরা হয় ২৪ লক্ষ ৭০ হাজার মেট্রিক টন, যা বাংলাদেশের ৩ শত বৎসরের চাহিদা পুরণ করতে পারে।
বিজয়পুরে দেশের সর্ববৃহৎ চীনামাটির খনি, বিরিশিরি উপজাতীয় কালচারাল একাডেমী রানীখং পাহাড়ি টিলার ওপর অপরূপ শোভামণ্ডিত বাংলাদেশের সর্বপ্রথম খ্রিস্টান ক্যাথলিক গির্জা, হাজং মাতা রাশিমনি হাজংয়ের স্মৃতিসৌধসহ আদিবাসীদের আতিথেয়তা পর্যটকদের আকর্ষণ করার মতো।
বিখ্যাত খাবারের নামনেত্রকোনার বালিশ মিষ্টি
নদী সমূহ মগড়া, কংশ,সোমেশ্বরী, ধনু নদী
যাতায়াত
সোমেশ্বরী নদী পাড়হয়ে রিক্সা বা হোন্ডায় অর্ধ কাচা-পাকা রাস্তা দিয়ে বিজয়পুরের সাদামাটি অঞ্চলে যাওয়া যায়।

ছবি: ওয়াহেদ সুজন এর ব্লগ থেকে

Published : এপ্রিল ২৫, ২০১৭ | 1803 Views

  • img1

  • এপ্রিল ২০১৭
    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
    « মার্চ   মে »
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
  • Helpline

    +880 1709962798