দাগনভূঞার জমিদার বাড়ী

Published : এপ্রিল ২২, ২০১৭ | 845 Views

সাদেক সাহেবের বাড়ী

দাগনভূঞার জমিদার বাড়ী

দাগনভূঞা উপজেলার পূর্ব নাম গোপীগঞ্জ/গুপিগঞ্জ যা  ভূলিুয়া রাজ্যের অধীনে শাসিত হতো । ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রখ্যাত জমিদার শ্রী অরুণ সিং বাহাদুরের স্ত্রীর নাম ছিল শ্রী গোপীদেবী যিনি স্বামীর জমিদারীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সে থেকে তার নাম অনুসারে জমিদারী স্টেট  গোপীগঞ্জ নামে পরিচিতি লাভ করে। জমির আহমেদ-এর সূত্র মতে পরবর্তীতে মুঘল সম্রাট শাহাজাহানের পুত্র শাহাজাদা সুজার আমলে বারভূঁঞাদের কোন এক উপবংশের মাতুভূঁঞা ও দাগনভূঁঞা নামে দু’জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ঐ সময় ফেনীর পশ্চিমাঞ্চলে বসতি পত্তন করে ছিলেন। মাতুভূঁঞা ও দাগনভূঁঞা এই দুই ব্যক্তির একজন মাতুভূঁঞা বর্তমানে ভূঁঞা বাড়িতে এবং অপরজন দাগনভূঁঞা দিঘীর আশে পার্শ্বে স্থায়ী বসতি স্থাপন করেন বলেন ধারনা করা হয়। যার নাম অনুসারে এলাকাটি দাগনভূঁঞা হিসেবে খ্যাতি পায়।

প্রতাপপুর জমিদারবাড়ি:

বাংলা ১২২৮ সালের ১৩ ফাল্গুন শেষ হয় রামনাথ কৃষ্ণ সাহা জমিদারবাড়ি নির্মাণকাজ। এটি বর্তমান দাগনভূঞা উপজেলার প্রতাপপুর এলাকায় অবস্থিত। এলাকায় প্রতাপপুর বড়বাড়ি নামেও এটি পরিচিত।  সাড়ে ১৩ একর জমিতে নির্মিত জমিদার রামনাথ কৃষ্ণ সাহার বাড়ি। নিজ নামেই তিনি নির্মাণ করে যান রাজপ্রাসাদসম বাড়ি। রামনাথরা ছিলেন পাঁচ ভাই। তারা থাকতেন পাঁচটি দ্বিতল ভবনে। বাড়ির ভেতরে ১২টি পুকুরে মাছ চাষ হতো জমিদারের তত্ত্বাবধানে। বাড়ির ভেতরে পাঁচটি পুকুরের ৫টি পাকা ঘাটে স্নান করতেন বউঝিরা। মাঠের ধানে ভরে যেত উঠানঘর, গোলা আর কাচারি ঘর। ধান উঠানো শেষে শুষ্ক মৌসুমে সেই জমিতে চাষ হতো সরিষা, মটরশুটি, খেসারি, কলাই মুসরিসহ বিভিন্ন রবিশস্য। ঘোড়ায় চড়ে যাতায়াত করতেন এবাড়ি ওবাড়ি। সিন্দুরপুর রাজাপুর এলাকায় পরিষদ ভবনে বসে ১০ তালুকের খাজনা আদায় করতেন তিনি। সেই খাজনা জমা দিতেন সরকারি কোষাগারে। একসময় জমিদার রামনাথ কৃষ্ণ সাহার কথায় ওঠবস করত এলাকার মানুষ।

বিভিন্ন জমিদার রামনাথ সাহার বংশের লোকজন এলাকা ছাড়তে শুরু করে। বংশের উত্তরাধিকার মানস সাহা জানান, নিরাপত্তার অভাব, ব্যবসায়িক যোগাযোগ সমস্যার কারণে ১৯৯৮ সালের দিকে বড় বাড়িটি ছেড়ে দিয়ে তার বংশধররা ঢাকা, চট্টগ্রাম, কলকাতা ত্রিপুরায় পাড়ি জমান। চাষের জমি, পুকুর গাছপালা বর্গা দেওয়া হয়েছে। বছরে দুবার এসে বর্গার টাকা নিয়ে যান সাহা বংশের উত্তরাধিকাররা। প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারিতে এখানে দুদিনব্যাপী উৎসব হয়। উৎসবে উপস্থিত থাকেন জমিদারদের নাতিপুতিরা। উৎসবে চলে জমিদার বাড়ির স্মৃতিচারণ, পুঁথি পাঠ গল্প পাঠের আসর

মাতুভুঁইয়া জমিদার বাড়ী:

তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে

 

দাগনভূঞা জমিদার বাড়ী

তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে

মহেশদিয়া ঠাকুর বাড়ী

তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে

পূর্বচন্দ্রপুর জমিদার বাড়ী:

তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে

 

 

 

 

বেকের বাজার মিয়া বাড়ী

দাগনভূঞার গুরুত্বপূর্ণ স্থান

 

 

 

 

দাগনভূঞার কৃতি সন্তান

এ উপজেলায় জন্ম নিয়েছেন জাতির অনেক শ্রেষ্ঠ সন্তান। যাদের উত্তরসূরী হতে পেরে এ উপজেলার জনগণ যেমন গর্বিত তেমনি এ জনপদও ধন্য। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের আয়ুববিরোধী  গণঅভ্যুত্থানসহ সর্বোপরি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধসহ জাতীয় সকল ঐতিহাসিক আন্দোলন-সংগ্রামে এখানকার বীর সন্তানেরা রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

দাগনভূঞার কৃতি সন্তানদের মধ্যে ভাষা শহীদ আবদুস সালাম, সুফি সাধক দেওয়ান হাফেজ আবদুর রশিদ, মাওলানা মোহমাম্মদ ইছহাক, নূর মোহাম্মদ আজমী, পাকিস্তান আমলের মন্ত্রী হামিদুল হক চৌধুরী, সাংবাদিক জহুর হোসেন চৌধুরী, ড. ফেরদৌস আহমেদ কোরেশী, খ্যাতিমান শিল্পপতি আবদুল আউয়াল মিণ্টু, ব্যবসায়ী হামিদুল হক, রাজনীতিবিদ সাবের হোসেন চৌধুরী, এয়ার ভাইস মার্শাল এজি মাহমুদ, এয়ার ভাইস মার্শাল সুলতান মাহমুদ, নির্বাচন কমিশনার আবদুর রশিদ, রাজউক চেয়াম্যান প্রকৌশলী নুরুল হুদা, খ্যাতিমান ক্রীড়াবিদ পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল টিম এর সহ অধিনায়ক নুরুন নবী চৌধুরীসহ আরও অনেক। বর্তমানে কবি ও সাহিত্যিক খুরশিদ আলম সাগর, কবি আরিফ ম্ঈনুদ্দিন, রাজনীতিবিদ রিন্টু আনোয়ার অন্যতম।

কভার ছবি: দাগনভূঞা উপজেলার ৫ নং ইয়াকুব পুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ছাদেক সাহেবের বাড়ী বৈঠকখানা।

Published : এপ্রিল ২২, ২০১৭ | 845 Views

  • img1

  • এপ্রিল ২০১৭
    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
    « মার্চ   মে »
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
  • Helpline

    +880 1709962798