বরগুনায় আছে চিনি বিবির মসজিদ

Published : এপ্রিল ২১, ২০১৭ | 1306 Views

বরগুনা , অসংখ্য খাল-বিল, নদ-নদী আর সবুজ বন-বনানী দিয়ে সাজানো ঐতিহ্যবাহী এক জনপদএখানকার ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে দেশের খুব কম মানুষই খোঁজখবর রাখেন বরগুনার অন্যতম ঐতিহ্য বিবিচিনি শাহী মসজিদ নিয়ে আজকের আয়োজনএটিকে কেন্দ্র করে এখানে গড়ে উঠতে পারে সম্ভাবনাময় এক পর্যটন স্পট।

সম্রাট শাহজাহানের সময় সুদূর পারস্য থেকে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে শাহ নেয়ামতউলল্লাহ দিল্লিতে আসেনএ সময় দিল্লির সম্রাট শাহজাহানের দ্বিতীয় পুত্র বঙ্গদেশের সুবাদার শাহ সুজা তার শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন এবং কতিপয় শিষ্যসহ বজরায় চড়ে তিনি ইসলাম প্রচার ও ইবাদতের জন্য ভাটির মুল্লুকে প্রবেশ করেনশাহ নেয়ামতউল্লাহ বজরায় চড়ে দিল্লি থেকে রওনা হয়ে গঙ্গা নদী অতিক্রম করে বিষখালী নদীতে এসে পৌঁছলে বিবিচিনিতে শাহজাদা বাংলার সুবেদার মোহাম্মদ শাহ সুজার অনুরোধে একই গ্রামে এক গম্বুজবিশিষ্ট এই মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেনবিবিচিনি গ্রামের পার্শ্ববর্তী গ্রাম নেয়ামতিনেয়ামতিও নেয়ামত শাহের নামানুসারে নামকরণ করা হয় বলে জানা যায়

বিবিচিনি শাহী মসজিদ আমাদের দেশের অন্যতম ঐতিহাসিক স্থান। ১৬৫৯ সালে হযরত শাহ নিয়ামত উল্লাহ (রঃ) পারস্য থেকে এই অঞ্চলে আসেন ইসলাম প্রচার করতে। এই মসজিদটি এবং এখানকার গ্রামটি তাঁরই কন্যা “হায়াচ বিবি চিনির” নামে নামকরন করা হয়েছে। এই মসজিদটি ৩৩ ফুট লম্বা, ৩৩ ফুট চওড়া এবং মসজিদটির দেয়াল ৬ ফুট প্রশস্ত। মসজিদের পাশে ৪০ফুট থেকে ৪৫ফুট লম্বা তিনটি কবর আছে যেগুলো বিলীন হবার পথে। স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায় এই তিনটি কবর হল হযরত শাহ নিয়ামত উল্লাহ (রঃ) ও তাঁর দুই কন্যা চিনিবিবি এবং ইশা বিবির। ১৭০০ সালে হযরত শাহ নিয়ামত উল্লাহ (রঃ) এর মৃত্যুর পর তাঁকে মসজিদের পাশে সমাহিত করা হয়।‘বিবি চিনি’ মসজিদও মুঘল আমলে প্রতিষ্ঠিত।

মসজিদের পাশেই রয়েছে ৩টি ব্যতিক্রমধর্মী কবর, কবরগুলো সাধারণ কবরের ন্যায় হলেও লম্বায় ১৪-১৫ হাতমসজিদের পশ্চিম ও উত্তর পাশে অবস্থিত কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন সাধক নেয়ামতউল্লাহ এবং চিনি বিবি ও ইছা বিবিইতিহাস থেকে যতটুকু জানা যায়, ১৭০০ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট আওরঙ্গজেবের রাজত্বকালে নেয়ামত শাহের ইহকাল ত্যাগের পর তাকে এ স্থানে সমাহিত করা হয়

একসময় এ অঞ্চল ছিল মগ ফিরিঙ্গিদের তুমুল হামলার আড্ডাভূমিহামলার প্রতিরোধ ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে মসজিদটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেমগ ফিরিঙ্গিদের দমনের জন্য শাহ সুজা ঝালকাঠির সুজাবাদে এক সেনানিবাস গড়ে তোলেন, যা সুজাবাদ কেল্লা নামে পরিচিত

বরগুনার বেতাগী উপজেলা সদর থেকে আঞ্চলিক মহাসড়ক ধরে উত্তর দিকে ১০ কিলোমিটার পথ অগ্রসর হলেই বিবিচিনি গ্রামদিগন্তজোড়া সবুজের বর্ণিল আতিথেয়তায় উদ্ভাসিত ভিন্ন এক ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যে উঁচু টিলার উপর মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে মোঘল স্থাপত্যকর্মের এই ঐতিহাসিক মসজিদ

 যাতায়াত

ঢাকা থেকে বরগুনা কিভাবে যাবেন জানতে এখানে ক্লিক করুন। বরগুনা শহরে পৌঁছে আপনি সহজেই রিকশা, অটোরিকশায় করে এই ঐতিহাসিক মসজিদটিতে পৌছাতে পারবেন। ঢাকা থেকে বরগুনায় চলাচলকারি বাসগুলোর মধ্যে আছেঃ

১। আবদুল্লাহ পরিবহন, ফোনঃ ০১৭০০৬২৫৮০৯, ০১৯১২৪২৮৭৯০, ০১৯২৮১৩৭১৪২, ০১৭১৪৬৬২৭৩২ (সায়েদাবাদ কাউনটার), ০১৯১৫৮৪৪৫২৬, ০১৯১৪৪২৪৬৮৭ (বরগুনা সদর কাউনটার)
২। শাকুরা পরিবহন, ফোনঃ ০১১৯০৬৫৮৭৭২ (গাবতলি কাউনটার), ০১৭২৫০৬০০৩৩ (সায়েদাবাদ কাউনটার)
এই বাসগুলোর ভাড়া ৩০০/- টাকা থেকে ৫০০/- টাকার মধ্যে।

 থাকার ব্যবস্থা

বরগুনায় থাকার জন্য বেশকিছু আবাসিক হোটেল ও রেস্ট হাউজ রয়েছে। আপনার সুবিধার্থে কিছু হোটেল ও রেস্ট হাউজের তথ্য নিম্নে দেওয়া হলঃ
১। জেলা পরিষদ রেস্ট হাউজ (ফোনঃ ০৪৪৮-৬৪১০)
২। খামারবাড়ি রেস্ট হাউজ (ফোনঃ ০৪৪৮-৬৪৪৯)
৩। পানি উন্নয়ন বোর্ড রেস্ট হাউজ (ফোনঃ ০৪৪৮-৬৫৫১)
৪। এভাগ্র সার্ভিস সেন্টার (ফোনঃ ০৪৪৮-৬৭০৮)
৫। গণপূর্ত অধিদফতর (ফোনঃ ০৪৪৮-৬৫০৫)
৬। ইলাজি ডি রেস্ট হাউজ (ফোনঃ ০৪৪৮-৬০৫৪)
৭। সিয়ারাপি রেস্ট হাউজ (ফোনঃ ০৪৪৮-৬০৫১)
৮। হোটেল আলম, ফোনঃ ০৪৪৮-৬২২৩৪
৯। বরগুনা রেস্ট হাউজ, ফোনঃ ০১৭১৮৫৮৮৮৫৬
১০। হোটেল তাজবিন, ফোনঃ ০৪৪৮-৬২৫০৩

Published : এপ্রিল ২১, ২০১৭ | 1306 Views

  • img1

  • এপ্রিল ২০১৭
    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
    « মার্চ   মে »
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
  • Helpline

    +880 1709962798