একজন মাশাহেদ হাসান সীমান্ত

Published : এপ্রিল ১৫, ২০১৭ | 1776 Views

অসীম সীমান্তে একজন পথিক

ছোট ছেলেটি ভিড়ের মধ্যে একদমই তাকে চোখে পড়েনা। বরং গাদাগাদি ভীড় হলে হারিয়ে যেতে পারে। তার উপর একহারা গড়ন উচ্চতাও খুব বেশী নয়। এ ধরনের শারীরিক যোগ্যতার লোকেরা সাধারণত আত্মবিশ্বাসী হয়না এবং একরকম নিজেকে লুকিয়ে রাখতেও পছন্দ করে। কিন্তু এই ছেলে একেবারে আলাদা কারন এর নাম মাশাহেদ হাসান সীমান্ত।

( বিশিষ্ট মোটিভেশনাল স্পিকার জনাব ইকবাল বাহার এর আমন্ত্রনে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে সুলায়মান সুখন ও আলমাছুর রহমান, সাব্বির সরকার, ফারাবি হাফিজ, প্রিত রেজা সহ মোটিভেশনাল স্পিকারগণ)

মাশাহেদ হাসান সীমান্ত। পড়াশোনা করছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। তিনি একজন বক্তা, ট্রেইনার এবং পার্সোনাল ডেভেলপমেন্ট কোচ। আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।  ২০ বছর বয়স থেকে ইন্টারন্যাশনাল পাবলিক স্পিকিং কনটেস্ট এর বিচারক ছিলেন তাও টানা তিন বার, এই কম্পিটিশনের আয়োজক ছিলো “ইংলিশ স্পিকিং ইউনিয়ন” ।

মাত্র ২৩ বছর বয়সে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাউজ অফ কমেন্স এ বক্তব্য দেয় মাশাহেদ হাসান সীমান্ত। বিশ্ববিদ্যালয় এ ৩য় বর্ষে পড়ার সময় সে বিসিএস এ চান্সপাপ্ত ক্যাডারদের ট্রেনিং দেয় তথচ নিজের বিসিএস দেয়ার জন্য নূনতম যোগ্যতা পূরন হয়নি তখনো। ২০ বছর বয়স থেকে ইন্টারন্যাশনাল পাবলিক স্পিকিং কনটেস্ট এর বিচারক ছিলেন তাও টানা তিন বার, যেগুলো আবার আয়োজন করা হয়েছিলো অক্সফোর্ড ও ক্যম্বব্রীজ বিশ্ববিদ্যালয়ে।  জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এ আইবিএ ৩য় বর্ষে পড়ার সময় আইবিএ র ই ফাস্ট ইয়ারের ছাত্রদের ক্লাস নেয়ার জন্য ডাক পড়ে তার।  দেশের বিভিন্ন জেলায় ১০০ র বেশি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। অসংখ্য মানুষকে জীবনের ইতিবাচক শিক্ষার উপর মোটিভেট করার চেষ্টা করছেন।  জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পুরস্কার ঘরে তুলেছেন তিনি। ছোট ছেলেটির নাম শুনলে এখন তরুনরা পকেটের পয়সা খরচ করে বক্তৃা শুনতে যায়। অনেক তরুন তাকে আদর্শও মানেন।

আমরা জানি আমাদের দেশে মোটিভেশনাল স্পিকার হিসেবে সবার  শীর্ষে রয়েছেন স্যার আবদুল্লা আবু সায়ীদ। তার শব্দচরণ তার ভাষাভঙ্গি তার জ্ঞানের গভীরতায় হয়তো এক শতকেও কেউ তার ধারে কাছে আসতে পারবেনা। তিনি অশ্রাব্য সস্তা বাক্যবান করেন না। তিনি সস্তা বিনোদন দিয়ে জনপ্রিয়তা নিতে চান না। তার বাইরে বর্তমানে ইতিবাচক চিন্তার যেসব তরুন নতুন এক স্বপ্নের বাংলাদেশ বির্নিমানে নতুন প্রজন্মের মাঝে চেতনা ও মূল্যবোধ তৈরীতে কাজ করছে সীমান্ত তাদের একজন।

 মোটিভেশন স্পিকার হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও বিশ্ববিদ্যালয় এ নিয়মিত আমন্ত্রণ পান। অথচ তার জীবন ছিলো ব্যর্থতায় ভরা। কলেজে পড়ার সময় টিসি পাপ্ত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় এ প্রথম বর্ষেই হয়ে যায় ড্রপ আউট। তার একটা কথা আমার কানে এখনো বাজছে ” জীবনে তোমার যত বেশি ব্যর্থতা থাকবে তত বেশি গল্প তৈরি হবে বলার জন্য, so celebrate this”। তার সম্পর্কে এমনটাই ফেসবুক টাইমলাইনে লিখেছেন এক তরুন। 

জীবন কঠিন কিছু নয় এমনটাই তার বিশ্বাস তাই ব্যর্থ তরুনদের সাথে নিয়ে গড়ে তুলেছেন Live- Life Is Very Easy আন্দোলন। তিনি সাক্ষাৎকারে তার নিজের সংগঠন সম্পর্কে বলেন, আমাদের এই মুহূর্তে ৪০ জনের মত সদস্য রয়েছে। আমাদের প্লান চার ধরনের কন্টেন্ট তৈরি করা-স্লাইড যেখানে এক লাইনের মেসেজ থাকবে, কিছু বড় লেখা, ভিডিও, অডিও ফাইল। এগুলো অনলাইন ভিত্তিক হবে। আগামী বইমেলায় বর্ণপ্রকাশ থেকে ‘লাইফ ইজ ভেরি ইজি’ নামে একটা বই বের করব।

ব্যর্থ জীবনকে প্রভাবিত করে সাকসেসফুল করে তোলাই এই আন্দোলনের উদ্দ্যেশ্য।

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

Published : এপ্রিল ১৫, ২০১৭ | 1776 Views

  • img1

  • এপ্রিল ২০১৭
    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
    « মার্চ   মে »
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
  • Helpline

    +880 1709962798