ইসা খাঁর জঙ্গলবাড়ী ইতিহাসের স্মৃতি

Published : এপ্রিল ৯, ২০১৭ | 2573 Views

ইশা খাঁর কাচারি বাড়ী

ইসা খাঁর জঙ্গলবাড়ী ইতিহাসের স্মৃতি

কিশোর গঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় নরসুন্দা নদীর তীরে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মনোরম জঙ্গলবাড়ি ছিল ঈশা খাঁর দ্বিতীয় রাজধানী। ধারণা করা হয় এগারো সিন্ধুর যুদ্ধে মানসিংহের কাছে পরাজিত হওয়ার পর লক্ষন সিং হাজরার কাছ থেকে ঈসা খান দুর্গটি দখল করেন। সম্ভবত লক্ষন হাজরা ঈসা খান কেউই দুর্গটির প্রকৃত  নির্মাতা নন। তাদের পূর্বের কেউ দূর্গটি নির্মাণ করেন।  প্রাপ্ত নির্দেশনাবলি সম্ভবত প্রাক-মুসলিম আমলে এবং এটি ছিল একটি সমৃদ্ধশালী জনবসতির কেন্দ্র। ইসা খাঁর উত্তরসূরী মুসা খান মোঘল আধিপত্য স্বীকার করে নেবার পর কালক্রমে তারা এ অঞ্চলের জমিদারে পরিণত হন। মুসা খানের দৌহিত্র হয়বত খান ‘হয়বতনগর’ নামে একটি শহর প্রতিষ্ঠা করেন। এখানে থেকেই তিনি সাতটি পরগনা শাসন করতেন। কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার অধীনে জঙ্গলবাড়ি গ্রামে এই বিখ্যাত দুর্গটি। দুর্গটি বর্তমানে ধ্বংস প্রাপ্ত।

ঈশা খাঁর জঙ্গলবাড়ি প্রকৃতপক্ষে ঈশা খাঁর দ্বিতীয় রাজধানী ছিল। বর্তমানে এটি বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তর কর্তৃক তালিকাভুক্ত একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা। দুর্গটি ছিল বৃত্তাকার। তিন দিকে গভীর পরিখা পূর্বদিকে নরসুন্ধা নদীর সঙ্গে যুক্ত। দুর্গ স্থলটিকে এখনও একটি দ্বীব বলে মনে হয়। ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কিছু ইটের টুকরা, মৃৎপাত্রের ভগ্নাংশ এবং কয়েকটি নিচু ঢিবি ছাড়া দুর্গটির আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।

ঈশাখাঁর জঙ্গলবাড়ি দুর্গের একটি দরবার হল সংস্কার করে স্থানীয় প্রশাসন স্থাপন করেছে ‘ঈশাখাঁ স্মৃতি জাদুঘর।’ এখানে কয়েকটি ছবি, ঈশাখাঁর বংশ তালিকা ছাড়া ঈশাখাঁর স্মৃতি বিজড়িত তেমন কিছুই নেই। ই দূর্গ থেকে যুদ্ধ পরিচালনা করে পরে ইশা একে একে তিনি সোনারগাঁওসহ মোট ২২টি পরগণা দখল করেন। দূর্গটিতে  উত্তর-দক্ষিণে দুটি চত্বর রয়েছে। দক্ষিণ দিকে একটি তোরণ আছে। তোরণটির সামনের দিকে ‘করাচি’ নামে একটি পূর্বমূখী একতলা ভবন রয়েছে। তোরণের পিছনে ‘অন্দর মহল’ নামে এক তলা দক্ষিণ মুখী একটি ভবন রয়েছে।  সামনে ঈশা খাঁর সময়ের খনন করা একটি দীঘি আছে। তার পাশেই আছে একটি তিনগম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ। ধারণা করা হয়, ঈশা খাঁই মসজিদটি নির্মাণ করেছেন। মসজিদটিতে রয়েছে মোগল স্থাপত্যশৈলীর ছাপ। মসজিদের পাশেই ঈশা খাঁর বংশধরদের বাঁধানো কবর রয়েছে।

কিভাবে যাবেন?

গুলিস্তান থেকে প্রতি ঘণ্টায় কিশোরগঞ্জের বাস ছাড়ে [ঈঁশাখা সার্ভিস] মহাখালী থেকে [কিশোরগঞ্জ ট্রভেলস, অনন্যা, ডিজিটাল অনন্যা, এগারসিন্দুর, হাওড় বিলাস]। তাছাড়া সকাল  ৭টা ৩০ মিনিটে  ঢাকা কমলাপুর রেলষ্টশন থেকে এগারসিন্দুর এক্সপ্রেসে কিশোরগঞ্জ যাওয়া যায়   ছুটির দিনে তিন ঘণ্টায় পেঁছোনো যায় কিশোরগঞ্জ। তারপর সাত কিলোমিটার বাস, অটো রিকশায়  চেপে  জঙ্গলবাড়ি।

 

Published : এপ্রিল ৯, ২০১৭ | 2573 Views

  • img1

  • এপ্রিল ২০১৭
    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
    « মার্চ   মে »
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
  • Helpline

    +880 1709962798