চরের নাম কুকরি মুকরি

Published : এপ্রিল ৩, ২০১৭ | 1370 Views

চরের নাম কুকরি মুকরি

বরিশাল বিভাগের ভোলা জেলায় চর কুকরি মুকরি। ধান নদী খাল এই তিনে বরিশাল তবে আরেকটা জিনিস তার সাথে যোগ হতে পারে সেটা হলো নদী বা সাগরের তীরে সুন্দর সুন্দর চরগুলো। আগামী দিনে পর্যটনের দারুন সম্ভাবনা নিয়ে আসবে বরিশালের এই সৌন্দর্যমন্ডিত চরগুলো। ভোলা জেলা শহর থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে অনেকটা সাগরের কোল ঘেষে মেঘনা ও তেতুঁলিয়া নদীর মোহনায় গড়ে ওঠা এই চর কুকরি মুকরিতেই রয়েছে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য।   কথিত আছে যে একসময় এই চরে শুধুমাত্র কুকুর আর ইঁদুর (স্থানীয়দের কাছে যা মেকুর নামে পরিচিত) ছাড়া আর তেমন কিছুই চোখে পড়তো না। আর তাই এই চরের নামকরণ হয় চর কুকরি মুকরি।

এখানকার নিঝুম  প্রকৃতি, সবুজে ঘেরা চারদিক আর মুক্ত পাখালির দল আপনাকে গান শোনাবেই। পশুগুলো চরে বেড়ায় দিগন্তজোড়া মাঠজুড়ে মনে হয় যেন যত্নে আঁকা এক রংীন খ্যানভাস। এখানকার সমুদ্র সৈকতটিও বেশ পরিচ্ছন্ন ও নিরিবিলি। চর কুকরি মুকরির বনে যেসব প্রাণী দেখা যায় তার মধ্যে রয়েছে চিত্রা হরিণ, বানর, উদবিড়াল, শিয়াল প্রভৃতি। আর পাখিও সরিসৃপ হিসেবে এই বনের অধিবাসীদের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির বক, বন মোরগ, শঙ্খচিল, মথুরা, কাঠময়ূর, কোয়েল, গুইসাঁপ, বেজি, কচ্ছপ ও নানা ধরনের সাপ।

১৯৭২ ও ১৯৭৩ সালে চরকুকরি মুকরি এলাকায় প্রশাসনিক উদ্যোগে বনায়নের কাজ শুরু হয়। এ সময় মূলত শ্বাসমূলীয় গাছের চারা রোপণ করে বনায়ন শুরু করা হলেও পরে ক্রমে ক্রমে যুক্ত হয় সুন্দরী, গেওয়া, পশুর প্রভৃতি গাছের চারা রোপণ। এ ছাড়া গোটা এলাকা জুড়েই চোখে পড়ে বিপুল সংখ্যক কেওড়া গাছ। মূলত বিশাল এলাকা জুড়ে গড়ে ওঠা এই সব গাছ আর আশপাশের নারিকেল গাছ, বাঁশ ও বেত বন মিলেই এখানে তৈরি হয়েছে আকর্ষণীয় একটি ম্যানগ্রোভ বা শ্বাসমূলীয় বনাঞ্চল।

ইতিহাস পর্যালোচনায় জানা যায়, প্রায় ৮’শ বছরের পুরনো এই স্বপ্নের দ্বীপ কুকরি-মুকরি বর্তমানে দক্ষিণাঞ্চল তথা সর্বাঞ্চলের কাছে অতি পরিচিত নাম। ৭’শ বছর আগে এখানে ও মনপুরায় পূর্তগীজ জলদস্যূদের আস্তানা ছিল। কিন্তু কোন এক সময় এই চরটি পানির তলে হারিয়ে যায়। পরবর্তীতে ১৯১২ সালে এই চরটি আবার জেগে ওঠে।
দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার কুকুরি-মুকুরি চরে বন সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকে বনায়ন করার নিদের্শ দিলে ১৯৭৩ সনে বনায়ন শুরু হয়। এরপর বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে এটি একটি আকর্ষণীয় পর্যটন স্থানে পরিণত হয়।
যেভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে লঞ্চে সরাসরি চলে যাবেন ভোলা জেলার চরফ্যাশনের বেতুয়া কিংবা গোঁসাইবাড়ি ঘাটে। সেখান থেকে মোটরসাইকেল কিংবা সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া করে যাবেন চর কচ্ছপিয়া। এরপর চর কচ্ছপিয়া ট্রলার ঘাট হয়ে আবারো ইঞ্জিন নৌকায় বেশ খানিকটা জলপথ পাড়ি দিয়ে পৌঁছাবেন চর কুকরি মুকরিতে।
সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক, ছবি: ‘‘বোকা পর্যটকের ডায়রী’’ থেকে

Published : এপ্রিল ৩, ২০১৭ | 1370 Views

  • img1

  • এপ্রিল ২০১৭
    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
    « মার্চ   মে »
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
  • Helpline

    +880 1709962798