অনিন্দ সুন্দর বরিশালের মিয়াবাড়ী মসজিদ।

Published : এপ্রিল ২, ২০১৭ | 1440 Views

বরিশালের মসজিদ

কড়াপুর মিয়া বাড়ি মসজিদ

উঁচু বেসম্যাণ্টের উপর এই কড়াপুর মিয়াবাড়ি মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে। নীচতলায় বেসম্যাণ্টের অভ্যন্তরে কয়েকটি কক্ষ রয়েছে যেগুলো মসজিদের নিকটে অবস্থিত মাদ্রাসার ছাত্রদের থাকার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।মসজিদে প্রবেশ করার জন্য দোতলায় একটি প্রস্তুত সিঁড়িও রয়েছে। সদর উপজেলার নবগ্রাম রোডের কড়াপুর এলাকার মিয়াবাড়িতে মুঘল আমলে নির্মিত বাংলাদেশের এই প্রাচীন মসজিদটি অবস্থিত।

কড়াপুর মিয়া বাড়ি মসজিদ মুঘল আমলে নির্মিত বাংলাদেশের একটি প্রাচীন মসজিদ। এটি বরিশাল সদরের কড়াপুরে অবস্থিত। দোতলা এই মসজিদের নিচে ছয়টি দরজা, দোতলায় তিনটি দরজা, তিনটি গম্বুজ, ৮টি বড় ও ১২টি ছোট মিনার রয়েছে। এই মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা হায়াত মাহমুদ ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার কারণে প্রিন্স অফ ওয়েলস দ্বীপে নির্বাসিত হন এবং তাঁর বুর্জুগ উমেদপুরের জমিদারিও কেড়ে নেয়া হয়। দীর্ঘ ষোল বছর পর দেশে ফিরে তিনি দু’টি দীঘি এবং দোতলা এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। মসজিদটির স্থাপত্যরীতিতে পুরান ঢাকায় অবস্থিত শায়েস্তা খান নির্মিত কারতলব খান মসজিদের অনুকরণ দৃশ্যমান।
এই মসজিদটি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে কিছুটা বিভ্রান্ত হয়েছি। কোথাও লেখা আছে মুগল আমল। কোথাও লেখা আছে ইংরেজ আমল।
আয়াতক্ষেত্রাকার এই মসজিদটির উপরিভাগে তিনটি ছোট আকারের গম্বুজ রয়েছে যেগুলোর মধ্যে মাঝখানের গম্বুজটি অন্য দুটি গম্বুজের চেয়ে আকারে কিছুটা বড়। কড়াপুর মিয়াবাড়ি মসজিদের সামনের দেয়ালে চারটি মিনার এবং পেছনের দেয়ালে চারটি মিনার সমেত মোট আটটি মিনার রয়েছে। এছাড়া সামনের এবং পেছনের দেয়ালের মধ্যবর্তী স্থানে কয়েকটি ছোট মিনার রয়েছে। মসজিদের উপরিভাগ এবং সবগুলো মিনারে ব্যাপকভাবে কারু কাজ করা হয়েছে। কড়াপুর মিয়াবাড়ি মসজিদের পূর্বদিকে একটি বিশালাকারের পুকুর রয়েছে।ছাড়াও আয়াতক্ষেত্রকার এই মসজিদটির উপরিভাগে তিনটি ছোট আকারের গম্বুজ রয়েছে । যেগুলোর মধ্যে মাঝখানের গম্বুজটি অন্য দুটি গম্বুজের চেয়ে আকারে কিছুটা বড়। কড়াপুর মিয়াবাড়ি মসজিদের সামনের দেয়ালে চারটি মিনার এবং পেছনের দেয়ালে চারটি মিনার সহ মোট আটটি মিনার রয়েছে। এছাড়া সামনের এবং পেছনের দেয়ালের মধ্যবর্তী স্থানে মোট ১২টি ছোট মিনারও রয়েছে। মসজিদের উপরিভাগ এবং সবগুলো মিনারে ব্যাপকভাবে কারুকাজ করা হয়েছে।
সাম্প্রতিককালে কড়াপুর মিয়াবাড়ি মসজিদটি রঙ করা হয়েছে এবং বর্তমানে এটির মেরামত কার্যক্রম অব্যাহত আছে।সংস্কার ও রঙের আস্তরনের ফলে পুরনো রুপ ফিরে পেয়েছে কড়াপুর মিয়াবাড়ী মসজিদ। বৃহত্তর বরিশাল অঞ্চলে  এই মসজিদটি বরিশালের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম। এ কারনে এই মসজিদটির প্রাচীন বৈশিষ্ট্যগুলো পুরোপুরি বিলীন হয়ে গিয়েছে। মসজিদের সামনে রয়েছে অনেক একর নিয়ে একটি দিঘি। যা মন কেরে নেয় পর্যটকদের।
 প্রাচীন এই মসজিদ দেখতে আসার এই রাস্তাটি অতিসত্ত্বর সংস্কার করা দরকার বলে দাবি জানিয়েছেন তারা।
যেভাবে যাবেনঃ
নদী পথে- আপনি বাসে করে অথবা লঞ্চে করে বরিশালে পৌছাতে পারবেন। লঞ্চে ভ্রমন করা সর্বাধিক নিরাপদ এবং আরামদায়ক।বর্তমানে ঢাকা-বরিশাল,বরিশাল- ঢাকা রুটে বিলাস বহুল লঞ্চ সার্ভিস চালু রয়েছে। ঢাকার সদরঘাট থেকে প্রতিদিন রাতে বেশকিছু লঞ্চ যেমনঃ সুন্দরবন-১০, পরাবাত-১১, বরিশালের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। সারা দেশের সাথে বিভাগীয় শহর বরিশালের সড়ক যোগাযোগ রয়েছে।রাজধানী ঢাকা থেকে সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী এবং মিরপুরের গাবতলি থেকে  বাস যোগে  বরিশালে আসতে পারেন।এ রুটে বিলাস বহুল এসি বাস সার্ভিস চালু রয়েছে।
বরিশাল শহর নথুল্লাবাদ অথবা হাতেম আলী চৌমাথা থেকে ব্যাটারি চালিত বাহনে করে উত্তর কড়াপুর গ্রামে পৌছাতে পারবেন। নবগ্রাম রোড দিয়ে খুব সহজেই এই গ্রামে চলে আসতে পারবেন। তাই ব্যাটারি চালিত বাহনের চালককে এই পথ দিয়েযেতে বলতে পারেন। খুব সহজেই মসজিদে পৌঁছানোর জন্য মসজিদের জিপিএস অবস্থানটি আপনার সাথে থাকা মানচিত্রে রেখে দিতে পারেন।
বরিশালে অবস্থানঃ বরিশাল মহানগরীতে আন্তর্জাতিকমানের  হোটেল ও রেস্ট হাউস রয়েছে। আপনার পছন্দের যেকোনো একটি থাকার জায়গা বেঁছে  নিতে পারেন। আকাশ পথেও আসতে পারেন বরিশালে।বরিশাল বিমান বন্দরে সরকারি- বেসরকারি কয়েকটি বিমান পরিবহন সার্ভিস চালু রয়েছে।

Published : এপ্রিল ২, ২০১৭ | 1440 Views

  • img1

  • এপ্রিল ২০১৭
    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
    « মার্চ   মে »
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
  • Helpline

    +880 1709962798