• প্রচ্ছদ
  • /
  • ভ্রমণ
  • /
  • মাগুরায় রাজা সীতারাম রায়ের রাজধানী: অনেক ঘটনার স্বাক্ষী

মাগুরায় রাজা সীতারাম রায়ের রাজধানী: অনেক ঘটনার স্বাক্ষী

Published : এপ্রিল ১, ২০১৭ | 2188 Views

মাগুরায় রাজা সীতারাম রায়ের রাজধানী

মাগুরা জেলা শহর হতে ১০ মাইল পূর্বে মধুমতি নদীতটে মাগুরা জেলায় অবস্থিত মহম্মদপুর উপজেলা। এই মহম্মদপুর উপজেলা শহর এলাকায় ছিল রাজা সীতারামের রাজধানী ও বাসস্থান।  অবশ্য ফরিদপুর জেলার অন্তর্গত বোয়ালমারি উপজেলা শহর থেকেও এই স্থানে যাওয়া যায়। বোয়ালমারী বাজার হতে এই স্থান ৬/৭ মাইল পশ্চিমে। সাহিত্য সম্রাট বঙ্গিম চন্দ্রের ‘‘সীতারাম’’ নামক উপন্যাসের সহিত শিক্ষিত বাঙ্গালি মাত্রেই পরিচিত। এই মহম্মদপুরেই সে রাজা সীতারাম রায়ের রাজধানী ছিল। সীতারামের আদিনিবাস ছিল বীরভূম জেলায় জাতিতে তিনি উত্তর রাঢ়ীয় কায়স্থ ছিলেন। তাঁর পিতা উদয় নারায়ণ প্রথমে রাজমহলে নবাব সরকারে চাকরি করিতেন, পরে ভূষণা পরগণায় তহশিলদার পদে নিযুক্ত হয়ে আসেন এবং রাজা উপাধি ধারণ করেন। ১৬৫৮ খ্রীষ্টাব্দে সীতারামের জন্ম হয়। উদয়ন নারায়ন ক্রমে একটি ক্ষুদ্র তালুক ক্রয় করেন এবং মধুমতি নদীর অপর পারে হরিহর নগরে বসতি স্থাপন করেন।

সীতারামের মাতা দয়াময়ী তেজস্বিনী নারী ছিলেন। কথিত আছে অল্প বয়সে একটি খড়েগর সাহায্যে এক দল ডাকাতকে তিনি পরাস্থ করিয়াছিলেন। মহম্মদপুরে আজও ‘‘দয়াময়ী’’ তলা নামে একটি স্থান দৃষ্ট হয়; এই স্থানে সীতারামের সময়ে বারোয়ারী উৎসব হইতো।

১৪১৭ খ্রীষ্টাব্দে  সীতারামের পতন ঘটে। যুদ্ধে পরাজিত ও বন্দি হিসেবে তাকে রাজধানী মুর্শিদাবাদে নিয়ে যাওয়া হয়। নবাবের লোক দয়ারাম রায়ই সঙ্গে করে সীতারামকে মুর্শিদাবাদে নিয়ে যান।  মুর্শিদাবাদে কয়েক মাস বন্দী থাকার পর তিনি মৃত্যুমুখে পতিত হন। অনেকে ঐতিহাসিকরে মতে, তিনি বিষ পানে আত্মহত্যা করেন। মুর্শিদাবাদে গঙ্গাতীরে তাঁহার শ্রাদ্ধ হইয়াছিল।

মাগুরার মহম্মদপুরে সীতারামের বহু কীর্তি আজও বিদ্যমান আছে। উহাদের মধ্যে প্রাচীন দুর্গের ধ্বংসাবশেষ, রাম সাগর, সুখ সাগর ও কৃষ্ণসাগর নামে দীঘি, দোল মঞ্চ ও রাজভবনের ধ্বংসাবশেষ সিংহদরওজা, মালখানা, তোষাখানা, দশভুজা মন্দির, লক্ষ্মী নারায়ণের অষ্টকোন মন্দির, কৃষ্ণজীর মন্দির প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। অতীতে এই দুর্গের চর্তুদ্দিকস্থ খাত দিয়া মধুমতির স্রোত প্রবাহিত হইতো। সীতারামের দুইটি প্রধান বড় কামানের নামকরণ হইয়াছিল কালে খাঁ ও ঝুম ঝুম খাঁ। রামসাগর দীঘিটি দৈর্ঘ্যে প্রায় ১৫০০ ফুট ও প্রস্থে ৬০০ ফুট। ইহার জল এখনও প্রায় নির্ম্মল ব্যবহারোপযোগী আছে। কৃষ্ণসাগর দিঘীটি মহম্মদপুর দুর্গের দক্ষিণ পূবর্ব দিকে কানাই নগর গ্রামে অবস্থিত।

মহম্মদপুর সমৃদ্ধির সময়ে মধুমতি নদী এই স্থানের প্রান্ত দিয়া প্রবাহিত ছিল একসময়।  ১৮৩৬ খ্রীষ্টাব্দে  মহামারীর ফলে মহম্মদপুর প্রায় বিরান যায়।  কথিত আছে, সীতারামের সৈন্য িছিল ২২০০এবং যুদ্ধের সময় ছাড়া অন্য সময় তারা জনসাধরনের পানীয় জলের জন্য জলাশয় খনন খনন করতো।  সীতারামের সৈন্যদলে বহু মুসলমান ছিলেন। শোনা যায়, তিনি মুসলমান সেনাপতিদিগকে ভাই বলিয়া ডাকিতেন এবং হিন্দু মুসলমানের মিলনের জন্য সতত চেষ্টিত ছিলেন।
যাতায়াত: মাগুরা সদর হতে ২৮ কি.মি. দূরে মহম্মদপুর উপজেলায় রাজাবাড়ী নামক স্থানে রাজা সীতারাম রায়ের বাড়িটি অবস্থিত। মহম্মদপুর বাস স্ট্যান্ড হতে আধা কিলোমিটার উত্তরে পাকা রাস্তার পার্শ্বে রাজবাড়ির অবস্থান। রিক্সা, ভ্যান অথবা পায়ে হেটে যাতায়াত করা যায়।

Published : এপ্রিল ১, ২০১৭ | 2188 Views

  • img1

  • এপ্রিল ২০১৭
    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
    « মার্চ   মে »
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
  • Helpline

    +880 1709962798