লক্ষ্মীপুরে আছে জ্বীনের মসজিদ

Published : মার্চ ৩০, ২০১৭ | 1526 Views

জ্বীনের মসজিদ বাংলাদেশের লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে অবস্থিত একটি প্রাচীন মসজিদ; যা আনুমানিক ১৮’দশ শতকের শেষার্ধে নির্মিত হয়েছে। মসজিদটি এলাকায় ‘মৌলভী আবদুল্লাহ সাহেবের মসজিদ’ বলে পরিচিতি হলেও এর সামনে সিঁড়ির কাছে লাগানো শিলালিপিতে একে ‘মসজিদ-ই-জামে আবদুল্লাহ’ বলা হয়েছে। লক্ষ্মীপুর জেলাধীন রায়পুর উপজেলা ছিল জনবিরল বিশাল একটি চরাঞ্চল। এখানে আগমন ঘটে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মহান ধর্ম সাধকদের। সেই সময় রায়পুরে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন মৌলভী আবদুল্লাহ। সময়টি ছিল বাংলা ১২৩৫ সাল/ ইং ১৮২৮ সাল। জন্মের পর শিশু আবদুল্লাহর মাঝে ব্যতিক্রমী জীবন লক্ষ্য করা যায়। যখন সে কথা বলা শেখে তখন থেকেই তার মধ্যে আধ্যাত্মিকতার ভাব প্রকাশ পায়। কৈশোরে ধর্মীয় শিক্ষা লাভের উদ্দেশ্যে আবদুল্লাহ ভারতের দেওবন্দ নামক স্থানে মাদরাসায় দারুল উলুমে ভর্তি হন। সেখানে দীর্ঘ ১৭ বছর ওলামায়ে কেরাম-এর সান্নিধ্যে থেকে উচ্চতর জ্ঞান ও দীনী শিক্ষালাভ করেন। মৌলভী আবদুল্লাহ জ্ঞান আহরণ শেষে দেশে ফেরার পথে দিল্লীতে কিছুদিন অবস্থান করেন। এ সময় দিল্লী শাহী জামে মসজিদের শৈল্পিক অবয়ব তাকে আকৃষ্ট করে।

দিল্লীর শাহী জামে মসজিদের নকশায় নির্মিত এই মসজিদটি ১১০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৭০ ফুট প্রস্থ বিশিষ্ট এবং মাটি থেকে ১০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত। এর ভিটির উচ্চতা ১৫ ফুট য ১৩ ধাপ সিঁড়িযুক্ত। এর দেয়ালের প্রস্থ ৮ ফুট। মসজিদের সম্মুখের মিনারটি ২৫ ফুট উচ্চতার তিন গম্বুজ বিশিষ্ট সু-উচ্চ প্রাচীর বিশিষ্ট এই মসজিদটির নিচে দক্ষিনাংশে একটি বিরাট প্রকোষ্ট রয়েছে; যেটি সব-সময় কালো পানিতে পূর্ণ থাকে।  প্রায় ২০০ বছর পূর্বে রায়পুরের ঐতিহাসিক জ্বীনের মসজিদ স্থাপিত হয়। অতি স্বল্প সময়ে একটি বিশেষ ডিজাইনের এ মসজিদটি নির্মাণের ফলে এটিকে জ্বীনের মসজিদ বলা হয়।

এ সময়ের মধ্যে সামনে দিঘী ও পাশে দিঘী কাটা, ইট তৈরী সাধ্যের অতীত ছিল। তিন গম্বুজ বিশিষ্ট সু-উচ্চ প্রাচীর নির্মিত মসজিদটি নীচে দক্ষিনাংশে অন্ধকার বিরাট প্রকোষ্ট রয়েছে। যাতে সারা বছর কালো পানি থাকে। দিল­ী জামে মসজিদের নমুনায় নির্মিত জ্বীনের মসজিদটি সংরক্ষণ করা হলো স্থাপত্য নিদর্শন সুরক্ষিত হবে। মসজিদটির তলদেশে ২০ ফুট নিচে রয়েছে ৩ কামরা বিশিষ্ট একটি গোপন ইবাদতখানা, যেখানে বসে ধ্যানে মগ্ন থাকতেন এর প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা আবদুল্লাহ। মসজিদটির সামনে একটি ও পার্শ্বে আরেকটি দিঘী রয়েছে।মসজিদটি নিয়ে জনশ্রুতি রয়েছে ‘অসংখ্য জ্বীন রাতের আঁধারে মসজিদটি নির্মাণ করেছে। নির্মাণের পর ক’বছর জ্বীনেরা ওই মসজিদে ইবাদতও করেছে। গভীর রাতে তাদের জিকিরের আওয়াজ ভেসে আসত। কিংবা মসজিদটি তৈরিতে টাকার যোগান দিয়েছে জ্বীন।’ নির্জন পরিবেশে সেখানে বসে আল্লাহর ধ্যানে মগ্ন থাকতেন মৌলভী আবদুল্লাহ। কথিত আছে, মৌলভী আবদুল্লাহর কতিপয় জ্বীন শিষ্য রাতে মসজিদটির গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সম্পন্ন করত। তাই এই ঐতিহাসিক মসজিদটি জ্বীনের মসজিদ নামে ব্যাপক পরিচিতি। মসজিদের তলদেশে স্থাপিত পুকুরগুলোতে জ্বীনেরা গোসল করত। এলাকাবাসী জেনে আসছেন স্বল্প সময়ে গঠিত এ মসজিদটি নির্মাণ কাজে জ্বীনেরা সার্বিক সহযোগিতা করে গড়ে তোলে এবং নিয়মিত এবাদত করত বলে মসজিদটির নাম জ্বীনের মসজিদ নামে সুপরিচিত।

 

অবস্থান : রায়পুর পৌর শহর থেকে প্রায় ৮/৯ শ’ গজ পূর্বে পীর ফয়েজ উল্যা সড়কের দক্ষিণ দিকে মনোরম পরিবেশে গড়ে ওঠে।ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে লক্ষীপুরগামী বাসে চড়ে যেতে হবে লক্ষীপুর অথবা রায়পুরের বাসে করে সরাসরি রায়পুর যাওয়া যাবে। তার থেকে যেতে হবে মসজিদ প্রাঙ্গনে। ঐতিহাসিক এই মসজিদটি লক্ষীপুর জেলার রায়পুর পৌর শহর থেকে ৮/৯ শ’ গজ পূর্বে পীর ফয়েজ উল্লাহ সড়কের দক্ষিণ দিকে অবস্থিত।  ট্রেনে করে গেলে প্রথমে যেতে হেব নোয়াখালী বা চৌমুহানি সেখান থেকে লক্ষীপুর হয়ে রায়পুর।

 

Published : মার্চ ৩০, ২০১৭ | 1526 Views

  • img1

  • Helpline

    +880 1709962798