শোক থেকে শক্তি: অদম্য পদযাত্রা

Published : মার্চ ২৭, ২০১৭ | 1016 Views

শোক থেকে শক্তি: অদম্যপদযাত্রা

৫২ এর ভাষা আন্দোলনের মধ্যদিয়ে শুরু হয়েছিলো আমাদের অধিকার আদায়ের লড়াই যা পরবর্তীতে ধাপে ধাপে স্বাধিকার আন্দোলনে রুপ নিয়ে ৭১ এ মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পায় চূড়ান্ত পরিনিতি। এই দীর্ঘ সময়ের পথটিতে অনেক আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা পাই স্বাধীন, সার্বভৌম ‘বাংলাদেশ’।

এছাড়াও, সেই ১৯৭১ সালেই একদল অভিযাত্রী দেশমাতার মুক্তির অভিপ্রায়ে ‘বিশ্ব বিবেক জাগরণ’ পদযাত্রা’য় হেঁটে অসামান্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। ২৬ এ মার্চ, স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের লক্ষ্যে বর্তমান প্রজন্মের আরেকদল ‘অভিযাত্রী’ গত চার বছর ধরে ‘বিশ্ব বিবেক জাগরণ’ পদযাত্রা’র সেই অসামান্য দৃষ্টান্ত কে অনুসরন করে ৫২ থেকে ৭১ এর সেই আগ্নিঝরা সময়টাকে স্মরণ করার জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার (৫২) থেকে জাতীয় স্মৃতিসৌধ (৭১) পর্যন্ত পদযাত্রা করে আসছে । তাই, পায়ে হেঁটে এই পথটুকু অতিক্রমের বিষয়টি প্রতিযোগিতার নয় – বরং অনুভবের, শ্রদ্ধার, ভালবাসার।

বায়ান্ন, ঊনসত্তর পেরিয়ে একাত্তরে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে যে স্বাধীনতা আমরা অর্জন করেছি তা অনুভবের মাধ্যমে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালবাসা জানিয়ে গ্রহণ করতে চাই সুন্দর বাংলাদেশ বিনিমার্ণের শপথ। গত ২০১৬ সালে এই পায়ে হাঁটা কর্মসূচীতে যুক্ত হয়েছিল এক নবতর মাত্রা। সেই বারে পদযাত্রাটি নিবেদিত হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নির্মাণ তহবিল সংগ্রহের উদ্দেশে। এরই ধারাবাহিকতায় এবারও এই পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই অদম্য পদযাত্রায় হেঁটে আপনিও হতে পারেন নতুন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের গর্বিত অংশীদার।

প্রতিবছর সকাল ৬ টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে হাঁটা শুরু হয়। শহীদ মিনার থেকে হেঁটে হেঁটে  ৩০ কিলোমিটার পায়ে হাঁটা পথ পাড়ি দিয়ে যাত্রা শেষ হয় সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে। সেখানে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। শপথ বাক্য পাঠ করার মধ্য দিয়ে সেখানে পদযাত্রা সমাপ্তি ঘোষনা করা হয়।

শুরু হয় শোক থেকে, শেষ হয় শক্তিতে। ভোর ছয়টায় জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে যাত্রা শুরু হয়। পথে পথে চলে দেশাত্মবোধক গানের পালা। অভিযাত্রীদের খাবার ও অন্যান্য কিছুর ব্যবস্থা করে রাখা হয়। অনুরোধ থাকে অন্তত একমাইল হাঁটায়। ৫ শতাধিক অভিযাত্রী পথে পথে অংশগ্রহণ করে এর মধ্যে শতাধিক অভিযাত্রী পুরো পথ হেঁটে যান।

যে পথে যায় – কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার-জগন্নাথ হল- সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে শিখা চিরন্তন-সিটি কলেজ-জিগাতলা বাসস্ট্যান্ড-মোহাম্মদপুর শারীরিক শিক্ষা কলেজ হয়ে বছিলা -রায়ের বাজার বধ্যভূমিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে পৌঁছাব রায়ের বাজার ঘাট-ঘাট থেকে নৌকা/ট্রলারে করে তুরাগ নদী পার হয়ে-সাদুল্লাপুর বটতলা-ট্রলারেই সকালের নাস্তা সেরে নেব -আকরাইন-আকরাইন স্কুলে দুপুরের খাবার- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর দিয়ে গোকুলনগর গ্রামের মেঠো পথ ধরে জাতীয় স্মৃতিসৌধ।

দুরত্ব – আনুমানিক ৩০ কিঃ মিঃ।
হাঁটা শুরু – সকাল ৬ টায়।
হাঁটা শেষ – আনুমানিক বিকাল ৬ টায়।
নাস্তা ও দুপুরের খাবার – পথে ব্যবস্থা করা থাকে।

যা যা সাথে নিতে হয়-

১। ফেরার পথে সাভার থেকে ঢাকা বাসে ফেরা, সকাল, দুপুর ও পথের খাবার বাবদ খরচ। আনুমানিক ৫০০ টাকা

২/ হাঁটার উপযোগী জুতা/কেডস।
৩/ জুতার ভেতর ডাবল মোজা পরলে ফোস্কা পরার সম্ভাবনা কম থাকে। তাই ডাবল মোজা পরলে ভালো হয়। তবে সূতী মোজা পরা ভালো।
৪/ পানির বোতল। পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করতে হবে।/ গ্লুকোজ ইত্যাদি নিয়ে নেবেন। রাখতে পারেন খাবার স্যালাইন।
৫/ গামছা। সাথে রাখতে পারেন পেপার ন্যাপকিন বা ট্যিস্যু পেপার।
৬/ আপনার প্রয়োজনীয় ঔষধ।
৭/ ছাতা/ সান ক্যাপ/ সানব্লক নিতে পারেন (ছাতা ব্যবহার করাটা জরুরি কারণ মার্চ মাসের শেষ দিকে রোদের প্রখরতা বেশি থাকবে)

৮। যারা ত্বকের প্রতি যত্নশীল তারা সানস্ক্রীন নিতে পারেন।

৯। হাঁটা শুরুর আগে পায়ে সরিষার তেল মেখে নিতে পারেন।

১০। ক্যাপ বা হ্যাট রাখলে ভালো। আর সানগ্লান রাখতে পারেন।সানগ্লাস আপনার চোখকে সুরক্ষা দেবে।

যোগাযোগ করুন: অভিযাত্রী ক্লাবের সাথে

Published : মার্চ ২৭, ২০১৭ | 1016 Views

  • img1

  • Helpline

    +880 1709962798