ধনধান্যে পুষ্পে ভরা, আমাদেরই এই বসুন্ধরা

Published : ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০১৭ | 1766 Views

ধনধান্যে পুষ্পে ভরা, আমাদেরই এই বসুন্ধরা

‘‘ধনধান্যে পুষ্পে ভরা, আমাদেরই এই বসুন্ধরা, তাহার মাঝে আছে দেশ এক সকল দেশের সেরা। স্বপ্ন দিয়ে তৈরি সে দেশ স্মৃতি দিয়ে ঘেরা। এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি। সকল দেশের রানী সে যে আমার জন্মভূমি।’’ এই গানটি আমার ভীষণ প্রিয়, যতটা প্রিয় হলে এই গান গাওয়ার সময় অথবা শোনার সময় এক অপার্থিব ভালোলাগায় মন ভরে ওঠে। আর মনের অজান্তে গলা ধরে আসে। চোখে পানি চলে আসে। এই বাংলার অপরূপ রূপশোভার বর্ণনায় চোখের জল বাঁধ মানে না। সমানে যখন বাংলা জননী অবারিত বক্ষে খুলে দেয় সৌন্দর্যের দুয়ার তখন চোখের পানি যেন পাথরে চাপা পড়ে যায়। হয়তোবা দৃষ্টির কাঠামোর বাইরে চলে যায় সুন্দর।
সফর মানেই দেশ দেখা, দেশ দেখা মানেই অভিজ্ঞতা। আর একটি দীর্ঘ ও কষ্টকর যাত্রায় নানা রকম হাসি-আনন্দের অভিজ্ঞতা থাকবে সেটাই তো স্বাভাবিক।

বলছি গত ২০১৬ সালের ১২ ফ্রেব্রুয়ারী থেকে ২৮ মার্চ এই সময়ে পায়ে হেঁটে তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ ভ্রমণের সময় দুচোখ ভরে দেখেছি বাংলা মায়ের রুপ।

দেশ গড়ার কথা বলেছি, দেশকে ভালোবাসার কথা বলেছি, দেশে ভ্রমণ করে দেশকে দেখার কথা বলেছি, হাঁটার অভ্যাসের কথা বলেছি, যাতে সুস্থ থাকা যায়, হাঁটার জন্য অনুপ্রাণিত করেছি, যাতে তারা সাহস পায়, একটা মানুষ যদি হাজার কিলোমিটার হাঁটতে পারে আমি প্রতিদিন অল্প কয় কিলোমিটার হাঁটতে পারব না কেন? অনেকে আমাকে ফোন করে বলেন তারা এখন আগের চেয়ে বেশি হাঁটেন। আমাকে দেখে তারা অনুপ্রাণিত হয়েছেন।
আমি বলেছি বাল্যবিবাহ রোধ করার কথা, মাদক বন্ধ করার কথা, শিশুদের নির্যাতন না করার কথা, বলেছি শিশুশিক্ষার কথা। রাজনীতিবিদরা কেউ কেউ আমাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, খুব ভালো কাজ। কারণ যখন বলেন তখন সাধারণ মানুষ রাজনীতির বুলি মনে করে উড়িয়ে দেয়। আমি যখন মানুষের সাথে বসে তাদের সাথে মিশে তাদের সমস্যার কথা শুনে তারপর তাদের এসব কথা বলি তারা খুব ইতিবাচক ভাবে নেয়।
আসলে লড়াইয়ের মাঠেই থাকতে হয়। একটা লড়াই তো আছেই যে, এই সংকট সমাধান থেকে মুক্তির লড়াই। এই লড়াইটা যত দিন সম্মিলিতভাবে শুরু না হচ্ছে তার আগের লড়াইটা হলো শত মন্দের জোয়ারের মাঝে ভালোর সাথে থাকা, শুদ্ধতায় অটল রাখা, অন্তত নিজেকে হলেও। যদি মনে করি সারা দেশ চামচামি আর অসাধু উপায়ে স্বার্থ হাসিল করার জন্য অস্থির, সেখানে কি-ই বা হবে আমাদের সস্তা সেন্টিমেন্ট দিয়ে? সবাই এমনটা ভাবলে পরিবর্তনের সব পথই রুদ্ধ হবে। তাই আদর্শের ওপর অটল থাকার এ লড়াইটা অন্তত চালিয়ে যেতে হবে। এ লড়াইটার ওপর নির্ভর করে শুরু হবে পরের লড়াই। পরিবর্তনের লড়াই।

সমস্যা আছে বলেই কাজ করতে হবে। দেশের কথা বলতে হবে। সবার আগে দেশ। আমার সাথে ধর্ম, রাজনীতি, এলাকা, আদর্শ, পেশা কিংবা চিন্তার মিল নেই বলে তাদের বিরুদ্ধে আমাকে অস্ত্র বা কলম নিয়ে কেন লেগে থাকতে হবে অথবা আলাদা কমিউনিটি গড়ে তুলে কেন আমি আলাদা সম্প্রদায়ের মতো বসবাস করব আর বলব আমি সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সোচ্চার। তাই প্রত্যেকে নিজের জায়গা থেকে কাজ করুন। সবার সাথে সবাইকে মিলে সবার জন্য কাজ করুন। যতক্ষণ আমরা এক না হব ততক্ষণ আলাদা আলাদা মতবাদের সাম্প্রদায়িকতা আমাদের কুরে কুরে খাবে। দেশকে ভালোবেসেও আমরা দেশের পক্ষে তখন তাজ করতে পারব না। তখন আমরা প্রতিপক্ষকে দমন করা যায় কীভাবে সে সিদ্ধান্তগুলোই নেব। এটা আমাদের মধ্যে বিভেদ-বিভক্তি সৃষ্টি করবে। আর সে বিভক্তিটাই আসলে সাম্প্রদায়িকতা। আমরা যেন মনে রাখি সবার আগে আমার চিন্তাকে অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়া নয়। সবার আগে দেশ।

Published : ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০১৭ | 1766 Views

  • img1

  • ফেব্রুয়ারি ২০১৭
    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
    « জানুয়ারি   মার্চ »
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮  
  • Helpline

    +880 1709962798