চলো মন মায়াবন

Published : ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৭ | 2044 Views

সিলেটের মায়াবন

চলো মন মায়াবন

সিলেটের রাতারগুলের সাথে আমরা পরিচিত হয়েছি কয়েক বছরে বনের জলাভূমির মধ্যে কোমর ডুবিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা সারি সারি হিজল, জাম, বরুন, করচ গাছ|  মায়াবনের গাছের ডালে ডালে ঘুরে বেড়ায় নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণী আর পাখি। মাঝে মাঝে মৃদু বাতাসে জলাভূমির ছোট ঢেউ আছড়ে পড়ে গাছের সঙ্গে। বর্ষাকালে মায়াবনে ছোট ডিঙি নৌকায় বৈঠা বেয়ে বনের ভেতর গেলেই পাখির কল-কাকলি নীরবতা ভঙ্গ করে। এখানে রয়েছে মাছরাঙা, বিভিন্ন প্রজাতির বক, ঘুঘু, ফিঙে, বালিহাঁস, পানকৌড়িসহ নানা প্রজাতির পাখি। বন্যপ্রাণীর মধ্যে আছে বানর, উদবিড়াল, কাঠবিড়ালি, মেছোবাঘ ইত্যাদি। বিভিন্ন প্রজাতির গুঁইসাপ ও নানা ধরনের সাপের অভয়াশ্রমও এই বন।

সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক হয়ে ৩৭ কি.মি. অতিক্রম করার পর সারীঘাট হয়ে যেতে হয় মায়াবনে। সারী-গোয়াইনঘাট সড়কে দিয়ে, সারীঘাট থেকে ৮ কি.মি. অতিক্রম করে বেখরা ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে যাত্রা বিরতি করতে হয়। এখান থেকে ভাড়ায় চালিত পানসিতে (ছোট নৌকা) চড়ে বেখরা খাল হয়ে, খালের দুতীরজুড়ে শ্যামল চাঁদরে আবৃত  বাংলার রূপ দেখতে দেখতে মিনিট দশেকের মাথায় প্রবেশ করতে হয় মায়াবনে।

এখানে নেই কোন কোলাহল, আছে শুধু পাখির ডাক। মাঝে মাঝে মৃদু বাতাসে জলাভূমির ছোট ছোট ঢেঁউ আছড়ে পড়ে গাছের সঙ্গে। হিরন্ময় নিরবতার মাঝে সে সব শব্দে পর্যটকদের মুগ্ধ করেছে মায়াবন। জলাভূমির মধ্যে কমর ডুবিয়ে দাড়িয়ে থাকা সারি সারি হিজল, জাম, বরুণ, করচ গাছের বিশাল এক জঙ্গল। এতই ঘন জঙ্গল যে ভেতরের দিকটায় সূর্যের আলো গাছের পাতা ভেদ করে জল ছুতে পারে না।

মায়াবনের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে অবশ্যই নিঃশব্দে যেতে হবে। কোন রকম শোর-গোল, চিৎকার, চেচামেচি করলে এর প্রকৃত সোন্দর্য কোন ভাবেই উপভোগ হবেনা। নিরবে ঘুরলে পানির ভেতর অবস্থিত এই বনের ঘুঘুর ডাক ও নানা রকম বন্য প্রাণির সাক্ষাৎ মেলে। এটাই মায়া বনের প্রকৃত সৌন্দর্য্য।

মায়াবনের উত্তরে রয়েছে সারী ও পিয়াইন নদীর মিলনস্থল, যেখান থেকে নৌকা যোগে জাফলং, রাতারগুল কিংবা লালাখাল ঘুরে আসা যায়। পূর্ব দিকে রয়েছে কুরুন্ডি ও রৌয়াসহ বিশাল বিশাল বিলের মধ্যে শাপল ও পদ্ম ফুলের সমারোহ। পশ্চিম দিকে রয়েছে দেশের অন্যতম মূর্তা বাগান।

কি ভাবছেন এবারের সফরটা মায়াবনেই করবেন? তাহলে আর দেরী কেন। আগামী ছুটির দিনেই বেরিয়ে পড়ুন। মায়বানের পথে।

সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক হয়ে ৩৭ কিলোমিটার অতিক্রম করার পর সারীঘাট হয়ে যেতে হয় মায়াবনে। সারী-গোয়াইনঘাট সড়কে দিয়ে, সারীঘাট থেকে ৮ কিমি অতিক্রম করে বেখরা ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে যাত্রা বিরতি করতে হয়। এখান থেকে ভাড়ায় চালিত পানসিতে (ছোট নৌকা) চড়ে বেখরা খাল হয়ে, খালের দুই তীর জুড়ে শ্যামল চাদরে আবৃত লোকায়ত বাংলার রূপ দেখতে দেখতে মিনিট দশেকের মাথায় প্রবেশ করতে হয় মায়াবনে।

মায়াবন আপনাকে মায়াদিয়ে আচ্ছাদিত করে রাখবে। যতক্ষণ এখানে থাকবেন।

Published : ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৭ | 2044 Views

  • img1

  • ফেব্রুয়ারি ২০১৭
    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
    « জানুয়ারি   মার্চ »
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮  
  • Helpline

    +880 1709962798