লোকসাহিত্যের দর্পণে

Published : ফেব্রুয়ারি ২, ২০১৭ | 899 Views

লোকসাহিত্যের দর্পণে

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

পৃথিবীতে বিভিন্ন জাতিসত্ত্বার বিকাশের যে ইতিহাস সেটা ঐতিহাসিক এবং ভৌগলিক দুই কারনেই ভিন্ন। সভ্যতার ইতিহাসের সাথে তার সম্পর্ক রয়েছে। সম্পর্ক রয়েছে যে ভুখন্ডের সাথে তার সম্পৃক্তি তার সাথেও এবং সম্পর্ক রয়েছে বিভিন্ন ভূখন্ডে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন মূল বিশ্বাস নিয়ে গড়ে উঠা আজ অবধি টিকে থাকা ও না থাকা ধর্মীয় ধারণাসমূহের। প্রতিটি বিষয় স্ব স্ব জাতির সত্ত্বার বিকাশ ও বিবর্তনে অবদান রেখেছে।

জাতি সত্ত্বার বিকাশ বলতে আমরা আজ যা বুঝি সে অর্থটাই সব সময় ছিলো তা কিন্তু নয়। হয়তো আগামীতে এর নতুন সজ্ঞায়ন হতে পারে। যেখানে নীতি নৈতিকতা এবং কখনো কখনো হিতাহিতের ওলটপালট হয়েছে, সেখানে বিকাশ প্রকাশের অর্থ বদল হতে পারে বৈকি? হাজার বছরের ইতিহাসে আজ যাকে বর্বরতা বলছি একসময় এমন অনেক কিছুই ছিলো নিছক বনিকবৃত্তি যেমন ক্রীতদাস প্রথা, আজ যাকে বলছি অমানবিক তা হয়তো ছিলো ধর্মযোজন যেমন বলী, সতিদাহ ইত্যাদি, আজ যাকে বলছি কুসংস্কার তা হয়তো ছিলো তীর্থকর্ম, আজ যা বলছি অসভ্য তা হয়তো লোকেদের নিত্য আচার।

আবার আজ যা বলছি তথাস্তু, মারহাবা কাল হয়তো সেটাকে বলবো ‘‘দূর হটো’’ বা ‘‘ছ্যা ছ্যা’’। তাই সে সত্ত্বাকেন্দ্রীক বিকাশ, আত্মশ্লাঘার বির্নিমাণ এবং আত্মপরিচয়ের যে জাতকীয় পরিচয়ের কথা বলছি সেটা যৎকিঞ্চিৎ বদলে যেতেও পারে। তবু আজকের মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক আদর্শ, ধর্মাগত চেতনা, আত্মীক আত্মমূল্যায়ন ও মনস্তাত্তিক গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তই আমরা ধরে নিতে পারি মূল্যবোধের মাপকাঠিরুপে। তবে তাই যদি হয় তাহলে কিছু ইতিবাচক আশা, মনোসামাজিক ঘটনা, সার্বজনীন হিতকর উদ্যোগ এবং মনোজয়ী ও সময়দখলি কিছু নেতৃত্ব এই বিকাশের নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে শত শত বছর ধরে।

তারই আলোকে আমরা বলতে পারি। একটি জাতির যা কিছু দীর্ঘদিনের আচারিত সামাজিকতা, যা কিছু তার একান্ত নিজের সম্পদ, যা কিছু নিজেদের ভেতর থেকে প্রয়োজনে বা স্বআয়োজনে চর্চিত, পর্বিত ও গর্বিত হয়ে আসছে তাই তার শেকড়ের সন্ধান দেবে এক আত্মপরিচয় গাঁথা আমলনামায়। তাহলে একটি জাতির সে সম্পদ যা তার ভেতর থেকে উৎসারিত, অন্যদেরে চেয়ে আলাদা যা তার জীবন ও বিশ্বাসের মাথে বীজতলিত তাই তার নিজস্ব সত্ত্বা। এই নিজস্ব সত্ত্বাকে ধারণ করা তাকে বহিসংকরায়নের হাত থেকে দূরে রাখা সর্বোপরী নতুন আচার ও চর্চার ফোকরে তাকে টিকিয়ে রাখা এখন দারুন এক বাজি।

কিন্তু বৈদেশিক পন্যসামগ্রী, আচার অনুষ্ঠান ও শিল্প সংস্কৃতির ব্যাপারে বাঙালীর একটা উৎসুক্য রয়েছে। এর পরিধি সে সীমা পর্যন্ত নয় যে সীমা পর্যন্ত তাকে হৃদয়ঙ্গম করা যায় বরং এটা সে সীমা পর্যন্ত যে সীমা পর্যন্ত তাকে আত্মীকরণ করা যায়। তাই বাঙালীর রক্তে যেমন মিশেছে ডাচ, ওলন্দাজ, ফরাসি. পারসিক, ইংরেজ, আরব্য খুম তেমনি ভাষাতেও তেল-জলের মতো মিশে আছে সংস্কৃত, গুজরাটি, আরবি, ফারসী ও ইংরেজী ভাষার শব্দ ও শব্দাংশ। বাঙালীর হাজারো বছরের কৃষ্টি কালচারের যোগ হয়েছে ফার্সী রস, আরব্য চরণ, সর্বভারতীয় আচরণ, ইউরোপীয় আনুষ্ঠানিকতার রেশ। বাঙালীর সহস্রাব্দের পুরনো সামাজিক আচারে মিশ্রিত হয়েছে সূফীজমের জজবা, ইসলামিক জীবনের সামাজিকতা, হিন্দিভাষী সংস্কৃতির পারিবারিক আচার এবং পশ্চিমা সমাজের কিছু ধ্যান ধারণা। বাঙালীর সাহিত্য সংস্কৃতিও এর বাইরে নয়। স্বেতাঙ্গ সাহিত্যের ধারা, পশ্চিম এশিয়ার মাত্রা এবং সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক সংস্কৃতির আবহে তা দিনকে দিন আড়মোড়া ভেঙ্গে প্রাচীন খোলস ছেড়ে নব নব প্রত্যয়ে প্রভাতিব হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

কিন্তু বাঙালীর সেযে নিজস্ব বলে একটা কিছু আছে। শেকড়ের সন্ধান বলে একটা সূর আছে, অন্যদের থেকে আলাদা বলে একটা জিনিস আছে, নিজেদের জন্য, নিজেদের জীবন থেকে, নিজেদের প্রাণরস সূধামন্ডিত যে ব্যাপারটা সেটা বাঙালী কিন্তু হারায়নি। বলছি বাংলার লোক সাহিত্যের কথা। আর সেটা বিলীন হয়ে যায়নি বলেই। বাঙালী রক্তে, শর্তে, অর্থে, বিত্তে এমনচি চিত্তে মিশ্রণ ঘটিয়েও বাঙালীর জাতিসত্ত্বা আজো অমলিন এবং অক্ষয়। এত ধারা এবং এত সারার মিশ্রণ সত্বেও আমরা আজো বাঙালী হিসেবে পরিচিত। আমাদের অন্য পরিচয় সেটা বাংলাদেশী, কিংবা বাঙালী মুসলমান অথবা বাঙালী হিন্দু কিংবা বাঙালী বৌদ্ধ এসবের চেয়ে ঢের বেশী পোক্ত পরিচয় আমরা বাঙালী। বাংলা আমাদের ভাষা, বাঙ্গালা আমাদের সংস্কৃতি। সেটা এক ভিন্ন শিখরে অধিষ্ঠিত অন্যসব কিছুর সাথে মিশ্রণ হওয়ার পরও সেগুলোকে পাশ কাটিয়েও সগৌরবে দন্ডায়মান। এর মধ্যে তিনটি ধারা একেবারেই এর ভেতরে ‍বাহিত যা থেকে আর আলাদা করার অবকাশ নাই। যেমন সনাতন বাঙালী সংস্কৃতি, বাঙালী মুসলমানদের মূল বিশ্বাসের সাথে যুক্ত হয়ে সুফীজম থেকে আসা কতিপয় সাংস্কৃতিক পর্ব এবং বিগত কয়েকশ বছরে বাঙালী সংস্কৃতির নিজস্ব আদলের ভেতর থেকে বের হয়ে আসা কিছু অকৃত্রিম উপাদান। যেমন পূঁথিসাহিত্য, বাউলগান, গম্বীরা, যাত্রাপালা আরো অনেক রয়েছে।

আজ বাঙালীর এই সত্ত্বার গৌরবময় অধিষ্ঠানের পেছনে যে ঐতিহাসিক ঘটনা সবচেয়ে বেশী ভার নিয়েছে তা হলো আমাদের গৌরবের মুক্তিযুদ্ধ। তা না হলে ওরাতো আমাদের ভাষা সংস্কৃতির উপর চরম আঘাত হেনেছিলো বার বার। সংযুক্ত পাকিস্তান আমাদের পরিচয়কে হয়তোবা মুছে দিতে চেয়েছিলো। কিন্তু বহি:আবরণ মেনে নেয়া বাঙালীও সেদিন ঘুরে দাড়িয়েছিলো তার সে সত্ত্বা ও পরিচয়ের আদলে এক রক্তপণ লড়াইয়ের জন্য। আদতে বাঙালী লড়াকু জাতি নয়। কিন্তু নিজের পরিচয় হারিয়ে বেঁচে থাকাও বাঙালীর ধাতে নেই, সেটাও প্রমাণহলো তিরিশ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে।

অবশ্য এসবের পিছনে আরো কিছু ধারা কাজ করেছিলো বিশ শতকের প্রথমদিকে বাঙালী মধ্যবিত্ত শ্রেনীর বিকাশ বাঙালীকে তার নিজস্ব পরিচয়ে পরিচিতি হতে প্ররোচনা জাগিয়েছে। যে সময় বিশ্বজুড়েই সবাই নিজেরে পরিচয়ে মাথা তুলে গৌরব করার রীতি রপ্ত করছিলো। সে ইংরেজ হোক এমনকি তামিল মারাঠি বা সর্বভারতীয় চেতনা হোক। যদিও গত শতকের মাঝামাঝি সময়ে বাঙালী মুসলমান পরিচয় সমধিক প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিলো। কিন্তু সাম্প্রদায়িক পরিচয়ে দেশ প্রতিষ্ঠান থিয়রীতে নিখিল ভারত বিভক্ত হওয়ার মাত্র ২৪ বছরের মাথায় মুসলিম সাম্প্রদায়িকতার আদলে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার ধারণা চরমভাবে ভুল প্রমানিত হলো এবং ব্যর্থ হলো। পাকিস্তানের নীতিহীনতা নির্যাতনতা বাঙালীকে তার শেকড়ের দিকে ফিরে আসতে অনুপ্রাণীত করলো।

বাংলার হিন্দু, বাংলার মুসলিম, বাংলার বৌদ্ধ ও বাংলার খ্রিষ্টান সবাই এক রশির সমান্তরাল ধারায় বাঙালী হিসেবে স্বাধীন দেশে নিজেদের ধর্ম, পারিবারিক আচার কৃষ্টি কালচার নিজেদের মতো আবার সবার সাথে ভাগাভাগি করে সর্বজনীন এবং সার্বজনীন ভাবে তাদের সাংস্কৃতিক ধারাকে এগিয়ে নিয়ে চলেছে। তবে বাংলার ক্ষুদ্র নৃগোষ্টিগুলো ‍এই ধারায় কতটা সম্পৃক্ত হতে পেরেছে সে প্রশ্ন আসতে পারে। তাদের নিজস্ব ভাষা সংস্কৃতির চর্চা স্বাধীন ও অবাধভাবে বাঁচিয়ে রেখে আগামী দিনের সমৃদ্ধি বাংলাদেশ গঠনই এখানে মূখ্য। বরং বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐহিত্য ও সম্পদকে সমৃদ্ধ করছে তাদের ভিন্নতর সংস্কৃতির রঙীন আবেশ। কারণ আজকের বিশ্বের কাছে আমার রাজনৈতিক পরিচয় আমি বাংলাদেশী।

যে বিষয়ে বলবো এত প্রসঙ্গের অবতারণা, সে লোকসাহিত্য আমাদের পুরনো নিজস্ব এবং সমৃদ্ধ সম্পদ একথা আর বলার অপেক্ষা রাখে কই? কিন্তু আমাদের সেইসব প্রান্ত ও প্রাকৃতজনের মুখে মুখে রচিত ও গাহিত সংস্কৃতির নানা উপাদান ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে বিস্মৃতির অতলে বিলুপ্তির গহবরে। একজন করে চারণ কবি, কবিয়াল, সর্দার ও দোহারী মারা যাচ্ছে বা বৃদ্ধ হয়ে স্মৃতিভ্রম হচ্ছে আর লোকসাহিত্যের একটা করে লাইব্রেরী নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। একটি এলাকায় পালাগান, কবিগান, যাত্রাগান, লোকখেলা, গম্ভীরা, জারিগান ও মেয়েলীগীত উঠে যাচ্ছে আর লোকসাহিত্যের একটা করে বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংসস্তুপের নিকট ছাপা পড়ছে যেখান থেকে হয়তো কখনো সেসব গীতিকা, গীত ও লোককথাগুলোকে উদ্ধার করা যাবেনা। লোকসাহিত্য সংগ্রহ সংরক্ষণ এর যে অনুরাগ ড. মুহাম্মদ শহীদুল্যাহ, কবি জসিম উদ্দীন. মোজাফ্ফর আহমদ, চন্দ্রকুমার দে ও ডক্টর দীনেশচন্দ্র সেন শুরু করেছেন। তার ধারা হয়তো বেঁচে আছে কিন্তু অব্যাহত আছে বললে ভুলই বলতে হবে। খুবই স্বল্প পরিসরে তার চলন আর সারে সারে চলছে তার দলন। একদিকে চর্চার অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে রেকর্ড ও সংগ্রহের অভাবে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।

কেউ বলবে সিনেমা টেলিভিশন ইন্টারনেটের যুগ! তাতো হবেই। কেউ একধাপ এগিয়ে বলবে ভারতীয় টিভি সংস্কৃতির আগ্রাসন! কেউ বলবেন আকাশ সংস্কৃতির যুগ! কার সাধ্য সংস্কৃতির আমদানী ঠেকায়? একধাপ এগিয়ে বলবেন ইউটিউবের যুগে একথা বেমানান। কথা অসার নয়, অমূলক নয়। স্যাটেলাইট প্রযুক্তি, মুক্ত সংস্কৃতি, নতুন প্রজন্মের প্রশ্বস্তি আর আন্তজালের বিস্তৃতি হু হু করে অপরাপর সংস্কৃতির বাতাস প্রবেশ করবেই। বিশ্ব সংস্কৃতির স্বাদ আস্বাদন না করলে সংস্কৃতিমনা বলে উত্তরীয় চড়িয়ে ঝোলাব্যাগ ঝুলিয়ে কি লাভ? আগামী প্রজন্ম গণতান্তিক এক মুক্ত পৃথিবীর বাসিন্দা, যা কিছু চাইবে গ্রহণ করবে যা কিছু চাইবেনা এড়িয়ে যাবে, সংস্কৃতিতো আর ছাপিয়ে দেয়া বিষয় নয়। এতো আর ধর্মের বাণী নয় যে পরকালের মঙ্গলের জন্য মান্য অথবা শিরোধার্য, এমনকি রাজ রাজড়ার যথা্আজ্ঞা নয় যে জোহুকুম বলে মেনে নিতে হবে। রাস্ট্রতো কারো সংস্কৃতিক স্বাধীনতায় বাগড়া দিতে পারেনা। এসব কথাগুলো আধুনিকতা, বাস্তবতা এবং আগামীদিনের নিরীখে নিগুড় সত্য।

আমার কথা হলো এইযে, প্রযুক্তির সুযোগ, মুক্তচর্চার অবারিত দ্বার এবং আদানপ্রদান ও প্রচার প্রপাগান্ডার বিশা্ল জগত এখানে আমরাওতো পারি আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতিতে তুলে ধরতে। না অন্য সংস্কৃতির বিরোধীতা করে বা ঠেকিয়ে নয়। ভিনদেশী সংস্কৃতির কোনো রস আস্বাদন করতে চাইলে তা যে কেউ করতে পারে বা করবে। কিন্তু সেটা নিজের সংস্কৃতিকে পায়ে পিষ্ট করে দলিত মথিত করে নয়। বিশ্বজুড়ে হাজারো সংস্কৃতিক ধারার সাথে আমার ভাষা, আমার সাহিত্য, আমার সংস্কৃতি আমার কৃষ্টি ও কালচার টিকে থাকবে নিভু নিভু প্রদীপের আলোতে নয় শত সহস্র ধারায়। এটা কোনো সংস্কৃতির সাথে প্রতিযোগিতা করে নয়। প্রতিটি সংস্কৃতি তার ভিন্ন ভিন্ন ধারায় বিকশিত ও প্রকাশিত হবে। এমনচাইতো হওয়া উচিত।

কিন্তু তা আর হচ্ছে কই। ফুটবল ফেডারেশন আছে, লোকক্রীড়া ফেডারেশনতো থাকতে পারতো। ক্রিক্রেট বোর্ড সরগরম, হাডুডু ফোরামতো আরেকটু চাঙ্গা হতে পারতো। এইযে দৈন্যতা স্বীয় সংস্কৃতির প্রতি সেটা সাধারণ মানুষ বলি আর হুকুমত বলে সকলের ক্ষেত্রেই রয়েছে। এ ব্যাপারে আমাদের হয়তো তখনো চেতনা হবে যখন শতশত গ্রামীন খেলা, খেলার বোল, গীতিকবিতা, পালা ও কথিকাগুলো চিরতরে হারিয়ে যাবে।

 

Published : ফেব্রুয়ারি ২, ২০১৭ | 899 Views

  • img1

  • ফেব্রুয়ারি ২০১৭
    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
    « জানুয়ারি   মার্চ »
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮  
  • Helpline

    +880 1709962798