পায়ে হেঁটে পথচলা

Published : জানুয়ারি ২৮, ২০১৭ | 1948 Views

পায়ে হেঁটে পথচলা

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

হাটার ব্যাপারে কিছু মানুষের প্রশ্ন আছে। আরে বাবা কাম কাজ নাই, বিনা প্রয়োজনে শুধু শুধু হাটো আর হাটো এটা কেমন কথা? এমন প্রশ্ন হতেই পারে। কিছু মানুষ আবার সব ব্যাপারে প্রশ্ন তুলে থাকে। কিছু মানুষ আছে যে কাজ নিজের পছন্দ নয়, সেটা কেন যে অন্য মানুষ করে বেড়ায় এটা তাদের মাথায় আসে না। এছাড়া কিছু মানুষ নতুন কোনো বিষয়কে সহজে নিতে পারে না। পুরনো বিষয় ভালো না হলেও তারা এটাকে স্বাভাবিক মনে করে, কোনো ভালো বিষয় নতুন বা ব্যতিক্রম হলেই চোখ কপালে তোলে। বলে- ‘‘হায়রে দেশ? কালে কালে আরো কতো দেখবো? যেমন মানুষ চুরি করছে এটা নিয়ে তাদের কোনো কথা নেই। মানুষ মদ গাজা খেলেও সেটা নিয়ে মাথাব্যথা নেই। কিন্তু যদি শুনে চিংড়ি শুটকি মাছ দিয়ে গরুর মাংশ রান্না হয়েছে। এরা বলে ‘‘ ধুর ধুর এ আবার কি জিনিস? এসব মানুষ খায় নাকি? কিন্তু এতে দোষটা কোথায় কেউ যদি উপযুক্ত সুস্বাদু করে রাধতে পারে?

আমারিএই পোস্ট শুধু সেসব লোকদের জন্য নয়। সবার জন্যই হাটার ব্যাপারে কিছু বিষয় শেয়ার করা যাক-

১. মানুষ কেন হাটে? মানুষ চলাচলের সুবিধার্থে হাটে, সোজা দাড়িয়ে সামনে এক পা বাড়িয়ে দেয় এবং এক পা দিয়ে মাটিকে পেছনের দিকে ধাক্কা দেয় ফলে মানুষের শরীরটা সামনের দিকে এগিয়ে যায়। আর এটার নাম হাটা। এটা একান্ত জীবনের প্রয়োজনে। এই প্রয়োজনে সব প্রাণীকুলও তাদের নিজেদের ভঙ্গিতে হেটে চলে।

২. হাটার ব্যাপারে আরবের যাযাবর জাতিদের সুনাম আছে, সুনাম ছিলো আর্যদের এবং মঙ্গোলীয়দের, তুর্কি ফার্সীরাও কম যায়না। এ ব্যাপারে বাঙালীর ইতিহাসে তেমন কিছু নেই।

৩. হাটার ব্যাপারে ঘোড়া গাধার কথা আমরা জানি, জানি বাঘ, হাতি, উট এর কথাও। কচ্চপরা তাদের নিজস্ব চলার ভঙ্গিতে পানির তলায় বহুদূর চলে যায়, পাখিরা উড়ে যায় একমহাদেশ থেকে আরেক মহাদেশে। সাপেরা তাদের বুক দিয়ে সর্পিল গতিতে হেটে চলে।

৪. যানবাহন আবিষ্কারের আগে মানুষ হায়ে হেটেই দুনিয়াটা আবাদ করেছে। বলা যায় চাকা ও ঘোড়ার ব্যবহার শুরু হওয়ার আগে হাটাই ছিলো যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম।

৫. আজ অদ্ভুত কারণে মানুষ হেটে বেড়ায়। রোগ সারার জন্য হাটে, খেলাধুলা ভালো করার জন্য হাটে। আপনমনে আপন খুশিতেও হেটে বেড়ায় কেউ কেউ।

৬. উন্নত বিশ্বে হাটা বা হাইকিং একটা ট্যূরিজম। বাংলাদেশেও কেউ কেউ করে থাকেন। বিশেষ করে যারা পাহাড়ে বা জঙ্গলে বেড়াতে যান।

৭. হাটা একটা সামাজিক কাজও বটে। খোদ আয়ারল্যান্ডে একশটার বেশী ক্লাব রয়েছে। এই ক্লাবের সদস্যরা নিজেরা প্রচুর হাটে অন্যদেরকে হাটতে উৎসাহ জোগায়। বিদেশে হাটার জন্য ডোনার সংস্থােও রয়েছে। মানে তারা হাটার কাজে অর্থ সাহায্য দেয়।

৮. বর্তমানে হাটার অনুষ্ঠানে গুলো সারা বিশ্বে তিনটি কারণে বেশ জনপ্রিয়: প্রথম টূরিজম, দ্বিতীয়ত সামাজিক কোনো মেসেজ ক্যারী করা। তৃতীয়ত ফান্ড রািইজিং।

৯. টুরিজমের কথা বলেছি। সামাজিক মেসেজ বিভিন্ন ধরনের সমস্যা নিয়ে জনসচেতনতা তৈরী করার জন্য সারাবিশ্বে মানুষ হাটে বা সাইক্লিং করে, আমাদের দেশেও এখন এসব উদ্যোগ শুরু হয়েছে।

১০. উন্নত বিশ্বে সামাজিক কাজে ফান্ড রাইজিং এর জন্য হাটা বেশ কার্যকর একটা পদক্ষেপ। লন্ডনের বাংলাদেশীদের দ্বারা পরিচালিত ইউরোপোর সবচে বড়ো মসজিদ ইস্ট লণ্ডন মসজিদ এর জন্য ‘‘ওয়াকিং ফর মস্ক’’ কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়। বলাবাহুল্য এতে করে ব্যাপক অর্থ কালেকশান হয়।

11. ম্যারাথন দৌড়ের কথা আপনারা জানেন। আজ আপনাদের সাথে হোপ অব ম্যারাথন ঘটনাটি শেয়ার করেছি। মাত্র ১মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করার জন্য যে দৌড় শুরু হয়েছে তাতে ২৪ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ হয়েছে। এবং ক্যান্সার আক্রান্তদের ওই সংস্থা এই যাবত ৬০০ মিলিয়ন ডলার ফান্ড রাইজিং করেছে।

১২. কাল যদি মেসি রোনালদো্ে ইউরোপারে রাস্তায় কোনো সংস্থার ফান্ড রাইজিং এর জন্য হাটে। আমার ধারণা ওই কোম্পানীর অনলাইন ব্যাংক সার্ভারে জ্যাম লেগে যাবে। কারণ একসাথে হাজার হাজার মানুষ টাকা দেয়ার জন্য অনলাইনে ঢুকবে।

১৩. কাল যদি বাংলাদেশ সরকার একটি শিশু কল্যাণ ফাউন্ডেশন গঠন করে। আর যদি বলা হয় সাকিব আল হাসান এই ফাউন্ডেশনের ফান্ড রাইজং এর জন্য একদিন রাস্তায় হাটবে। আমার ধারণা ব্যাপক সাড়া পড়বে। ( বাংলাদেশে হাটার কাজটি সবাই করুক, ফান্ড রাইজিং সবাই করতে পারবেনা, প্রথমত বাঁধা আসতে পারে, দ্বীতিয়ত কেউ এটাকে ধান্ধা বানিয়ে ফেলতে পারে)

১৪. আমি এ যাবত মোট 7 বার, প্রয়োজনে বিপদে পড়ে, পরীক্ষামুলক এবং সামাজিক কারণে ১৬ থেকে ৩৬ কিলোমিটার পর্যন্ত হেটেছি। এবং সর্বশেষ হেঁটেছি। রেমাক্রি থেকে নাফাকুম। আর সবচেয়ে বেশী হেঁটেছি তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ ১১৭৬ কি্লোমিটার।

১৫.  গত ১১ ডিসেম্বর পরীক্ষামূলকভাবে- অপু নাপের এক দরিদ্র শিশুর চিকিৎ অর্থ সাহায্যের জন্য আরো 3 জন তরুনকে নিয়ে হাটি।

Published : জানুয়ারি ২৮, ২০১৭ | 1948 Views

  • img1

  • Helpline

    +880 1709962798