পায়ে হেঁটে দেশ ভ্রমণ কিছু টুকরো স্মৃতি

Published : জানুয়ারি ২৬, ২০১৭ | 1686 Views

পায়ে হেঁটে দেশ ভ্রমণ কিছু টুকরো স্মৃতি

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

পায়ে হেঁটে দেশভ্রমণ করি ২০১৬ সালের ১২ ফ্রেব্রুয়ারী থেকে ২৮ মার্চ। এই সময়ের বিভিন্ন স্মৃতি অভিজ্ঞতা ইত্যাদি নিয়ে শতাধিক লেখা বিভিন্ন মাধ্যেমে প্রকাশিত হয়েছে।  প্রকাশিত হচে চলেছে একটি বইও। এর মধ্যে কিছু বিষয় বিভিন্ন লেখায় বাদ পড়েছে। সেসব বিষয় নিয়ে এই লেখা।

স্লুইস গেট তাহাদের কক্সবাজার

পরের দিন সকালে আমার পদযাত্রা শুরু দিনাজপুর জেলা শহরের উদ্দেশ্যে। তার আগে একানকার টোডা নদীকে ঘিরে গড়ে উঠা স্লুইসগেট পরিদর্শনে গেলাম মেরিনের অনুরোধে। নদীর ওপারে মানুষদের মাঝে নোয়াখালীর আঞ্চলিক টোন শুনে রহস্য জানতে চাইলে বেরিয়ে আসলো সেই পুরনো কাসুন্দি। পাকিস্তান আমলে নোয়াখালী কুমিল্লা থেকে প্রচুর লোক এখানে এসে স্থায়ী বসতি গড়ে তোলো। এখানে একজন আদি নোয়াখাইল্যার চায়ের দাওয়াত নিলাম যিনি ছোটবেলায় মা বাবার সাথে মাইগ্রেট করেছেন। মজার ব্যাপার হলো ২ দিন পরে তার সাথে আবার দিনাজপুর জেলা শহরের কাছেই দেখা হয়। পেশায় তিনি একজন পিকআপ ভ্যান চালক।

 

রোড টু বান্দরবান

আবারো বান্দরবানের রাস্তা পড়ে। এবং বামপাশে বান্দরবান জেলা পড়ে। নাইক্ষংছড়ি যাওয়ার রাস্তা । আঁকাবাঁকা পাহাড়ী রাস্তা দেখেই লোভ হয়। মনচায় এখনি ছুটে চলি। বান্দরবার থেকে তখনি এসে থামলো চাঁদের গাড়ি। লাড়কি কাঠাল একসাথে আরো কতো কিছু নিয়ে এলো। খুব অসহায় মনে হয়। নিজেকে কারণ আমি যে চাইলে বান্দরবানে একটা ঘর তুলতে পারবোনা । বা থাকতে পারবোনা। কারণ আমি পাহাড়ী বা উপজাতি বা স্থানীয় আদিবাসী নয়। আমি দেশের যদি জলবায়ু জনিত ক্ষতির কারণে কখনো বাংলাদেশের নিচু এলাকা সমুদ্রসীমার নিচে চলে যায়। তাহলেও আমাদের মতো বরিশাল খুলনা নোয়াখালীর লোকদের কি হবে? মালদ্বীপ সরকার ইতোমধ্যে অস্ট্রেলিয়াতে কলোনি কিনে রেখেছে। না আমাদের জন্য নয়, তার দেশের লোকদের জন্য। দেশ ডুবে গেলে অস্ট্রেলিয়া।

 

যমুনার জল দেখতে কালো,

যমুনার জল দেখতে কালো,, স্মান করিতে লাগে ভালো, আচ্চা যমুনার জল কি দেখতে আসলে কালো? যমুনায় গোসল করতে কি আসলে ভালো লাগে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আপেক্ষিক হয়ে থাকবে। কিন্তু যমুনা বোর্ডিং এর ব্যাপারে আমি আপনাদের ঠিক ঠিক ডেটা দিতে পারবো। শুয়াগাজী বাজার থেকে কোয়াটার কিলোমিটার আগে একটা আবাসিক হোটেল। একুশটা রুম আছে। বেশীরভাগ রুমই বুকড থাকে। ভাড়াও কম নয়। আলো বাতাস পাওয়া যায় এরকম একটা বড়ো রুমে আমি একরাত ছিলাম। অবাক হলাম এরকম জায়গায় এমন একটি গেস্টহাউস পেয়ে।

ভাব: বাপরে বাপ

যেখানে দুপুরের খাবার খেলাম। জায়গাটার নাম শাপলাপুর কোথাও শামলাপুর লেখা আছে। একটি হোটেল চিংড়ি মাছ দিয়ে খেলাম বেশ সুস্বাদু রান্না মনে হলো। জনসাতেক লোকের একদল তরুন হেঁটে যাচ্ছিল হাতে সবার লাঠি। মনে হয় ট্র্যাকিং করছে টেকনাফ টু কক্সবাজার। কথা বলতে চাইলাম কেউ পাত্তা দিলো না।

এ ধরনের কোনো কিছু করতে গেলে সম্ভবত নিজের মধ্যে একটা ভাব এসে যায়। জিনিসটা ভালোভাবে খেয়াল করলাম। বগুড়ায় এক লোককে দেখলাম। লাল পোষাক পরিহিত সাইকেলে চড়ে যাচ্ছে। তাতে লেখা ছিলো সাইকেলে চড়ে দেশভ্রমণ, আলাপ করতে চাইলাম। একবার আড়চোখে দেখে নিজের পথে চলল। ঢাকায় এক বয়স্ক লোককে পেলাম তার সাইকেলে লেখা রয়েছে। সাইকেলে চড়ে হজ্জগমন করতে চাই। তারসাথে কথা বলতে চাইলাম তিনিও দাম দিলেন না। আমার স্ট্রলার দেখে তারা প্রথমে ভাবে আমি ফেরীওয়ালা কোনো কিছু বিক্রি করছি। আরে ভাই ফেরীওয়ালা কি মানুষ না। ফেরীওয়ালা মনে করেও কি কথা বলা যায়না।

কই আমিতো এই ভাবটা নিইনাই। বরং মানুষের সাথে কথা বলতে বলতে আমার জার্নিটা বেশ কয়েকদিন বেশী হয়েগিয়েছিলো। নচিকেতার গানের মতো করে তাই বলি ‘‘আমি এক ফেরীওয়ালা ভাই। স্বপ্ন ফেরী করে বেড়াই।’’

 

যমুনা যদি না উজানে বয়

যমুনা নদীকে ঘিরে ট্যুরিজম শিল্পের যে সম্ভাবনা ছিলো তা বঙ্গবন্ধু ব্রিজ হওয়ার পর বহুগুণ বেড়ে গিয়েছিলো। কিন্তু বর্তমানে যমুনা রিসোর্টকে বন্ধ করে দেয়ায় সেটা বিরাট একটা হোচট খেয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙনের সময় গৃহহারা মানুষগুলোর কান্নায় আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠে। ইতোমধ্যে অনেক এলকায় এই সমস্যার সমাধান হলেও এখনো প্রতিবছর কয়েক লাখ লোক সবকিছু হারিয়ে পথে বসে নদীভাঙনের ফলে। একটি বৃহৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করা যেতে পারে যে নদী খনন ও বাঁধ তৈরীর মাধ্যমে সারাদেশের সব নদীকে একটি প্রকল্পের আওতার নিয়ে আসলে এর মোট কাজ কেমন। সেটা বাস্তবায়নে কত বছর সময় লাগবে। সে আলোকে বছর দশেকের একটা পরিকল্পনা গ্রহণ করে জনসংখ্যা ও আবাদী জমি রক্ষার অগ্রধিকার এর ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা দরকার বলে আমার মনে হয়। তা না হলে প্রতিবছর নদীভাঙা মানুষগুলোর হাহাকার শুনতে হবে। আপাতত যেসব মানূষ তাদের বাপদাতার ভিটে হারিয়েছে, তাদেরকে নতুন চরগজানো এলাকায় বা পার্বত্য এলাকায় পূনবাসন করা যেতে পারে।

আমি এক ভাটাটিয়া ভাই

মিরশ্বরাই বাজারের কাছাকাছি এসে গাছগাছালি ঘেরা একটি বাড়িতে ভাড়া দেয়ার কথা লেখা থাকায় খুব লোভ লাগলো। একতলা পাকা বাড়ী তাকে ঘিরে আছে অসংখ্য গাছগাছাড়া। খুব লোভ হলো সে বাড়িটি ভাড়া নিয়ে থাকার। কিন্তু সেতো আর সম্ভবের গল্প নয়। এপথের আরেকটি বিষয় হলো বেশকিছু সুন্দর সুন্দর মসজিদ চোখে পড়ে কদাচিত। আমি যখন স্কুলে পড়তাম তখন বাবা চট্টগ্রামে চাকরি করতেন। প্রতিবার বার্ষিক পরীক্ষা দিয়ে চট্টগ্রাম আসা ছিলো আমার রুটিন। তখন মনে হতো চট্টগ্রাম কতযে দূর। এখন হেঁটে যাচ্ছিও তাও বেশী দূরে মনে হচ্ছে না। কারণ সাড়ে সাতশ কিলোমিটার পাড়ি দেয়ার পর ফেনী থেকে চট্টগ্রাম একশ কিলোমিটারের রাস্তা সে আর এমন কি?

 

Published : জানুয়ারি ২৬, ২০১৭ | 1686 Views

  • img1

  • Helpline

    +880 1709962798