কষ্ট দিনের স্মৃতি

Published : জানুয়ারি ২৩, ২০১৭ | 1852 Views

কষ্ট দিনের স্মৃতি

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

দেশ দেখা শিরোনামে তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ ভ্রমণের সময় বিভিন্ন দিন খুব কষ্ট হয়েছিলো। সেগুলো অন্য লেখায় লিখেছি। সেখান দুটো দিনের স্মৃতি নিয়ে এই লেখা।। উল্লেখ্য গত ১২ ফ্রেব্রুয়ারী থেকে ২৮ মার্চ বাংলাদেশের তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ পায়ে হেঁটে ভ্রমণের অন্যান্য স্মৃতি বিভিন্ন পত্রিকা ও ব্লগে প্রকাশিত হয়েছে।

প্যারা দিবস

একটা দিন একসঙ্গে অনেক প্যারা নিলাম, প্রথমত শুরু করলাম ৭টার বদলে ৯টায়, কারণ ২৫ কিলোমিটার যেতে হবে। তারপর কান্তজীর মন্দির পেরিয়ে ৩ কিলোমিটার যাওয়ার পর গগুল ম্যাপ দেখে বুঝলাম, পেরিয়ে এসেছি। পরে আবার পেছনে গেলাম, হেটেই। দিনাজপুর শহরে যাওয়ার প্লান ছিলনা, তবু ও গেলাম, কারণ আমার ২টা পার্সেল এসেছে। একটা পার্সেল রিসিভ করলাম। আরেকটা নিতে গেলাম বলল আজ ডেলিভারী হবেনা কাল ৯টার পরে আসেন। বোঝেন অবস্থা পরের দিন আমার ৪০ কিমির উপরে পথ, আমাকে শুরু করতে হবে ভোর ৬টায়। যাহোক দিনাজপুরে আমার জন্য পর্যটন মোটেলে সৌজন্য কক্ষ বরাদ্দ করা আছে। কিন্তু আমার সে অবস্থা নেই ওই পর্যন্ত যাওয়ার। কারণ যেখানে ২৫ টার্গেট ছিলো সেখানে ৩ দু গুনে ছয় শহরের মধ্যে আরো ৩ প্রায় ৩৪ করে ফেলেছি। তাই আর চলতশক্তি নেই। কিন্তু প্যারা তখনো শেষ হয়নি। যেখানেই যাই সিট খালি নাই, বলুন কি করি। অবশেষ ৫ নাম্বার হো্টেলে েএকমাত্র সিঙ্গেল রুম বুক দিলাম। এবার গোসল করে খেতে যাবো। হোটেল কাউন্টারে জিজ্ঞেস করলাম ভালো হোটেল কোনটা। বলল ডায়মন্ড। নিচে নেচে খুজে না পেয়ে লোকদের জিজ্ঞেস করলাম। সবাই বলে এই একটু সামনে, একটু সামনে। এদিকে আমার পা দেয়ার ক্ষমতাটুকু নেই। শে ষ লোকেরা আমাকে ডায়মন্ড আবাসিক হোটের দেকিযে দিলো, পপরে আবার ফিরে আসলাম। কিয়ে অস্বস্তি কষ্ট আর বিরক্তি লাগছিলো।

কষ্ট দিবস

সকালে বের হবো ৭টায়, হয়ে গেলো ৯টা, রাস্তা ৩৯ কি্লো। টেনশনের শেষ নেই। বের হলাম, সৈয়দপুর থেকে। ওরে ধুলাবালি। হঠাৎ তাপমাত্রাও বেশী মনে হলো। আর বাতাসের নামগন্ধ নেই। মেইনরোডে এসে দেখি রাস্তাতো এমনি বেশ চওড়া নয়, মানে দুইটা গাড়ি ক্রস করার সময় আমাকে রাস্তা থেকে নেমে যেতে হয়। ওমা একি রাস্তার এক পাথর যেন এক একটা গুলগুইল্লা। আমার গাড়ি চলতে চায়না, মানে হুল্লু গাড়ির কথা বলছি। যে পুশিং ট্রলিতে আমি মালামাল বয়ে বেড়াই। জোর করে চালালে ডকডক শব্দ হয় পাথরের কারণে। তবুও পথ চলতে হবে। হায় আল্লাহ একি এই রাস্তায়তো দুইপাশে তেমন গাছও নেই।

দিনশেষে ৩৯ এর কাজ শেষ করলাম ২৫ কিলোতে তাও রাত ৮টা বেজে গেছে। আর আমার অবস্থা কেরোসিন, পায়ে ফোসকা ফুটে গেছে। হুল্লু গাড়ির অবস্থা সয়াবিন। এমনিতে সামনের দুটো চাক্কা অর্রধেক ক্ষয় হয়ে গেছে, তারপর কয়েকটা চাকার সাইড ঢাকনা খুলে গেছে। মনে হয় যেকোন মুহর্তে খুলে যায় আরকি?

২৫ কিলোমিটারের মাথায় রংপুর শহরের ১৫ কিমি দূরে যখন থাকার জায়গা খুজতেছিলাম, তখন আহ্‌ আরকি বলবো? সেটা অন্য  পোস্টে বলি।

Published : জানুয়ারি ২৩, ২০১৭ | 1852 Views

  • img1

  • Helpline

    +880 1709962798