সর্ব দক্ষিণের বাংলাদেশ

Published : জানুয়ারি ২১, ২০১৭ | 1926 Views

সর্ব দক্ষিণের বাংলাদেশ

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

আমার দেশদেখা নামে পায়ে হেঁটে তেতুলিয়া থেকে টেকনাফ ভ্রমনের শেষদিনটা ছিলো সেন্টমার্টটিন দ্বীপে। ১২ ফ্রেব্রুয়ারী আমি তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধা থেকে যাত্রা শুরু করার পর ২৮ মার্চ টেকনাফের শেষ সীমান্ত শাহপরীর দ্বীপের গোলার চরে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শেষ করলেই পরের দিন ২৯ মার্চ ২০১৬ আমি সেন্টমার্টিন যাই সেখানে আবার দ্বীপের একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ভ্রমনের সমাপ্তি ঘোষনা করে। অবশ্য আমরা আরো একদিন নারিকেল জিঞ্জিরায় থেকে এর সৌন্দর্ উপভোগ করি। মূলত সে অভিজ্ঞতা থেকেই এই রচনা।

সেন্টমার্টিন দীপে যেতে হলে ঢাকা থেকে কক্সবাজারের বাসে চড়ে যেতে হবে কক্সবাজার। এখানে বাসযোগে শহরের ভেতরের না গিয়ে নেমে যেতে হবে টার্মিনাল সেখান থেকে ছাড়ে টেকনাফের বাস। টেকনাফের বাসে চড়ে টেকনাফ শহরে না গিয়ে নামতে গবে ৭ কিলোমিটার আগে ঘাটে যেখান থেকে সেন্টমার্টিন এর উদ্দেশ্যে জাহাজ ছেড়ে যায়। দৈনিক একটা মাত্র জাহাজ যায়। জাহাজে উঠতে হলে অবশ্যই সকাল ৯টার মধ্যে পৌছতে হবে। তাই ঢাকা থেকে যারা যাবেন তারা এখান থেকেই বিষয়টা মাথায় রাখবেন।

আরযদি কোনো কারণে জাহাজ না ধরতে পারেন তাহলে পুরো ভ্রমণ আপনি একদিন পিছিয়ে দিতে পারবেন। আটকে পড়া দিনটা কাটাতে পারেন টেকনাফে। এখানে ঘুরে দেখতে পারেন টেকনাফ ও সাবরাং সমুদ্র সৈকত। হাতে সময় পেলে ঘুরে আসতে পারেন শাহপরীর দ্বীপ। শাহপরীর দ্বীপ এখানকার সমুদ্রে গর্ভে বিলীন হওয়া গোলার চর। মৎস্যজীবি মানুষদের বসবাসমুখরিত জালিয়া পাড়া সবই আপনাকে অন্য এক বাংলোদেশের সাথে পরিচয় করিয়ে দেবে। যা হয়তো না দেখলে আপনার বাংলাদেশ দেখা অসম্পূর্ণ থাকতে পারে। আমার অন্তত তাই মনে হয়েছে। এখানকার লবণক্ষেত এখানকার শুটকির চর আপনাকে সে কথাই বার বার বলবে। এটাও বেড়ানোর জন্য ভালো জায়গা এখানে একটি জেটি ও একটি গেষ্টহাউস রয়েছে। গ্রামের বাজারের হোটেলে সামুদ্রিক মাছের নানা আইটেম পাবেন এখানেও।

শাহপরীর দ্বীপ দুভাবে যেতে পারেন প্রথমত বোটে দ্বিতীয়ত শুকনা মৌসুম হলে টেক্সি যায়।  ঘন্টা দেড়েকের মধ্যে আপনাকে টেকনাফ শহর থেকে শাহপরীর দ্বীপে পৌছে দেবে।

টেকনাফের মানুষ এখানকার সাগর পাহাড় সমুদ্র সৈকত মানুষের জীবনয যাত্রা, পানক্ষেত, কুয়ায় পানি তুলে জীবন ধারণ, নারিকেল সুপারির বাগান, ঝাউগাছ, সৈকত ধরে রাস্তা, পাহাড় মাড়ানো মেঠোপথ, পথের ধারের গর্জন বন সবই আপনাকে টানবে।

আর সেন্টমার্টটিন দ্বীপের গেলতো কথাই নেই। এখানে প্রতিটি জিনিস সুন্দরের কথাই বলবে। বালুময় সমুদ্র সৈকত। সৈকতে মৃত শামুক জিনিক কোনো কোনো জায়গায় শামুক ঝিনুক এতটাই ঘন যে মনে হয় পুরো সৈকতটা বালু নয় কেবল শামুক ঝিনেুকের কংকাল দিয়েই গড়া।

আর বাস্তবিক অর্থে পুরো দ্বীপটাইতো প্রবাল পাথরে গড়া। সৈকতের পথে পথে মুত পাথর আর প্রবাল অন্যরকম েএক দৃশ্যের অবতারণা করে এখানে। কখনো জীবিত প্রবালও চোখে পড়তে পারে।

সাগরের কুলে রয়েছে কিছু ম্যানগ্রোভ গাছও। আর হেলানো ছায়াঘেরা নারিকেল আর ঝাউগাছতো আছেই। আপনার অবকাশকে অন্যরকম আনন্দে ভরে দেবে সবকিছু।

সেন্টমার্টিন এর পাশেই রয়েছে ছেড়াদ্বীপ। ছেড়া দ্বীপ মূলত তিনভাগে বিভক্ত বা ছেড়া ছেড়া।

 

 

Published : জানুয়ারি ২১, ২০১৭ | 1926 Views

  • img1

  • Helpline

    +880 1709962798