দু’টি রক্তদানের গল্প

Published : জানুয়ারি ১৪, ২০১৭ | 1189 Views

দু’টি রক্তদানের গল্প

রক্ত দিয়ে জীবন বাঁচানোর আনন্দের কাছে পৃথিবীর সব আনন্দ  নাসিম বাশার

( ইনি ১৯৮৭ সাল থেকে নিয়মিত রক্ত দেন এযাবত ১৫৮বার দিতে রক্ত দিয়েছেন)

 

আমি আমার ১৮ বছর বয়স থেকে রক্ত দিয়ে আসছি। মূলত শিশু রোগীদের জন্য রক্ত দিয়ে আমি বেশী মানুসিক তৃপ্তি অনুভব করি। শিশদেরকে রক্ত দেয়ার কারণে তিনমাস হওয়ার আগেই আমি রক্ত দিতে পারি। যেহেতু তাদের জন্য খুব বেশী রক্তের প্রয়োজন হয়না। তাই আমার পক্ষে আজ পর্যন্ত৫৩ বার রক্ত দেয়া সম্ভব হয়েছে। মানবতার সেবায় আমি আজও রক্ত দিয়ে যাছ্ছি। রক্ত দেয়া ভয়ের কিছু নয়। পৃথিবীতে কোনো রোগীকে রক্ত দিতে গিয়ে আজ পর্যন্ত কেউ মরে যায়নি। রক্ত দেয়ার ক্ষেত্রে আপনার ভয়টাই সমস্যা। এটা কাটিয়ে উঠুন এবং মানবতার সেবায় এগিয়ে আসুন। আমার সাথে

আজ অন্যকে রক্ত দিন, কাল আপনার নিজের রক্তের প্রয়োজন হতে পারে।

5443_1990817747809486_6651373558808309279_n

(ইনি ৮০০ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে এসে রক্ত দিয়ে আবার ২০০ কিলোমিটার হেঁটে গিয়েছেন)

আমি রক্ত দেয়া শুরু করি মাত্র কয়েকবছর আগে। প্রথমবার একুশে বইমেলায় রক্ত দিয়ে আমি সাহস পেয়ে যাই। সেদিনও আমি রক্ত দিয়ে ৫ কিলোমিটার হেঁটে বাসায়িআসি। এরপর থেকে নিয়মিত রক্ত দিয়ে আসছি। কখনো রক্ত দেয়ার পর আমার এতটুকু খারাপ লাগেনি। সর্বশেষ গত ১২ ফ্রেব্রুয়ারী থেকে আমি পায়ে বাংলাদেশের তেঁতুলিয়া থেকে কেটকনাফ সফর করি। আমার এই সফরের মধ্যে ১৯ মার্চ আমি চট্টগ্রামে গিয়ে রেডক্রিসেন্টে রক্ত দিই। তখন আমার পথের প্রায় ৮ শ কিলোমিটার অতিক্রান্ত হয়েছে এবং পরের দিন আবার আমি পথচলা শুরু করি আর ২৮শে মার্চ টেকনাফের শেষপ্রান্তে গিয়ে আমি আমার লক্ষ্য পূরণ করি। শুধু তাই নয় ১৯ মার্চ আমি যেদিন রক্ত দিই সেদিনও ১৩ কিলোমিটার হেঁটে রক্ত দিতে যাই এবং রক্ত দিয়ে ১৫  কিলোমিটার হেঁটে হোটেলে অবস্থান করি। সূতরাং রক্ত দিলে শরীর দূর্বল হবে বা ক্ষতি হবে এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই।

মনে রাখবেন, একদিন আপনার নিজের জন্য বা আপনার কোনো স্বজনের জন্য রক্তের প্রয়োজন হতে পারে। আজ আপনি অন্যজনের জন্য এগিয়ে আসুন, কাল আপনার জন্য আরো অনেকেই এগিয়ে আসবে।

 

 

 

 

 

Published : জানুয়ারি ১৪, ২০১৭ | 1189 Views

  • img1

  • Helpline

    +880 1709962798