বাংলাদেশের একমাত্র মাটি ও বালির পাহাড়ী গুহায়

Published : জানুয়ারি ৭, ২০১৭ | 717 Views

 বাংলাদেশের একমাত্র মাটি বালির পাহাড়ী গুহায়
জাহাঙ্গীর আলম শোভন

টেকনাফের গেম রিজার্ভ বাংলাদেশের একমাত্র গেম রিজার্ভ বন। এখানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অন্যতম নিদর্শন হিসেবে শোভিত হচ্ছে তৈঙ্গাচূড়া।  এই চূড়া বেশ খাড়া। এটি এক হাজার ফুট উচ্চতাবিশিষ্ট। এখান থেকে বঙ্গোপসাগর, নাফ নদী, মিয়ানমার সীমানার পাহাড় শ্রেণী এবং গেম রিজার্ভের চিত্র উপভোগ করা যাবে।

গেম রিজার্ভের অভ্যন্তরে রইক্ষ্যং এলাকায় কুদুমগুহার অবস্থান। এটি বাংলাদেশের একমাত্র বালু-মাটির পাহাড়ী গুহা। কুদুমগুহা প্রচুর বাদুড়দের আশ্রয়স্থল। তাই এটিকে বাদুড় গুহা বলেও । কুদুমগুহায় দুই প্রজাতির বাদুড় ছাড়াও বিভিন্ন প্রজাতির শামুক, মাকড়সা এবং যখন পানি ‍ওঠে তখন জলচর জোঁকসহ নানা প্রাণীদের বাস।

কক্সবাজার শহর থেকে ৮৮ কিলোমিটার দক্ষিণে টেকনাফের দমদমিয়া এলাকায় মুছনী গ্রামে অবস্থিত গেম রিজার্ভ এর ভেতরে কুদুমগুহা। স্থানীয়রা বলে কুদুং। দুর্গম পাহাড় অতিক্রম করে এই গুহায় যেতে হয়। এখানকার রোমাঞ্চকর পথ এবং গুহার ভেতরে প্রবেশ করার জন্য অবশ্যই গাইড বা বনবিভাগের প্রহরীর সাহায্য নিতে ভুলবেন না।

গুহার ভেতরে প্রবেশ করে আপনি হয়তো আদিম যুগে হারিয়ে যাবেন। বাঁদুড়ের হাক ডাক আর ওড়াউড়ি, সাথে বোটকা গন্ধ।  বাদুড়-চামচিকা থাকলে সেখানে সাপ থাকতে পারে তাই খুব সাবধানে এবং মশাল নিয়ে এগুতে হবে। বর্ষাকালে বৃষ্টি হলে পাহাড় বেয়ে এতে পানি নেমে আসে, এখানকার পানি বেশ ঠান্ডা এখানে তখন জোঁক থাকে। পানিতে মিঠাপানির মাছও দেখতে পারেন।

কুদুমগুহা ছাড়াও গেমরেঞ্জ এ আছে  প্রায় ৪০০ ফুট উচ্চতায় তৈঙ্গা টেকনাফের সবচেয়ে উঁচু পাহাড়। এ পাহাড়ের চূড়া থেকে একদিকে নাফ নদী আরেক দিকে বঙ্গোপসাগর দেখা যায়। আছে টেকনাফ নেচার পার্ক টেকনাফ শহর থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার উত্তরে দমদমিয়া পাড়ায়  নেচার পার্ক অবস্থিত। জঙ্গলের ভেতরে ভ্রমণের হাঁটার জন্য তিনটি পাহাড়ী বুনো পথ রয়েছে। বন গাইডের সহায়তায় ট্রেলিং করা যায় এখানে।

যেতে হলে: টেকনাফ থেকে ৩৫ কিঃমিঃ, কক্সবাজার থেকে প্রায় ৫০ কিঃমিঃ এসে নামতে হবে হোয়াইকং বাজারে।বুঝতেই পারছেন এখানে আসার জন্য আপনাকে প্রথমে কক্সবাজার বা টেকনাফে আসতে হবে। হোয়াইকং-শাপলাপুর রোডে মিনিট পনেরো গেলেই একটা নির্দিষ্ট জায়গায় নামতে হয়।  হোয়াইকং বাজারে বনবিভাগের একটা বিট অফিস  হোয়াইকং হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে অবশ্যই পুলিশ এসকটও নিতে পারেন, যদি মনে করেন অন্যকোনো ঝুঁকি থাকতে পারে।

থাকতে হলে: টেকনাফে থাকার জন্য সবচেয়ে ভালো জায়গা হলো বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের মোটেল নে টং ( ফোন :০৩৪২৬-৭৫১০৪, এসি দ্বৈত কক্ষ ১৯০০ টাকা, এসি স্যুইট ৩১০০ টাকা এবং সাধারণ দ্বৈত কক্ষ ১৩০০ টাকা)।  আগে যোগাযোগ করলে ২০% কমিশন পেতে পারেন। আর এটা টেকনাফ শহর থেকে তিন কিলোমিটার বাইরে নাফ নদীর কিনারায় পাহাড় ঘেষে। এর ভেতরে আবার মেবাইলের নেটওয়ার্ক থাকেনা। পর্যটনের এ মোটেলটি টেকনাফ শহরের বাইরে। টেকনাফ শহরেও কিছু সাধারণ মানের হোটেল আছে। এসব হোটেলে ৩০০-১২০০ টাকায় কক্ষ পাওয়া যাবে। এখানে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি একেবারে যা তা। তাই গরমে আসলে সর্তক থাকবেন।

Published : জানুয়ারি ৭, ২০১৭ | 717 Views

  • img1

  • Helpline

    +880 1709962798