ভ্রমণ: যেতে পারেন শাহ পরীর দ্বীপ

Published : ডিসেম্বর ৩০, ২০১৬ | 2389 Views

গোলার চর

ভ্রমণ: যেতে পারেন শাহ পরীর দ্বীপ

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

img_20160328_153237

কক্সবাজার আর সেন্টমার্টিন হরহামেশাই ভ্রমণ করছি আমরা। কক্সবাজার বিশ্বের সর্ববৃহৎ সমুদ্র সৈকত আর সেন্টমার্টিন দ্বীপ আমাদের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ। এই দুয়ের মাঝে শাহপরীর দ্বীপ আপনাকে ভিন্নরকম ভ্রমণসুখে আন্দোলিত করতে পারে। আজই শাহপরীর দ্বীপ ভ্রমনের পরিকল্পনা করুন গ্যারান্টি দিয়ে বলছি হতাশ হবেন না।

img_20160328_125458

শাহপরীর দ্বীপের জন্য আলাদা ভ্রমণ পরিকল্পনার প্রয়োজন হবেনা। আপনার কক্সবাজার ভ্রমনের সাথে একদিন বাড়তি যোগ করে নিতে পারেন শাহপরীর দ্বীপ ও টেকনাফের জন্য। সকালে কক্সবাজার থেকে বের হয়ে যাবেনে টেকনাফে  এখানে দেখতে পারেন আদিবাসী পাড়া ও পাহাড়ী গুহা। দেখতে যেতে পারেন রোহিঙ্গা বস্তিও। তারপর টেকনাফ শহরের কেন্ত্রস্থলে দেখতে যাবেন মাথিনের কুপ। দুপুরে টেকনাফে খাবার কাজ সারবেন। তারপর চলে যাবেন শাহপরীর দ্বীপ। শুকনো মৌসুমে সিএনজিতে যেতে পারবেন। বর্ষাকালে কিছুপথ নৌকায় যেতে হবে। সময় লাগবে এক ঘন্টা। ভাড়া পড়বে ১০০ টাকা। এখানে দেখবেন পথের ধারে দিগন্ত প্রসারিত লবণক্ষেত।

img_20160328_142802

দেখবেন জেলেপাড়ার জীবন। দেখতে পাবেন সাগরে যখন জোয়ার আসে তখন এখানকার গাছগুলো কেমন কোমরসমান পানিতে ধীরে ধীরে ডুবে যায়। দেখতে পারেন এখানকার ফেরীঘাট। এখানেই অবস্থিত পৃথিবীর সবচেয়ে বড়ো সমুদ্র সৈকতের শেষ প্রান্ত বদরমোকাম। এখানে ছোট একটি দ্বীপ রয়েছে নাম গোলার চর। জখন জোয়ার আসে তখন মূল দ্বীপের সাথে প্রায় আলাদা হয়ে যায়। গোলার চরে একপ্রান্তে একটি বাড়ি আছে আর পুরোটা ধু ধু বালুচর। এখানে কখনো আটকা পড়ে ক্যাটফিস কিংবা জেলিফিস। লাল টকটকে সামুদ্রিক কাঁকড়াদের দেখবেন ছোট ছোট ছোট গর্ত করে বাসা বেঁধেছে সৈকতে। আপনাকে দেখলেই তারা চোখের পলকে হারিয়ে যাবে বালির গভীরে। দুইএকটা কাঁকড়া যদি পথ তার ঘরের পথ হারিয়ে ফেলে তার সাথে খেলতে পারবেন লুকোচুরি লুকোচুরি খেলা।

আমি যখন পায়ে হেঁটে তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ যাই। তখন এখানেই আনুষ্ঠানিক পতাকা উত্তোলন করি। আমার স্মৃতিতে আজো জল জল করছে সেই স্মৃতি। শাহপরীর দ্বীপ আমারকাছে এতই ভালো লেগেছে যে চলতি বছর ডিসেম্বর মাসে আমি আবারো শাহপরীর দ্বীপে বেড়াতে যাই।

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

এখানে দেখবেন জেলেদের মাছধরা ও তাদের জীবন। শাহপরীর দ্বীপে সমুদ্রর তীরে বেড়ানোর মত তিন তিনটি বিচ রয়েছে। আর কি চাই। ভাবছেন যদি দ্বীপে সত্যি সত্যি ভালো লেগে যায় তখন কি করবেন? কোনো সমস্যা নেই। এখানে একটি বাংলো রয়েছে সরকারী। এলজিইডির। আগে থেকে যোগাযোগ করলে বা উপযুক্ত কারণ দেখালে এখানেই মিলে যাবে রাতের আশ্রয়। বাংলোর সামনেই রয়েছে রেস্টুরেন্ট। এখানে নানা সামুদ্রিক মাছের খাবার পাবেন। চাইলে জেলেদের কাছ থেকে তাজা মাছ কিনে নিয়ে হোটেলকে দিলে ওরা রান্না করে দিবে। ভাবছেন এত এত সুবিধা থাকতে মানুষ শাহপরীর দ্বীপে যায়না কেন? ওইযে বল্লাম কক্সবাজার ও সেন্টমার্টিন দ্বীপের খ্যাতির নিচে চাপা পড়েছে শাহপরীর দ্বীপ। এখান থেকে কিন্তু আপনি নৌকা, ট্রলার ও স্পিডবোটে যেতে পারবেন সেন্টমার্টিন। সময় লাগবে ২০ থেকে ২৫ মিনিট। আর টাকা ৩০০ টাকাও যেতে পারবেন পুরো বোট ভাড়া করলে লাগবে ২ থেকে আড়াই হাজার। চাইলে রাতে এখানে থেকে সকালে সেন্টসমাটিন গিয়ে বিকেলে ফিরে আসতে পারেন।

লেখা: জাহাঙ্গীর আলম শোভন

Published : ডিসেম্বর ৩০, ২০১৬ | 2389 Views

  • img1

  • Helpline

    +880 1709962798