চলো শ্যাম গোলাপ গ্রাম

Published : ডিসেম্বর ২৯, ২০১৬ | 2858 Views

চলো শ্যাম গোলাপ গ্রাম

একদিনের সফরে চলুন সাদুল্যাপুর গোলাপগ্রাম ও বিরুলিয়া জমিদার বাড়ী।

গ্রামের নাম সাদুল্যাপুর। আজ সে নাম মুছে গোলাপগ্রাম নাম হয়েছে সে কেবল গোলাপের কারণেই। তাইতো লোকে বলে গোলাপকে যে নামে ডাকো সে গন্ধ সৌরভ বিলাবেই। শুধু সৌরভ নয় সৌন্দর্য দিয়েই গোলাপ একটা গ্রামের নাম পাল্টে দিলো। নিজের চোখেই দেখে আসুন এত যেন গ্রাম নয় আস্ত একটা গোলাপ বাগান। নগরের ইট কাঠ পাথরের ঝনঝন যান্ত্রিক জীবন থেকে  ছুটি নিয়ে আপনি মাত্র একটি দিনের জন্য যেতে পারেন গোলাপ গ্রামে। গোলাপের নয়নাভিরাম দৃশ্য ও মনমুগ্ধকর সুবাস গ্রাস করবে আপনাকে।  গ্রামের বুক চিরে চলে গেছে আঁকাবাঁকা সরু পথ। পথের দুপাশে ঘাষ আর গোলাপের  সৌরভ ছড়িয়ে আছে  নানা রকমের গোলাপ। সাদা, গোলাপী আর নানা বিরল জাতের গোলাপ।। নানা রঙের গোলাপ ফুলের সঙ্গে আছে জারভারা, গ্লাডিওলাস।চারদিকে গোলাপের বিস্তার আর সুগন্ধ । চোখ জুড়ানো দৃশ্য নিয়ে সেজে আছে পুরো গ্রাম যেদিকে চোখ যায় গোলাপের ক্ষেত।

সকালের শিশির ভেজা গোলাপে নরম আলোর ঝিকিমিকি। গ্রামের বুক চিরে চলে গেছে আঁকাবাঁকা সরু পথ। তার দু’পাশে বিস্তীর্ণ গোলাপের বাগান। ফুটে আছে টকটকে লাল গোলাপ। গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে গোলাপের সৌরভ। এখানের যেকোনো বাগান থেকে কথা বলে আপনি গোলাপ কিনে নিতে পারেন।

গ্রামের সবখানে শুধু ফুলের বাগান। অন্য কিছু চোখে পড়েনা। মন ভাল করার জন্য এর চেয়ে খুব ভাল জায়গা । সারাদিন ফুলের রাজ্যে কাটিয়ে দিলেন। চাইলে অনেকগুলো ফুল কিনে আনতে পারবেন, খুব সস্তা দাম। ৫০ টা গোলাপ এর দাম মাত্র ৮০-১০০ টাকা।

বিরুলিয়া গ্রামে পাবেন বিরুলিয়া জমিদার বাড়ীগুলো। পুরনো বাড়ীগুলো তার মাটি সোঁদা গন্ধ আপনাকে ইতিহাসের খেরোখাতা খুলে দিবে একেবারে চোখের সামনে।

কিভাবে যাবেন?
যাত্রাবাড়ী, গুলিস্তান, ফার্মগেট হয়ে মিরপুর বেড়িবাঁধে যাওয়ার টাউন সার্ভিসের বাস আছে।  অনায়াসে যাওয়া যায়। শহরের ট্রাফিক জ্যাম এড়ানোর জন্য যত সকাল সকাল বের হবেন ততই ভালো।
এ ছাড়া মিরপুর এক নম্বর সেকশন অথবা মিরপুর-১০ কিংবা গাবতলী থেকে রিকশায় বা সিএনজিচালিত অটোরিকশা অথবা ট্যাক্সিক্যাবেও সহজেই যাওয়া যায় দিয়াবাড়ি বটতলা ঘাট।  নদীর ঘাটে পাবেন নৌকা। এটা কিন্তু উত্তরার দিয়াবাড়ি নাহ।
মিরপুর দিয়াবাড়ি বটতলা ঘাট থেকে সাহদুল্লাহপুর ঘাটের উদ্দেশ্যে ৩০ মিনিট পরপর ইঞ্জিনচালিত নৌকা ছাড়ে। ইঞ্জিনের ঘট ঘট শব্দ আপনাকে একটু জ্বালাবে। কিন্তু গোলাপগ্রামে পৌঁছে আপনার জন্য রয়েছে অনাবিল প্রশান্তি।
সাহদুল্লাহপুর যেতে যেতে ৪৫ মিনিট- ১ ঘণ্টা লাগবে। সেখানে একেক জনের জন্য ২০/৩০ টাকা ভাড়া পড়বে।
লোকজন রাখবেন ২০ থেকে ২৫ জন। কম হলে মজা কমে যাবে। এর চেয়ে বেশী হলে ঝামেলা বাড়বে। খরচ নির্ভর করছে আপনি শহরের কোন এলাকা থেকে আসছেন সেটার উপর। দিয়াবাড়ি থেকে যদি বলি ভাড়া আপডাউন ১০০ টাকা। আর খাবার। ২বার নাস্তা করলে ৫০ টাকা করে একশো টাকা। দুপুরের খাবার দুশো টাকার মধ্যে। তবে ট্যুর অপারেটর কোম্পানীগুলো ৮/৯শ টাকা নেই। এতে সুবিধা হলো তারা সমস্ত কিছু ম্যানেজ করে। ট্যুরে গিয়ে অন্য হেসেল নিতে নিশ্চই আপনার ভালো লাগবেনা।

ভ্রমণ বৃত্তান্ত

ঢাকার যেকোনো স্থান থেকে প্রথমে যাবে মিরপুর দিয়াবাড়ি ঘাট।  মিরপুর ১ নাম্বার থেকে দিয়াবাড়ি যেতে পারেন। মিরপুর ১ থেকে দিয়াবাড়ি বাসে যেতে পারেন। রিকশাতেও চলে আসা যায় এখানে।

দিয়াবাড়ি থেকে ২০ মিনিট পরপর ট্রলার ছাড়ে। ১ ঘন্টায় যাবেন সাদুল্যাপুর। ট্রলার থেকে নামলেই ছোট বাজার। এখানে চা খেয়ে গ্রামের পথ ধরলেই দেখা মিলবে গোলাপ জমির। গ্রামের ভেতরে ঢুকলেই অনেক গোলাপ বাগানের দেখা পাওয়া যাবে। এখানের মানুষের কাছে জিজ্ঞেস করে নিতে পারেন কোন দিকে বাগান বেশি।

দুপুর হয়ে গেলে অটো রিকশায় উঠে জন প্রতি ১০ টাকা দিয়ে আকরান বাজারে আসবেন । এনার্জি থাকলে হেঁটেও আসতে পারেন।  আকরান বাজারে এসে দুপুরের খাবার খাবেন। খাবার শেষে একটু রেস্ট নিলেন সেখানে বসেই। তারপর  অটো রিকশায় করে বিরুলিয়া ব্রিজের কাছে চলে আসুন। চাইলে হেঁটে আসতে পারেন। অটোতে ভাড়া পড়বে ১০টাকা।

বিরুলিয়া ব্রিজ পার হয়ে গ্রামে প্রবেশ করুন। বিরুলিয়া গ্রামের মূল সড়ক ধরে  দেখা পাবেন পুরনো জমিদার বাড়ি চোখে পড়বে। নবাব ও জমিদারদের ইতিহাস দেখবেন নিজের চোখে।  হাঁটতে হাঁটতে আমরা বিরুলিয়ার প্রাচীন বটগাছের সামনে এসে একটা বিরতি দিতে পারেন। চাইলে এখান থেকে নৌকায়  ৫  টাকা ভাড়া দিয়ে ওপারে চলে যেতে পারেন। ওপারে গিয়ে হেঁটে মূল সড়কে গিয়ে বাস ধরবেন। বাসে  জন প্রতি ১০ টাকা ভাড়া দিয়ে দিয়াবাড়ি চলে আসলাম। তারপর ফিরে যান আপন আলয়ে। আর সঙ্গে নিয়ে যান গোলাপের সৌরভ ও গৌরব।
নোট: ১. যেকোনো ভ্রমনে যাওয়ার আগে সাধারণ প্রস্তুতির মতো প্রস্তুতি নিন। শুধু রাতে থাকার প্রস্তুতি না নিলে চলবে।

২. সকাল আটটার মধ্যে বের হবেন। যেহেতু ডে ট্রিপ সময় নস্ট করার কোনো মানে নেই।

৩. সন্ধ্যা ছয়টার পর নৌকা কিন্ত ৬ টার পর চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তাই ৫টার মধ্যে ফিরে আসুন। ওখানে থাকার বিশেষ কোনো ব্যবস্থা নেই।
৪. বাইরের খাবার এড়িয়ে চলতে চাইলে ঢাকা থেকে খাবার নিয়ে যেতে পারেন। অবশ্য ঐখানে মুটামুটি মানের বেশ কিছু খাবার হোটেল আছে আকরান বাজারে।
৫. গোলাপ বেচাকেনার বাজারে ঢুকতেই ডান দিকে এক চাচা পেয়াজি বিক্রয় করে। অভ্যাস থাকলে খেয়ে আসতে পারেন।

লেখা: জাহাঙ্গীর আলম শোভন, ছবি ও তথ্য সংগ্রহ

 

 

 

Published : ডিসেম্বর ২৯, ২০১৬ | 2858 Views

  • img1

  • Helpline

    +880 1709962798