• প্রচ্ছদ
  • /
  • Uncategorized
  • /
  • হিমেল পরশ নিতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বনভূমি সুন্দরবনে

হিমেল পরশ নিতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বনভূমি সুন্দরবনে

Published : ডিসেম্বর ১৪, ২০১৬ | 2914 Views

সুন্দরবন ভ্রমণ

হিমেল পরশ নিতে  বিশ্বের  সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বনভূমি সুন্দরবনে
সমুদ্র উপকূলবর্তী নোনা পরিবেশের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বনভূমি হিসেবে সুন্দরবন বিশ্বে সর্ববৃহৎ। অববাহিকার সমুদ্রমূখী সীমানা এই বনভূমি গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রের মোহনায় অবস্থিত এবং বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে বিস্তৃত । এই শীতে সুন্দরবন ঘুরে আসুন আমাদের সাথে বিলাসবহুল শীপ The Sail (Fully AirConditioned) এ। উল্লেখযোগ্য গন্তব্য : করমজল, হিরন পয়েন্ট (নীল কমল), দুবলার চর, কচিখালি (টাইগার পয়েন্ট), কটকা, মংলা, হাড়বাড়িয়া, পাখির খাল, জামতলা । সুন্দরবন ১৯৯৭ সালে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি পায়। এর বাংলাদেশ ও ভারতীয় অংশ একই নিরবচ্ছিন্ন ভূমিরূপের অংশ হলেও ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের সূচিতে ভিন্ন ভিন্ন নামে সূচিবদ্ধ হয়েছে যথাক্রমে সুন্দরবন ও সুন্দরবন জাতীয় পার্ক নামে। সুন্দরবনকে জালের মত জড়িয়ে রয়েছে সামুদ্রিক স্রোতধারা, কাদা চর এবং ম্যানগ্রোভ বনভূমির লবণাক্ততাসহ ছোট ছোট দ্বীপ।  স্বনামে বিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার ছাড়াও নানান ধরণের পাখি, চিত্রা হরিণ, কুমির ও সাপসহ অসংখ্য প্রজাতির প্রাণীর আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত।
জেনে রাখা ভালো

সুন্দরবনে কখনো একা ভ্রমণ করার প্লান করবেন না। দলবলি নিয়ে যাবেন। সবচেয়ে ভালো হয় কোনো ট্যুর অপারেটর কোম্পানীর সাহায্য ছাড়া সুন্দরবনে ভ্রমনে না যাওয়া। প্রথমত সমুদ্র উপকুল বলে আবহাওয়ার বিষয়টি মাথায় রাখবেন। দ্বিতীয়ত ওখানে যাওয়ার জন্য সরকারী কোস্টগার্ড এবং বনবিভাগের অনুমতি নিতে হয়। যা একা আপনার পক্ষে সম্ভব নাও হতে পারে। তখন ট্যুর কোম্পানী ঝামেলা সামলাবে। আর সবচে বড়ো কথা এখানে শিপ ভাড়া করে যেতে হয় যেটা একার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই অবশ্যই কোনো থার্ড পাটির সাহায্য নেবেন। আবার জলদস্যূদের ব্যাপার রয়েছে। আপনি নিশ্চয় বনের মধ্যে কোনো বিপদে পড়চে চাইবেন না। আর একটা কথা সুন্দরবন ভ্রমনে গেলে জাহাজে রাতযাপন করতে হবে বিষয়টি মাথায় রাখবেন।
কেমন হতে পারে আপনার  তিন দিনের সুন্দরবন ভ্রমণ
প্রথমদিন
আগেই পৌছবেন খুলনা শহরে। তবে সকাল ৬টা ৭টার মধ্যে হলে ভালো। খুলনা রয়েল মোড় থেকে অটোরিক্সাতে জেলখানা ঘাটে গিয়ে ট্রলার করে Vessel/Ship এ উঠবেন, সময় লাগবে ৭/৮ মিনিট। শিপে রুম বুঝে নিয়ে ফ্রেশ হবেন। সকালের নাস্তা করে রুপসা কল কল জলে ভেসে চলবেন।  মংলা পোর্টের চাদপাইতে বন বিভাগের অনুমোদনপত্র ও গার্ড নিয়ে হাড়বাড়িয়ায় যখন পৌছবেন তখন গভীর জলে চলে এসেছেন আর তাই চট্টগ্রাম বন্দরের নোঙর এলাকার মতো অপেক্ষমান জাহাজ দেখতে । এরপর বনের ভিতর দিয়ে ছোট ছোট খাল পার হয়ে কটকার উদ্দেশ্যে সবুজের ভেতর দিয়ে পথ পাড়ি দেয়া। পাখির ডাক ও পানির কলকল ছাড়া কিছুই শুনতে পাবেন না। লোকালয় থেকে দূরে চলে এসেছেন। কটকা পৌঁছতে বেজে যাবে রাত ১ টা। সেখানে পৌছানো এবং Dinner এ Bar-B-Q এর আয়োজন করা যেতে পারে।

দ্বিতীয় দিন
ভোরে যাত্রা শুরু করতে হবে। ট্রলারে করে বনের খাল পাড়ি দিয়ে কচিখালীতে যেতে পারবেন। এখানে ট্রলার থামিয়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং বিভিন্ন প্রকার প্রানী যেমন মাছরাঙা, বানর, বনমোরগ, হরিণ, বন্য শূকর এবং বিভিন্ন প্রজাতির পাখির কলকাকলী উপভোগ করবেন। এরপর ফিরে আসতে হবে শিপে তারপর নাস্তাশেষে আবার ট্রলারে চড়ে জামতলা সী বীচে নেমে ঘু্রাঘুরি করতে পারবেন। বনের পাশের সৈকতে আপনাকে ভিন্নরকম আনন্দ দেবে। ওখান থেকে হেঁটে টাইগার টিলাতে যেতে হবে। টাইগার টিলাতে প্রচুর হরিণ দেখতে পাবেন এবং কদাচিত বাঘও দেখা যায়। তারপর কটকা বীচে ফিরে এসে ঘুরাঘুরি করে বিকেলে আবার শিপে ফিরে আসবেন। শিপ চলা শুরু করবে রাত ৩ টারমধ্যে জাহাজ করমজল এ পৌঁছাবে।

তৃতীয় দিন
সকালে ঢাংমারি ক্যানেল ক্রুজিং ও সকালের নাস্তা খেয়ে করমজল স্পট দেখতে যাবেন। এখানে প্রচুর বানর দেখতে পাওয়া যাবে। এছাড়া করমজলে যে কুমিরের প্রজননকেন্দ্র হচ্ছে সেখানে কুমির আছে, কুমিরের ছোট ছোট বাচ্চা দেখতে পারবেন চৌবাচ্চায়। হরিণও আসে মাঝে মধ্যে। তবে বানরদেরকে খেপাতে যাবেন না বিপদ হতে পারে। দুপুরের দিকে খুলনার উদ্দেশ্যে রওনা। আনুমানিক রাত ৭/৮ টা নাগাদ খুলনা আসা ও রাতের ডিনার শেষে ভ্রমনের সমাপ্তি।

ঢাকা-খুলনা-ঢাকা বাস টিকেট 1200/- (নন-এসি), 2500/- (এসি) থেকে শুরু। যেকোনো টিকেট এবং অনুমোদন আমরা করে দেবো।

তিনদিনের ট্যুর এর জন্য কোম্পানীগুলো ৯ থেকে ১১ হাজার, ২ দিনের জন্য ৬ থেকে ৮ হাজার, চার দিনের জন্য ১০ থেকে ১৩ হাজার টাকা অফার করে থাকে।

Published : ডিসেম্বর ১৪, ২০১৬ | 2914 Views

  • img1

  • Helpline

    +880 1709962798